বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড়, পিছন থেকে ধাক্কা, তার পরই হুড়োহুড়ি! বহু আহতের অবস্থা সংকটজনক, মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ অক্টোবরঃ পুজোর আনন্দ, আলোর ঝলকানি আর উৎসবের উচ্ছ্বাসের মাঝেই নেমে এল ভয়াবহ বিপর্যয়। বৃষ্টির মধ্যে প্রতিমা দর্শনের জন্য উপচে পড়া ভিড়, মণ্ডপের ভিতরে-বাইরে মানুষের ঠেলাঠেলি, আর সেই পরিস্থিতিতে আচমকা হুড়োহুড়ি, সব মিলিয়ে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ঘটে গেল মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা। প্রাথমিকভাবে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে। আহত হয়েছেন আরও বহু দর্শনার্থী। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে খবর। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উৎসবের আবহে এমন মর্মান্তিক ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই শহরজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যে মণ্ডপে কয়েক মুহূর্ত আগেও ছিল প্রতিমা দর্শনের উন্মাদনা, সেখানেই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রাণ বাঁচাতে শুরু হয় মরিয়া চেষ্টা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে এসেছে, বৃষ্টির কারণে মণ্ডপের বাইরে অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড় জমেছিল। এর মধ্যেই পিছন থেকে প্রবল ধাক্কা আসায় সামনের দিকে থাকা দর্শনার্থীরা পড়ে যান। তাঁদের ওপর একের পর এক মানুষ পড়তে থাকেন। ভিড়ের চাপে অনেকে উঠে দাঁড়ানোর সুযোগও পাননি।
বৃষ্টির মধ্যে ভিড়, মুহূর্তেই পরিস্থিতি ভয়াবহ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পুজোর মণ্ডপে তখন দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। বাইরে প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় অনেকেই বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপের আশপাশে আশ্রয় নিচ্ছিলেন। ফলে চলাচলের জায়গায় ভিড়ের চাপ আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে পিছন দিক থেকে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে সামনে থাকা মানুষজন ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তার পরেই ঘটে যায় বিপর্যয়।
প্রথমে কয়েকজন পড়ে গেলেও পরপর মানুষ তাঁদের ওপর পড়তে থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সামনে পড়ে থাকা দর্শনার্থীরা আর উঠে দাঁড়াতে পারছিলেন না। পিছনে থাকা লোকজনও ভিড়ের চাপে এগিয়ে আসছিলেন। ফলে যাঁরা মাটিতে পড়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেককে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মণ্ডপে। কেউ নিজের পরিবারের সদস্যকে খুঁজতে ব্যস্ত, কেউ পরিচিতদের টেনে তোলার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ প্রাণ বাঁচাতে বেরোনোর পথ খুঁজছেন। প্রবল ভিড়ের মধ্যে শ্বাস নেওয়ার মতো জায়গা না পাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। কয়েকজন দর্শনার্থী অচেতন হয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য।
বৃষ্টি থেকে বাঁচতে জমেছিল ভিড়, পিছন থেকে ধাক্কায় মুহূর্তে বিপর্যয়, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে উঠে এল মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরার বিভীষিকা
ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি তিন বান্ধবীকে নিয়ে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ভিড়ের চাপে আচমকাই পরিস্থিতি বদলে যায়। তাঁর কথায়, “আমার সঙ্গে আমার তিন বান্ধবী ছিল। আমরা বেরোচ্ছিলাম। পুরো প্যান্ডেল লোকে ভর্তি ছিল। বাইরে খুব বৃষ্টি হচ্ছিল বলে কিছু লোক দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় পিছন দিক থেকে খুব ধাক্কা আসে। সামনে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা পড়ে যান। তার পর একের পর এক একজনের পিঠে আর একজন পড়তে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, সামনে পড়ে থাকা মানুষজন কিছুতেই উঠে দাঁড়াতে পারছিলেন না। তাঁদের টেনে বের করার চেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছিল, কারণ পিছনের ভিড়ের চাপ ক্রমাগত বাড়ছিল। তিনি আরও জানান, তাঁর তিন বান্ধবীও ভিড়ের নিচে চাপা পড়ে যান। নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। কত লোক অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। আমি তাঁদের টেনে বের করতে পারছিলাম না। আমার হাত ধরে টানছিল সবাই।

পরে অন্য দিক দিয়ে প্যান্ডেল ভেঙে স্থানীয় লোকজন তাঁদের বের করেন, এমনই দাবি ওই প্রত্যক্ষদর্শীর। এই বয়ান থেকে স্পষ্ট, ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে চালাতে হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীর তিন বান্ধবীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের পরিণতি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।
হাসপাতালে একের পর এক আহত, ১৭ জনের মৃত্যুর খবর
ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রের বরাতে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নিয়ে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। একই সঙ্গে একাধিক আহতের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে বলে খবর। তবে আহত ও মৃতের মোট সংখ্যা সম্পর্কে বিভিন্ন পর্যায়ে যে তথ্য সামনে আসছে, তা চূড়ান্ত সরকারি হিসাব হিসেবে গণ্য করা যাবে না। উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা চলতে থাকায় পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।
প্রতিটি মুহূর্তে নতুন করে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে চিকিৎসকদের সামনে একদিকে যেমন গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে তেমনই বিপুল সংখ্যক রোগীকে সামলানোর চাপ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক, তাঁদের বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মেডিক্যাল সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। আহতদের প্রকৃত সংখ্যা, তাঁদের পরিচয় এবং মৃত্যুর চূড়ান্ত হিসাব জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা রয়েছে।
জরুরি পরিষেবা সচল, চিকিৎসকদের তৎপরতা
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে তৎপরতা বাড়ে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চালু ছিল। তবে ছুটির আবহে সিনিয়র চিকিৎসকদের একাংশ হাসপাতালে উপস্থিত না থাকায় তাঁদের দ্রুত আসার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে হাসপাতাল সূত্রের দাবি।
বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পৌঁছনোর জন্য বলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁদের অধিকাংশই হাসপাতালে পৌঁছেছেন এবং বাকিরা পথে ছিলেন বলে প্রাথমিক খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা চলে। ঘটনার খবর পেয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও হাসপাতালে পৌঁছন বলে জানা গেছে। আহতদের চিকিৎসা, হাসপাতালের প্রস্তুতি এবং জরুরি পরিষেবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার বিষয়টি এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে কতজন আহতকে কোন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কতজনের অবস্থা স্থিতিশীল এবং কতজনের অবস্থা এখনও সংকটজনক, এই সমস্ত তথ্যের পূর্ণাঙ্গ ও যাচাই করা বিবরণ প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করে তাঁদের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছে দেওয়াও এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
কীভাবে ঘটল এই বিপর্যয়? উঠছে একাধিক প্রশ্ন
চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে ঠিক কী কারণে এই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটল, তা নির্ধারণ করতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে বৃষ্টির মধ্যে জমে থাকা ভিড়, পিছন থেকে প্রবল ধাক্কা এবং সামনের দিকে মানুষের পড়ে যাওয়ার কথা উঠে এসেছে। কিন্তু এই ঘটনায় ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কেমন ছিল, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ পর্যাপ্ত ছিল কি না, জরুরি নির্গমনের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল এবং বিপদের মুহূর্তে দর্শনার্থীদের পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক বা নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
বড় পুজো মণ্ডপে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম অস্বাভাবিক নয়। বিশেষত বৃষ্টি হলে মানুষ একসঙ্গে আশ্রয় নিতে চাইতে পারেন। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে ভিড়ের চাপ নিয়ন্ত্রণ, একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ খোলা রাখা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনায় সেই ব্যবস্থাগুলি যথাযথভাবে কার্যকর ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। তবে তদন্তের আগে কোনও ব্যক্তি বা পুজো কমিটিকে সরাসরি দায়ী করা সমীচীন হবে না। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার নথি এবং প্রশাসনের ভূমিকা যাচাই করেই প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব।
উৎসবের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ
দুর্গাপুজো কলকাতার অন্যতম বৃহত্তম উৎসব। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনে যান। বড় মণ্ডপগুলিতে ভিড় সামলানোর জন্য পুলিশ, প্রশাসন, পুজো কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত বৃষ্টির মতো পরিস্থিতিতে ভিড়ের গতিপথ বদলে যেতে পারে। কোনও একটি জায়গায় মানুষ আটকে গেলে বা পিছন থেকে চাপ বাড়লে বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়।
চোরবাগানের এই মর্মান্তিক ঘটনা সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ভিড়ের চাপ বাড়তে শুরু করলে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল কি না, মণ্ডপের বাইরে অপেক্ষমাণ মানুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা ছিল কি না, জরুরি অবস্থায় দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার বিকল্প পথ রাখা হয়েছিল কি না, এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বড় পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড়ের ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ, প্রবেশ ও নির্গমনপথ পৃথক রাখা, বৃষ্টির সময় বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং দ্রুত উদ্ধারকাজের পরিকল্পনা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। উৎসবের আনন্দ যেন কোনওভাবেই মানুষের জীবনের ঝুঁকিতে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রশাসন ও আয়োজকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
শোক, উদ্বেগ ও জবাবের অপেক্ষা
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপের এই ঘটনা উৎসবের আনন্দের মধ্যে এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। যাঁরা প্রিয়জনের সঙ্গে প্রতিমা দর্শনে এসেছিলেন, তাঁদের অনেকেই হঠাৎ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, যা কল্পনাতীত। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের পরিবার উদ্বেগের মধ্যে অপেক্ষা করছেন। যাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর, তাঁদের পরিবারের কাছে এই ক্ষতি অপূরণীয়।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করা, মৃতদের পরিচয় নির্ধারণ, তাঁদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন। পাশাপাশি, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা দরকার।
প্রাথমিক খবরে ১৭ জনের মৃত্যুর কথা সামনে এলেও চূড়ান্ত সরকারি হিসাব প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মৃত ও আহতের সংখ্যা সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল। তাই প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আপডেট প্রকাশ করা উচিত। পুজোর আলোয় আলোকিত কলকাতায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা এক কঠিন প্রশ্ন রেখে গেল, উৎসবের বিপুল আয়োজনের পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কি যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল? তদন্তের ফলই সেই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর দিতে পারবে।




