বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৯ আগষ্টঃ দুর্গোৎসবের মুখে শ্রীভূমি শহরের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কার্যত মাঠে নামলেন উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ (পান্না)। দীর্ঘদিনের ড্রেনেজ সমস্যা, জলাবদ্ধতা, নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কারের অভাব, ভগ্ন স্ট্রিট লাইট এবং বেহাল রাস্তা, শহরের একাধিক নাগরিক সমস্যা নিয়ে পুরসভা কার্যালয়ে পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ, তন্ময় মজুমদার-সহ অন্যরা।
পুরপতি রবীন্দ্র চন্দ্র দেব, উপপুরপতি সুখেন্দু দাস-সহ পুরসভার আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে পুরসভার আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ডের নাগরিক পরিষেবার বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন বিধায়ক। বিশেষ করে নিকাশি ব্যবস্থা, জল জমার সমস্যা, আবর্জনা পরিষ্কার এবং দীর্ঘদিন ধরে অচল বা ভগ্ন স্ট্রিট লাইট নিয়ে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে খোঁজখবর নেন তিনি।
বর্ষা এলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়া, নিকাশি নালা নিয়ে অভিযোগ এবং রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নতুন নয়। দুর্গোৎসবের আগে সেই সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাই পুর কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরেন বিধায়ক। শুধু আশ্বাস নয়, চলমান উন্নয়নমূলক কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার উপরও জোর দেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্গোৎসবের আগে শহরের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে বিধায়কের এই সরাসরি পুরসভায় গিয়ে বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ উৎসবের মরসুমে শহরের রাস্তাঘাট, নিকাশি, পরিচ্ছন্নতা ও আলো-আলোকসজ্জা নিয়ে পুরসভার উপর চাপ যেমন বাড়ে, তেমনই পরিষেবায় গাফিলতি থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর।
বৈঠকের পর জাকারিয়া আহমদ (পান্না) স্পষ্ট করে জানান, নাগরিক সমস্যাকে কোনও ভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। তাঁর বক্তব্য, শহরের পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক পরিষেবা ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। শুধু সাময়িক সংস্কার নয়, পরিকল্পিত ভাবে শহরের নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
বিধায়ক আরও বলেন, পুরসভা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী না হলে শহরের বহু পুরনো সমস্যা মেটানো কঠিন। তাঁর লক্ষ্য উত্তর করিমগঞ্জের গ্রাম ও শহর উভয় এলাকার উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেওয়া। গ্রামাঞ্চলে পঞ্চায়েতের অধীনে সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নের পাশাপাশি শহরে পুরসভার অধীনে থাকা উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং পুরনাগরিকদের সমস্যা সমাধানে তিনি সক্রিয় থাকবেন বলেও জানান বিধায়ক। দুর্গোৎসবের আগে শ্রীভূমি শহরের নাগরিক পরিষেবা কতটা উন্নত করা যায়, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের। বিধায়কের বৈঠকের পর পুর কর্তৃপক্ষ বাস্তবে কতটা দ্রুত পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।




