বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৬ আগষ্টঃ কিংবদন্তি হকি জাদুকর ও জাতীয় আইকন মেজর ধ্যান চাঁদের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতি বছর ২৯ আগস্ট সারা দেশজুড়ে জাতীয় ক্রীড়া দিবস পালিত হয়ে থাকে। তবে এ বছর এই উদযাপনে যুক্ত হচ্ছে এক অভূতপূর্ব মাত্রা। আগামী ২৭ আগস্ট যুব অংশগ্রহণ, ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং সার্বিক জাতি গঠনের এক অনন্য বার্তা নিয়ে দেশব্যাপী অভূতপূর্ব জাঁকজমকপূর্ণ আবহে উদযাপিত হতে যাচ্ছে জাতীয় ক্রীড়া দিবস। এই মহান চেতনা ও ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মোদী সরকারের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ‘বিকশিত ভারত যুব সংযোগ’ (ক্রীড়া সংস্করণ) ভারতজুড়ে এক নয়া জোয়ার তৈরি করেছে।
এই জাতীয় পর্যায়ের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সারা ভারতের প্রতিটি জেলা থেকে মাত্র ২টি করে সেরা কলেজকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত জেলা শ্রীভূমি (করিমগঞ্জ)-র শিক্ষা মানচিত্রে গৌরবময় অধ্যায় সংযোজন করে এই কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী করিমগঞ্জ কলেজ এবং পাথারকান্দি কলেজ।
সোমবার পাথারকান্দি কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক অর্জনের বিশদ তথ্য তুলে ধরেন কলেজের অধ্যক্ষ ড. মঞ্জুরুল হক। অত্যন্ত উৎসাহের সাথে তিনি জানান যে, এই মেগা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের উদীয়মান তরুণ ক্রীড়াবিদ ও আগামী দিনের ভবিষ্যৎকে এক ছাদের নিচে, এক অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা।
অধ্যক্ষ ড. হক বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে এলাকার তরুণ-তরুণী ও ছাত্রছাত্রীরা নামী ক্রীড়াবিদ, সংসদ সদস্য, রাজ্য মন্ত্রী, স্থানীয় বিধায়ক এবং সমাজের গণ্যমান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সরাসরি কথা বলার ও মতবিনিময়ের এক বিরল ও সুবর্ণ সুযোগ পাবে। সাংবাদিক সম্মেলনে আলোকপাত করা হয় গত ১২ বছরে দেশের ক্রীড়া মানচিত্রে আসা বিশাল বিপ্লবের ওপর।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বিগত এক যুগে ভারতে ক্রীড়া পরিকাঠামোর যে অভূতপূর্ব রূপান্তর ঘটেছে, বিশ্বমানের যে ‘স্পোর্টস ইকোসিস্টেম’ গড়ে উঠেছে, তা এই জাতীয় উৎসবে তুলে ধরা হবে। একই সাথে দেশের যুবসমাজ তাদের চিন্তা, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা সরাসরি পৌঁছে দিতে পারবে নীতিনির্ধারকদের কাছে।
কর্মসূচির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও বিশেষ দিকটি হলো, আগামী ২৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের ১,৬০০টি কেন্দ্র থেকে যুক্ত থাকা ৮ লক্ষেরও বেশি উদীয়মান তরুণ ও যুব অংশগ্রহণকারীকে সরাসরি ভার্চুয়ালি সম্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের পরপরই পাথারকান্দি কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা সভা। সেখানে স্থানীয় বুদ্ধিজীবী, জাতীয় ও রাজ্য স্তরের প্রখ্যাত মৎস্য ও ক্রীড়াবিদদের আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত করা হবে এবং গ্রাসরুট পর্যায়ে ক্রীড়ার উন্নয়নে তাঁদের কাছ থেকে মূল্যবান পরামর্শ ও রূপরেখা সংগ্রহ করা হবে।
ক্রীড়া ও তরুণ শক্তির এই অভূতপূর্ব মেলবন্ধনকে এক ঐতিহাসিক সাফল্য দান করতে অধ্যক্ষ ড. মঞ্জুরুল হক করিমগঞ্জ ও পাথারকান্দি অঞ্চলের সমস্ত যুবসমাজ, ক্রীড়াপ্রেমী ও সাধারণ নাগরিকদের আগামী ২৭ আগস্ট পাথারকান্দি কলেজে উপস্থিত থাকার বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থেকে নিজ নিজ মূল্যবান বক্তব্য ও মতামত ব্যক্ত করেন কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহ-অধ্যাপক ড. অমরেন্দ্রনাথ চৌধুরী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, ড. প্রদীপ দোলে (সহ-অধ্যাপক, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ),ড. নির্মলেন্দু দাস (সহ-অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ), ড. ছালিকুজ্জামান (সহ-অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ),ড. শতরূপা দে (সহ-অধ্যাপিকা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ), ড. বিমল কান্তি নাথ (সহ-অধ্যাপক, গণিত বিভাগ) সীমান্তবর্তী এই জেলার দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেন্দ্রের এত বড় একটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হতে চলায় করিমগঞ্জ ও পাথারকান্দি জুড়ে এখন ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা চোখে পড়ছে।





