দুর্গোৎসবের মুখে শ্রীভূমিতে নিকাশি সমস্যা ও বেহাল রাস্তাঘাট নিয়ে শ্রীভূমি পুরসভায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক

পুরপতি রবীন্দ্র চন্দ্র দেব, উপপুরপতি সুখেন্দু দাস-সহ পুরসভার আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে পুরসভার আওতাধীন ২৭টি ওয়ার্ডের নাগরিক পরিষেবার বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন বিধায়ক। বিশেষ করে নিকাশি ব্যবস্থা, জল জমার সমস্যা, আবর্জনা পরিষ্কার এবং দীর্ঘদিন ধরে অচল বা ভগ্ন স্ট্রিট লাইট নিয়ে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে খোঁজখবর নেন তিনি।

বর্ষা এলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়া, নিকাশি নালা নিয়ে অভিযোগ এবং রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নতুন নয়। দুর্গোৎসবের আগে সেই সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাই পুর কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরেন বিধায়ক। শুধু আশ্বাস নয়, চলমান উন্নয়নমূলক কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার উপরও জোর দেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্গোৎসবের আগে শহরের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে বিধায়কের এই সরাসরি পুরসভায় গিয়ে বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ উৎসবের মরসুমে শহরের রাস্তাঘাট, নিকাশি, পরিচ্ছন্নতা ও আলো-আলোকসজ্জা নিয়ে পুরসভার উপর চাপ যেমন বাড়ে, তেমনই পরিষেবায় গাফিলতি থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপর।

বৈঠকের পর জাকারিয়া আহমদ (পান্না) স্পষ্ট করে জানান, নাগরিক সমস্যাকে কোনও ভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। তাঁর বক্তব্য, শহরের পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক পরিষেবা ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। শুধু সাময়িক সংস্কার নয়, পরিকল্পিত ভাবে শহরের নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

বিধায়ক আরও বলেন, পুরসভা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী না হলে শহরের বহু পুরনো সমস্যা মেটানো কঠিন। তাঁর লক্ষ্য উত্তর করিমগঞ্জের গ্রাম ও শহর উভয় এলাকার উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেওয়া। গ্রামাঞ্চলে পঞ্চায়েতের অধীনে সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নের পাশাপাশি শহরে পুরসভার অধীনে থাকা উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং পুরনাগরিকদের সমস্যা সমাধানে তিনি সক্রিয় থাকবেন বলেও জানান বিধায়ক। দুর্গোৎসবের আগে শ্রীভূমি শহরের নাগরিক পরিষেবা কতটা উন্নত করা যায়, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের। বিধায়কের বৈঠকের পর পুর কর্তৃপক্ষ বাস্তবে কতটা দ্রুত পদক্ষেপ করে, সেটাই দেখার।

Related Posts

বিজেপির বোর্ড, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট কোথায়?

১০০ ভোটারের মধ্যে বিজেপির পাশে প্রায় ৩৫ জন, বিরোধী ভোট ছড়িয়েই কি গেরুয়া বোর্ডের রাস্তা পরিষ্কার? রাজু দাস, বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ১১ অক্টোবরঃ শিলচর শহরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিজেপিকে ভোট দেননি।…

অহংকার, টিকিট-বাণিজ্য আর স্বজনপোষণের মাশুল!

নিজ গড়ে সজল আচার্যের বধ, শিলচরে কংগ্রেসের ‘রাজনৈতিক সলিল সমাধি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১০ অক্টোবরঃ কাছাড় জেলা কংগ্রেস সভাপতি সজল আচার্য এখন মুখ লুকাবেন কোথায়? নাকি আগের মতোই আবার বুক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *