বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৭ আগষ্টঃ শান্তি ও সম্প্রীতির লীলাভূমি অসমে আবারও থাবা বসাতে চাইছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সমর্থিত অন্তর্ঘাতী চক্র। এবার অসমের বরাক উপত্যকার সীমান্ত ঘেঁষা জেলা হাইলাকান্দিতে ধরা পড়ল এক দুর্ধর্ষ সন্দেহভাজন জঙ্গি। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ‘শাহজাদ ভাটি নেটওয়ার্ক’ (এসবিএন) এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার গুরুতর অভিযোগে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ তৎপরতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ফজল ইসলাম বরভূঁইয়া নামের এক যুবককে।
চাঞ্চল্যকর এই গ্রেপ্তারের ঘটনার খবর চাউর হতেই রাজ্যজুড়ে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাকে ঘাঁটি বানিয়ে পাকিস্তানি নাশকতামূলক ছক কষার এই চক্রান্ত সামনে আসায় অসমের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে হাইলাকান্দি জেলার রামনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির অধীনস্থ প্রত্যন্ত বালদাবালদি গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালায় রাজ্য পুলিশ। গভীর রাতে চালানো এই ঝটিকা অভিযানে কোনো সুযোগ না দিয়েই ফজল ইসলাম বরভূঁইয়াকে তার আস্তানা থেকে পাকড়াও করা হয়।

তদন্তকারী সংস্থাসমূহের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য, ধৃত ফজল ইসলাম মূলত পাকিস্তানভিত্তিক ও ISI-সমর্থিত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘শাহজাদ ভাটি নেটওয়ার্ক’ (এসবিএন) এর অসম মডিউল সক্রিয় করার দায়িত্বে ছিল। গ্রেপ্তারের সময় ধৃতের গোপন ডেরা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ আপত্তিকর সামগ্রী, ডিজিটাল ডিভাইস এবং একাধিক গোপনীয় স্পর্শকাতর নথিপত্র।
হাইলাকান্দির এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এটি অসমে আইএসআই-এর একটি গভীর ও সুসংগঠিত চক্রান্তের অংশ মাত্র। পুলিশ ও অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) তথ্য অনুযায়ী, ফজল ইসলামের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে রাজ্যে এসবিএন-এর সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চারে।
এর আগে এসটিএফ-এর ধারাবাহিক ও সুনির্দিষ্ট অভিযানে ধুবড়ি, চিরাং এবং বরপেটা জেলা থেকে আরও তিন সন্দেহভাজন জঙ্গি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত, বিশেষ করে সীমান্ত ঘেঁষা ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে টার্গেট করে এই বিদেশি চক্রান্তকারীরা যেভাবে যুবকদের মগজধোলাই করে নিজেদের নেটওয়ার্কে টানছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ঘটনার গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সাথে সাথেই ময়দানে নেমেছে অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। শীর্ষ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এসটিএফ-এর এক উচ্চপর্যায়ের দল ইতিমধ্যেই হাইলাকান্দিতে পৌঁছে ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া নথি ও মোবাইল-ল্যাপটপ ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফজল ইসলামকে আরও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ ও বয়ান রেকর্ডের জন্য খুব শীঘ্রই রাজ্য রাজধানী গুয়াহাটিতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আধিকারিকরাও তাকে যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।
হাইলাকান্দিতে এই জঙ্গি গ্রেপ্তারের ঘটনা কেবল এক অপরাধের খবর নয়, এটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রতি এক মারাত্মক হুমকি। এই ঘটনা বেশ কিছু কঠিন ও অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে, বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি বা বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলগুলো কি এখন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিরাপদ প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে? কীভাবে পাক-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো স্থানীয় যুবকদের পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছে?
প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে পাক এজেন্টরা সামাজিক মাধ্যম ও এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে রাজ্যের প্রত্যন্ত কোণে বসে থাকা যুবকদের মগজধোলাই করছে। গোয়েন্দা সাইবার সেল কেন আগে থেকে এদের গতিবিধি শনাক্ত করতে পারল না? ধৃতদের মূল পরিকল্পনা কী ছিল? তারা কি অসমে কোনো বড় ধরনের বিস্ফোরণ, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নাকি সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরির ছক কষছিল?
তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে ধৃত ফজল ইসলামের সাথে স্থানীয় বা ভিনরাজ্যের আর কে কে যুক্ত রয়েছে। অসমজুড়ে আরও কোনো ‘স্লিপার সেল’ লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজ্য পুলিশ ও সাধারণ জনগণকে চূড়ান্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নিজ এলাকা বা আশেপাশে কোনো ব্যক্তির সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লেই তা অবিলম্বে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পাকিস্তানি চক্রান্তের মূল উপড়ে ফেলতে এখন অসমজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান অব্যাহত।






