বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ একদিকে পাহাড় কেটে দ্রুত এগিয়ে চলেছে নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ, অন্যদিকে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে বারবার বাধার মুখে পড়ছে সেই কাজ। উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প শিলচর–সৌরাষ্ট্র ইস্ট–ওয়েস্ট করিডরের জাটিঙ্গা–হারাঙ্গাজাও অংশ নিয়ে এমন টানাপোড়েনে ডিমা হাসাও জেলায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাটিঙ্গা থেকে হারাঙ্গাজাও পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ বর্তমানে প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে ডিমা হাসাও ও বরাক উপত্যকার সঙ্গে ত্রিপুরা, মণিপুর ও মিজোরামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, পর্যটন ও কৃষিপণ্য পরিবহণেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তবে প্রকল্পের শেষ পর্যায়েই নতুন করে জটিলতা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ, হারাঙ্গাজাওয়ের দলইচুঙ্গা গ্রামের একাংশ বাসিন্দা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দাবিকে সামনে রেখে সড়ক নির্মাণের কাজে বাধা দিচ্ছেন। কখনও নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া, আবার কখনও সড়ক অবরোধের কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট গ্রামবাসীদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দাবির পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক প্রকল্পটি প্রায় শেষের দিকে, তখন ক্ষতিপূরণকে কেন্দ্র করে বারবার কাজ বন্ধ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, কারও ন্যায্য দাবি থাকলে প্রশাসনের উচিত আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত তার সমাধান করা। কিন্তু সেই দাবির জেরে বৃহত্তর জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পের কাজ থমকে যাওয়া কোনওভাবেই কাম্য নয়।
ডিমা হাসাওয়ের মানুষের কাছে এই সড়ক শুধুমাত্র যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা জেলার অর্থনীতি, পর্যটন, কৃষি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সড়ক নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত বৃহত্তর বাজারে পৌঁছবে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগও আরও সহজ হবে।
এই পরিস্থিতিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আটকে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যবাহী সদস্য দেবোলাল গার্লোসা। তাঁর বক্তব্য, ডিমা হাসাও বর্তমানে পর্যটন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত সড়ক যোগাযোগ সেই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে। দেবোলাল বলেন, সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়ে সড়ক অবরোধ করা মানে উন্নয়নের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা। কোনও অবস্থাতেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁর মতে, ক্ষতিপূরণ নিয়ে কারও ন্যায্য দাবি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করা সম্ভব। রাস্তা অবরোধ করে বা নির্মাণকাজ বন্ধ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তিনি বলেন, একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই দাবি আদায় সম্ভব। তাই একটি জাতীয় প্রকল্পের কাজে এভাবে বাধা না দিয়ে জেলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করা জরুরি।
এখন মূল প্রশ্ন, প্রকল্পের কাজ যখন শেষ পর্যায়ে, তখন ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত মেটানো সম্ভব হবে কি না। বিরোধের নিষ্পত্তি দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব পড়তে পারে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমায়। শুধু ডিমা হাসাও নয়, বরাক উপত্যকা এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে এখন সকলের নজর ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দাবির দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জাটিঙ্গা–হারাঙ্গাজাও সড়কের বাকি কাজ নির্বিঘ্নে শেষ করার দিকে। পাহাড়ি এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে বহু প্রতীক্ষিত ইস্ট–ওয়েস্ট করিডরের কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করা হবে।






