বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৭ আগষ্টঃ দক্ষিণ অসমের চিকিৎসা পরিষেবার মুকুটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (এসএমসিএইচ) নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ-কাম-চিফ সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক, মেডিসিন বিভাগের জনপ্রিয় অধ্যাপক ডাঃ অভিজিৎ স্বামী।
নতুন এই নেতৃত্বকে ঘিরে মঙ্গলবার কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে বইছে খুশির জোয়ার। চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, নার্স থেকে শুরু করে সাধারণ পড়ুয়াদের মধ্যে দেখা গেছে অভূতপূর্ব উৎসাহ ও উদ্দীপনার আবহ।
সম্প্রতি অসম সরকারের মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ওই নির্দেশিকায় জানানো হয় যে, শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের দক্ষ অধ্যাপক ডাঃ অভিজিৎ স্বামীকে প্রতিষ্ঠানটির নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ-কাম-চিফ সুপারিনটেনডেন্টের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে জনস্বার্থে ডার্মাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ডাঃ ভাস্কর গুপ্তকে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সরকারের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ডাঃ অভিজিৎ স্বামীই এই পদে থেকে কলেজ ও হাসপাতালের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
বুধবার সকালে ডাঃ অভিজিৎ স্বামী আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নতুন দপ্তরে আসীন হতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন হাসপাতালের সর্বস্তরের মানুষ। কলেজ চত্বরে যেন এক উৎসবের মেজাজ তৈরি হয়। বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স এবং কৃতি পড়ুয়ারা ছুটে যান প্রিয় অধ্যাপককে শুভেচ্ছা জানাতে।
এদিন উষ্ণ অভ্যর্থনায় ভরিয়ে দেওয়া হয় নতুন অধ্যক্ষকে। উত্তরীয় পরিয়ে, পুষ্পস্তবক ও ফুলের তোড়া দিয়ে এবং ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন সহকর্মীরা। এই আনন্দঘন মুহূর্তকে আরও রাঙিয়ে তুলতে উপস্থিত সকলের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। নতুন অভিভাবককে কাছে পেয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীরা প্রত্যেকেই নিজেদের উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারেননি।
বরাক উপত্যকার প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ওপর নির্ভর করে লক্ষ লক্ষ মানুষ। ডাঃ অভিজিৎ স্বামীর মতো একজন অভিজ্ঞ ও সজ্জন চিকিৎসক এই সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় এক নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে প্রবল আশাবাদী সকলে।
নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়ন, পঠন-পাঠনের অগ্রগতি এবং সাধারণ রোগীদের হয়রানি রোধে যুগোপযোগী ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন শিলচর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মেডিকেল পড়ুয়ারা। ডাঃ স্বামীর এই সফল ও দূরদর্শী কার্যভার পরিচালনা সমগ্র অঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই বিশ্বাস সচেতন মহলের।






