মুখ্য বিচারপতি সূর্যকান্তের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি ভার্চুয়াল রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে তরুণদের ব্যাপক সাড়া
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২১ মেঃ দেশের মুখ্য বিচারপতি সূর্যকান্তের এক বিতর্কিত মন্তব্যের বিরোধিতা করে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের এক অভিনব সোশ্যাল মিডিয়া পেজ সমগ্র দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই এই পার্টির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ফলোয়ারের সংখ্যা ৬০ লাখেরও বেশি হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে এক্স হ্যান্ডেলে এর ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজারে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে ভারতীয় জনতা পার্টির ৮৭ লাখ এবং কংগ্রেস দলের ১.৩২ কোটি ফলোয়ার রয়েছে।
সেই তুলনায় এই নতুন পেজটি অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। মহারাষ্ট্রের অভিজিৎ দীপকে নামের এক যুবক এই ককরোচ জনতা পার্টি গঠন করেছেন। নতুন এই দলটির স্লোগান হলো ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজবাদী, গণতান্ত্রিক এবং অলস। মাত্র এক দিনের মধ্যেই এই পার্টির ফলোয়ারের সংখ্যা ৪০ লাখেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি অভিজিৎ এই দলটির একটি লোগো বা প্রতীকও প্রকাশ করেছেন।
প্রকৃতপক্ষে গত ১৫ মে কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, একটি মামলার শুনানির সময় মুখ্য বিচারপতি সূর্যকান্ত একাংশ বেকার যুবক-যুবতীকে ককরোচ বা আরশোলার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। যদিও এর পরদিনই মুখ্য বিচারপতি এ বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দিয়ে বলেন, তিনি বেকার যুবক-যুবতীদের উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেননি। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ভুয়া ডিগ্রি নিয়ে আইন পেশা, সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশ করা ব্যক্তিদেরই তিনি পরজীবী ও ককরোচ বলে অভিহিত করেছিলেন।
কিন্তু এই মন্তব্যকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় যুব প্রজন্মের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকেই এই ককরোচ জনতা পার্টি গঠনের ধারণা আসে। এই ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যপদ পাওয়ার জন্য চারটি বিশেষ যোগ্যতার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথমত বেকার হতে হবে, দ্বিতীয়ত অত্যন্ত অলস হতে হবে, তৃতীয়ত অনলাইনে থাকার নেশা থাকতে হবে এবং চতুর্থ যোগ্যতা হলো পেশাদারিভাবে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এছাড়াও দলটি একটি ইস্তেহারও প্রকাশ করেছে, যেখানে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
দলটির ইস্তেহার অনুযায়ী, যদি ককরোচ জনতা পার্টি সরকারে আসে, তাহলে অবসরের পর কোনো মুখ্য বিচারপতি পুরস্কার হিসেবে রাজ্যসভায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন না। যদি কোনো বৈধ ভোট মুছে ফেলা হয়, তাহলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ইউএপিএ আইনের অধীনে গ্রেফতার করা হবে, কারণ কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া সন্ত্রাসবাদের চেয়ে কম নয়। এছাড়াও মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশের পরিবর্তে ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং এর জন্য সাংসদের সংখ্যাও বাড়ানো হবে না।
এমনকি মন্ত্রিসভাতেও মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। আম্বানি ও আদানির সমস্ত সংবাদ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে, যাতে প্রকৃত স্বাধীন সংবাদমাধ্যম জায়গা পায় এবং কিছু পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ সঞ্চালকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তদন্ত করা হবে। যদি কোনো বিধায়ক বা সাংসদ দল পরিবর্তন করেন, তাহলে তাঁর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে এবং পরবর্তী ২০ বছর তিনি কোনো জনপদে বসতে পারবেন না। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বর্তমানে আমেরিকার বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন।
তিনি ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি জানান, যখন তিনি মুখ্য বিচারপতির এই মন্তব্য এক্স হ্যান্ডেলে দেখেছিলেন, তখন তিনি যুব প্রজন্মের মতামত জানতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে ২৫ বছরের নিচের যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে আসা ইতিবাচক সাড়ার পর সবাইকে একত্রিত করার উদ্দেশ্যে তিনি এই ককরোচ জনতা পার্টি গঠনের সিদ্ধান্তনেন।







