মাতৃভাষার প্রশ্নে নো পলিটিক্স, জনগণনা ২০২৭-এ মাতৃভাষা নথিভুক্তিতে সতর্কতার আহ্বান

কমিটির সভাপতি তথা বিশিষ্ট আইনজীবী ধ্রুব কুমার সাহার সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত এই জরুরি সভায় অসমের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণনার নানাবিধ দিক নিয়ে দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিখিল পাল, উপদেষ্টা তথা বরিষ্ঠ আইনজীবী প্রসেনজিৎ দেব, উপদেষ্টা তৈমুর রাজা চৌধুরী, সহ-সভাপতি অধ্যাপক বিভাস দেব, রসরাজ দাস, যুগ্ম সম্পাদক আইনজীবী দেবোমিতা চক্রবর্তী, আইনজীবী তুহিনা শর্মা এবং আইনজীবী ধর্মানন্দ দেবসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সভা শেষে কমিটির প্রচার সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সভার সার্বিক সিদ্ধান্ত ও আবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, জনগণনা একটি নিছক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা মানুষের মাথা গণনার স্থান নয়। এর ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈশিষ্ট্যভিত্তিক একটি প্রামাণ্য সরকারি তথ্যভাণ্ডার। ভবিষ্যতে রাজ্যের শিক্ষা নীতি, ভাষা নীতি, প্রশাসনিক উন্নয়ন প্রকল্প এবং নীতি নির্ধারণে এই ডেটাই মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। ফলে তথ্য সংগ্রহের সময় যে তথ্য নথিভুক্ত হবে, তা কোনোভাবেই যেন বিকৃত না হয়।

সভায় ক্ষোভ ও সতর্কতা প্রকাশ করে বলা হয়, মাতৃভাষা একজন মানুষের নিজস্ব অস্তিত্ব, পরিচয়, পারিবারিক উত্তরাধিকার ও সংস্কৃতির প্রতীক। কোনো জননেতা, মন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের প্রভাবে বা চাপ সৃষ্টিতে নাগরিকেরা যেন নিজেদের আসল ভাষাগত পরিচয় গোপন না করেন বা পরিবর্তন না করেন। কোনো নেতার নির্দেশে মাতৃভাষা নির্ধারণ হতে পারে না, তা নাগরিকের নিজস্ব সত্য বক্তব্য হওয়া উচিত এই মর্মে অসমের সর্বস্তরের জনগণের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানায় কমিটি।

আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যখন গণনাকারীরা তথ্য সংগ্রহের জন্য বাড়ি বাড়ি যাবেন, তখন নাগরিকদের অত্যন্ত সজাগ ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাগরিক নিজে যে তথ্য দিচ্ছেন, গণনাকারী তা ডিজিটালি বা কাগজে সঠিকভাবে লিখছেন কি না, তা সরাসরি দেখে নিশ্চিত হতে হবে। কোনো ভুল হলে বা অমিল দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে গণনাকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সঠিক তথ্য নথিভুক্ত করার দাবি জানাতে বলা হয়েছে। জনগণনা শেষ হলে তথ্য সংশোধনের সুযোগ অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে।

কমিটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইচ্ছা করে ভুল তথ্য লেখা বা নাগরিকের বক্তব্য বিকৃত করা সেন্সাস অ্যাক্ট, ১৯৪৮ এর অধীনে একটি শাস্তিযোগ্য আইনি অপরাধ। অন্যায় চাপ বা তথ্য বিকৃতির মুখোমুখি হলে ভয় না পেয়ে জনগণকে এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে। কমিটি আশ্বস্ত করেছে, এই লড়াইতে সাধারণ মানুষকে একা লড়তে হবে না।

কাছাড় জেলা হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটি ভুক্তভোগীদের পূর্ণাঙ্গ আইনি সহায়তা দেবে এবং আদালতের দরজায় কড়া নাড়বে। অসমের সর্বস্তরের অরাজনৈতিক, ভাষাগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলিকে এই সচেতনতামূলক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণে না গিয়ে নিরপেক্ষভাবে মানুষকে আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন করার এবং অনিয়ম রোধে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে এক কথায় মূল মন্ত্র প্রচার করা হয়েছে, ভয় নয়, সচেতনতা, চাপ নয়, নিজের সত্য তথ্য; কোনো ব্যক্তির নির্দেশ নয়, নিজের প্রকৃত পরিচয়। কোনো নির্দিষ্ট দল বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই অবস্থান নয়, বরং জাতীয় প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও সত্যতা বজায় রাখাই এই মেগা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে কমিটি।

Related Posts

ভোটে হেরে ইভিএম ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করাই কংগ্রেসের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে: শ্রীভূমি জেলা বিজেপি

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি তুলে কংগ্রেস দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে: সঞ্জীব বণিক বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩০ সেপ্টেম্বরঃ নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধী কংগ্রেস ও শাসকদল বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর ফের তীব্র হয়ে…

নির্বাচন কমিশন ও এসআইআর বিতর্ক!

সাংবিধানিক সুরক্ষার তাগিদে এবার সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইলেন দেশের দুই হাজার বিশিষ্ট নাগরিক বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩০ সেপ্টেম্বরঃ দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সম্প্রতি বিতর্কিত হয়ে ওঠা এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে নজিরবিহীন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *