বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৬ আগষ্টঃ কাছাড় জেলার শিলচর শহরতলী রংপুর এলাকায় কথিত জমি দখল ও অর্থ দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হয় এবং পরে জমি ফেরত পেতে অভিযোগকারীর কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর পানিতলা এলাকার বাসিন্দা টুনিরানী বড়ভূঁইয়া রংপুর পুলিশ ইনভেস্টিগেশন সেন্টারে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তাঁর জমি বেআইনিভাবে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে এবং বিষয়টি মীমাংসার নামে তাঁর কাছে অর্থও দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ রংপুর কদমতলা এলাকার বাসিন্দা বাবুল বরলস্করকে গ্রেফতার করে। তাঁকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আদালতে তোলা হয়। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জমিটি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দখলের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগকারীর আরও দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেন, দাবি করা অর্থ না দিলে জমি ফিরে পাওয়া যাবে না। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পুলিশ নথিপত্র, জমির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছে।
পুলিশ জানিয়েছে, যেহেতু বিষয়টি জমি-সংক্রান্ত এবং তদন্তাধীন, তাই এই মুহূর্তে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে অভিযোগের প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল, জাল কাগজপত্র তৈরি, প্রভাব খাটিয়ে সম্পত্তি দখলের মতো অভিযোগ মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। তাঁদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মূল চক্রকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। শুধু একজনকে গ্রেফতার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, এর পেছনে যদি সংঘবদ্ধ কোনও চক্র কাজ করে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জমি সংক্রান্ত বিরোধে জবরদখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অর্থ দাবি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত এবং তদন্তের ফলাফলের উপরই নির্ভর করবে। এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রংপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রয়োজন হলে আরও জিজ্ঞাসাবাদ, নথি যাচাই ও অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।






