বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ বিপর্যয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথ। নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনে ক্ষতিগ্রস্ত ২ নম্বর রেললাইন আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ১ নম্বর লাইনও পুনরায় সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে একটিমাত্র লাইন দিয়ে সীমিত পরিষেবা চালানোর পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে নিউ হারাঙ্গাজাওয়ে জোরকদমে চলছে মেরামতি ও পুনর্গঠনের কাজ। প্রায় ৫০০ কর্মী দিন-রাত কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে ২২টি পিসি এক্সক্যাভেটর, ১২টি জেসিবি এবং ১৮টি ট্রাক্টর কাজে নামানো হয়েছে।
এছাড়াও নিউম্যাটিক ড্রিল, হাইড্রলিক পাইলিং রিগ-সহ বিভিন্ন ভারী ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মাটি সরানো, রেলপথের ভিত্তি পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করা এবং জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা তৈরির কাজ একসঙ্গে চলছে। রেলপথের পরিকাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে স্থিতিশীল করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই থেকে নিউ হারাঙ্গাজাও ইয়ার্ডে রেলপথের ভিত্তি বসে যাওয়া এবং পাশের দিকে সরে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতির অবনতি রোধে যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বর্তমানে শুধুমাত্র ৩ নম্বর লাইন দিয়ে ট্রেন চালানো হচ্ছে।
রেলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এলাকার প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের গতিপথ এবং স্থানীয় নিকাশি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ফলে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ের উপরিভাগ থেকে বিপুল পরিমাণ জল একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এসে জমা হওয়ায় মাটির নিচে অতিরিক্ত জলসঞ্চয় তৈরি হয়। এর জেরেই রেলপথের ভিত্তির স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে শুরু করে।
সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জল নিষ্কাশন, ডিওয়াটারিং এবং মাটির ভিত আরও শক্ত করার কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রেলের আশা, ২ নম্বর লাইন চালু হলে এই অংশ দিয়ে আগের তুলনায় আরও বেশি ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা ফিরিয়ে আনতে ১ নম্বর লাইনও চালু করা জরুরি। সেটি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ চালুর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
লামডিং–বদরপুর পাহাড়ি রেলপথে বারবার পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। তাই এবার শুধু ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন পুনরুদ্ধার নয়, ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যা যাতে পুনরায় না ঘটে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই গোটা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কে কে শর্মা।






