কাছাড় জেলা কেন্দ্রীয় জুলুসে মোহাম্মাদী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহাসিক ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

এদিন দুপুরের পর থেকেই কাছাড় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তথা সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ এসে জড়ো হতে শুরু করেন। কনকপুর ঈদগাহ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রাটি যখন শুরু হয়, তখন চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে নবীপ্রেমের ধ্বনিতে।

কনকপুর ঈদগাহ থেকে বেরিয়ে সুবিশাল এই জুলুসটি পেশকার জাঙ্গাল, ব্যস্ততম সোনাই রোড এবং সোনাবাড়িঘাট হয়ে নির্দিষ্ট পথ পরিক্রমা করে গন্তব্যস্থল বোয়ালজুড়ি সাহেব বাড়িতে গিয়ে সম্পন্ন হয়। সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর এই শোভাযাত্রার জাঁকজমক দেখতে রাস্তার দুই ধারে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। মিলাদের সুর, দরুদ আর তাকবিরের ধ্বনিতে শিলচরের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

শোভাযাত্রা শেষে বোয়ালজুড়ি সাহেব বাড়িতে এক বিশেষ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন, তাঁর কালজয়ী আদর্শ এবং মানবতার কল্যাণে তাঁর অতুলনীয় অবদানের ওপর গভীর আলোচনা করেন আমন্ত্রিত বিশিষ্ট বক্তারা। বক্তারা বলেন, বর্তমান অশান্ত বিশ্বে বিশ্বনবীর শিক্ষা ও জীবনাদর্শ অনুসরণ করাই মুক্তির একমাত্র পথ।

জুলুসের এই পবিত্র মঞ্চ থেকে সুমধুর কণ্ঠে পরিবেশিত হয় নাতে রাসুল ও মিলাদ। পরিশেষে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ, পারস্পরিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং বিশ্বে স্থায়ী শান্তির কামনায় এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়, যাতে চোখের জলে আমিন আমিন ধ্বনি তোলেন উপস্থিত হাজার হাজার মুসুল্লি।

কাছাড় জেলা কেন্দ্রীয় জুলুসে মোহাম্মাদী উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার অটুট বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পবিত্র লক্ষ্যেই প্রতিবছর এই ঐতিহাসিক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এ বছরও জনগণের অভূতপূর্ব সাড়া ও অংশগ্রহণ পুরো অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পাশাপাশি, এত বড় একটি গণজমায়েত এবং বিশাল শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে যাঁরা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন,

সেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন উদযাপন কমিটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। নবীপ্রেমের এই অনুপম উপাসনা শিলচরের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ঐতিহ্যকে আরও এক ধাপ মজবুত করল বলেই মত প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

Related Posts

প্রাচীন পুঁথি সংরক্ষণে গুরুত্ব মুখ্যমন্ত্রীর, শিবসাগরে বন্যার সমীক্ষা ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন, ক্ষতিগ্রস্ত ৪২,৫০০টি বাড়ি চিহ্নিত

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৭ আগষ্টঃ জুলাইর ভয়াবহ বন্যার পর শিবসাগর জেলায় শুরু হওয়া দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন সমীক্ষার প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চলা এই সমীক্ষায়…

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও উজান অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শ্রীভূমি জেলা কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে সিপিআই(এম)-এর তীব্র বিক্ষোভ

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৭ আগষ্টঃ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, খাদ্যদ্রব্যের সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং উজান আসামের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, রেশনে বিনামূল্যে ছয় মাস খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ, এনরেগায় দুইশো…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *