মাদক কারবারের বিরুদ্ধে শিলচর পুলিশের জোড়া অপারেশন

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রথম ও সবচেয়ে বড় অভিযানটি চালানো হয় শিলচর থানার অন্তর্গত রংপুর পার্ট-১ এলাকায়। গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে যে ওই এলাকার বাসিন্দা হামিদা বেগমের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অসদুপায়ে মাদকের রমরমা কারবার চলছে। এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করে বৃহস্পতিবার বা নির্ধারিত সময়ে ওই বাড়িতে হানা দেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা।

পুলিশের তল্লাশি অভিযান শুরু হতেই বেরিয়ে আসে হাড়হিম করা তথ্য। হামিদা বেগমের ঘরের ভিতরে অত্যন্ত সুকৌশলে ও গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল নিষিদ্ধ মাদকের এক বিশাল ভাণ্ডার। ঘর তল্লাশি করে পুলিশ উদ্ধার করে প্রায় ৮ হাজার সন্দেহভাজন ইয়াবা ট্যাবলেট। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি ১৪টি আলাদা সাবান কেসে সুচারুভাবে সাজিয়ে রাখা প্রায় ৭৩৯ গ্রাম সন্দেহভাজন হেরোইনও বাজেট করা হয়।

এত বিপুল পরিমাণ মাদক একসঙ্গে উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। একা কোনো ব্যক্তির পক্ষে এই কারবার চালানো সম্ভব কি না, নাকি এর পেছনে কোনো সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য চক্র কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রংপুরের রেশ কাটতে না কাটতেই শিলচরের ওয়াটার ওয়ার্কস রোড এলাকায় ফের অর্কেস্ট্রা চালায় পুলিশ। ওই এলাকার বাসিন্দা সীমা বেগম লস্করের বাড়িতেও গোপন সূত্রে খবর ছিল মাদকের রমরমা কারবার চলার। সেই খবরের ভিত্তিতেই সীমা বেগমের বাড়িতে আচমকা তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখানকার চিত্রও খুব একটা আলাদা ছিল না।

তল্লাশিতে সীমা বেগমের ঘর থেকে একটি সাবান বাক্সে লুকানো অবস্থায় ৭.২১ গ্রাম সন্দেহভাজন হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এর পাশাপাশি ৮৮টি ছোট ছোট শিশিতে ভরা অবস্থায় আরও ২.৪৬ গ্রাম সন্দেহভাজন হেরোইন উদ্ধার করে পুলিশ। সব মিলিয়ে সীমা বেগমের ওই আস্তানা থেকে মোট ৯.৬৭ গ্রাম সন্দেহভাজন হেরোইন বাজেট করা হয়েছে।

পুলিশের এই পৃথক দুটি অভিযানে কেবল মাদকদ্রব্যই উদ্ধার হয়নি, বরং মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা সুনির্দিষ্ট পন্থারও হদিশ মিলেছে। ওয়াটার ওয়ার্কস রোডের বাড়িটি থেকে তল্লাশির সময় উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু খালি শিশি, কালো রঙের পলিথিন ব্যাগ এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম।

পুলিশের অনুমান, এই সমস্ত উপকরণগুলি মাদকদ্রব্যকে ছোট ছোট ভাগে প্যাকেটজাত করে খুচরা মূল্যে মাদকাসক্তদের কাছে বিক্রির জন্য ব্যবহার করা হতো। অর্থাৎ, শহরজুড়ে এক সুবিন্যস্ত মাদক বিক্রির নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল, যা হাত বদল হয়ে পৌঁছে যেত যুব সমাজের ধ্বংসের ঠিকানায়।

একের পর এক বাড়িতে এমন বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় গোটা শিলচর শহরজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের আবাসিক এলাকায় এভাবে গোপনে মাদকের গুদাম গড়ে ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরাও। পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই দুটি ঘটনার সঙ্গেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

দিনের পর দিন যুব সমাজকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া এই মাদক মাফিয়াদের মূলোৎপাটনে শিলচর পুলিশের এই জোড়া অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে সমাজ থেকে এই মরণ নেশার জিগির পুরোপুরি দূর করতে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক ও সমাজ সচেতনতামূলক উদ্যোগের গুরুত্বও অপরিসীম বলে মনে করছেন বুদ্ধিজীবী মহল।

Related Posts

বিজেপির বোর্ড, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট কোথায়?

১০০ ভোটারের মধ্যে বিজেপির পাশে প্রায় ৩৫ জন, বিরোধী ভোট ছড়িয়েই কি গেরুয়া বোর্ডের রাস্তা পরিষ্কার? রাজু দাস, বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ১১ অক্টোবরঃ শিলচর শহরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিজেপিকে ভোট দেননি।…

অহংকার, টিকিট-বাণিজ্য আর স্বজনপোষণের মাশুল!

নিজ গড়ে সজল আচার্যের বধ, শিলচরে কংগ্রেসের ‘রাজনৈতিক সলিল সমাধি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১০ অক্টোবরঃ কাছাড় জেলা কংগ্রেস সভাপতি সজল আচার্য এখন মুখ লুকাবেন কোথায়? নাকি আগের মতোই আবার বুক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *