ভারতরত্ন ভূপেন হাজারিকার জন্মশতবর্ষ, উদারবন্দে সুরের মূর্ছনায় মুখর হল সঙ্গীত প্রতিযোগিতা, মহাফাইনাল শিলচরে ৭ সেপ্টেম্বর

রবিবার সকালে উদারবন্দ অডিটোরিয়ামে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন স্থানীয় বিশিষ্ট বিচারক মানসী চৌধুরী ও শিবাশিষ চক্রবর্তী। এর পরেই যৌথভাবে মাঙ্গলিক পঞ্চপ্রদীপ প্রজ্বলন করেন ব্যতিক্রম পরিবারের অন্যতম কর্ণধার ভাস্কর দাস এবং ইউ.এস.এ উদারবন্দের সভাপতি জগন্নাথ রায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সম্মানিত অতিথি ও বিচারকদের উত্তরীয় পরিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সংবর্ধনা জানানো হয়। সুরের এই মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে অডিটোরিয়ামে উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীতপ্রেমী মানুষের ঢল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্যতিক্রম গ্রুপের জেলা সংযোজক ভাস্কর দাস এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ও দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ আসামের সুসমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এই উদ্যোগ এক অনন্য মাইলফলক। রাজ্যের ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি কোণ থেকে প্রতিভাবান উঠতি শিল্পীদের খুঁজে বের করে তাদের মূলধারার মঞ্চে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য।

উদারবন্দের এই প্রাথমিক পর্বে বাছাই করা সেরা প্রতিভাবান শিল্পীরা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শিলচর সংগীত বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলা মহা–ফাইনালে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। মহাফাইনালের বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় ট্রফি ও বিশেষ আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শিলচরে মহাফাইনালের লড়াইয়ের পর, ৮ সেপ্টেম্বর শিলচরের মর্যাদাপূর্ণ বঙ্গভবনে এক বিশাল সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। ওই দিন কলকাতার অত্যন্ত জনপ্রিয় লোকসঙ্গীতের দল ‘দোহার’ এবং গুয়াহাটি থেকে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট শিল্পীরা তাঁদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দিয়ে মঞ্চ মাতাবেন।

তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক আকর্ষণ হবে, একশো জন শিল্পীর একসঙ্গে ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী গানগুলির সম্মিলিত পরিবেশন। সুরের এই মহাআলোকায়ন পুরো বরাক উপত্যকাকে এক অপূর্ব ভাবাবেগে ভাসিয়ে দেবে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা।

এদিনের এই সফল ও প্রাণবন্ত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অন্যান্যদের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন ব্যতিক্রমের ভূপেন হাজারিকা শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির উদারবন্দ বিধানসভার সংযোজক শিবাঙ্গী রায় সহ স্থানীয় বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ। শতবর্ষের প্রাক্কালে সুধাকণ্ঠের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দক্ষিণ আসামের এই ব্যাপক প্রস্তুতি ও তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গোটা অঞ্চলে এক অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।

Related Posts

৭০ লক্ষ পরিবারকে ভর্তুকিযুক্ত চিনি ৩৫ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকায় পাওয়া যাবে, হিমন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩১ আগষ্টঃ জনগণের কষ্ট লাঘব এবং রাজ্যকে এক নতুন অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করল অসম সরকার। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী…

৭০ লক্ষ পরিবারকে ভর্তুকিযুক্ত চিনি ৩৫ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকায় পাওয়া যাবে, হিমন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩১ আগষ্টঃ জনগণের কষ্ট লাঘব এবং রাজ্যকে এক নতুন অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করল অসম সরকার। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *