মহানবমীর আনন্দ মাটি! মহানবমীতে শেয়ার বাজারে হাহাকার! ৫৩৮ পয়েন্ট পতন সেনসেক্সে, বিনিয়োগকারীদের ডুবল ৩.২৩ লক্ষ কোটি টাকা।

সোমবার সকালে বাজার খোলার সময় সেনসেক্স ও নিফটিউভয় সূচকই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। দ্রুত পতন শুরু হয় শেয়ার বাজারে। সেনসেক্স তার আগের দিনের সমাপ্তির তুলনায় ৫৩৮ পয়েন্ট নেমে ৭৪,১৯১.২১-এর সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছয়। অন্যদিকে, নিফটিরও ব্যাপক পতন ঘটে। সূচকটি ১৭৫ পয়েন্টেরও বেশি নেমে ২২,৯৭০.৫০-এর স্তরে পৌঁছে যায়।

মহানবমীর উৎসবের আবহে শেয়ার বাজারে স্বস্তির বদলে নেমে এল দুশ্চিন্তার ছায়া। সপ্তাহের প্রথম লেনদেনের দিন সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ভারতীয় শেয়ার বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা গেল। প্রথম দিকে পতনের ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত বাজারের প্রধান দুই সূচক সেনসেক্স ও নিফটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়ে। দিনের শেষে সেনসেক্স ৮৭৬.৩৭ পয়েন্ট বা প্রায় ১.২০ শতাংশ নেমে দাঁড়ায় ৭৩,৮৫২.৯০-এ। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ সূচক ২৫৭.২০ পয়েন্ট বা ১.১০ শতাংশ হারিয়ে বন্ধ হয় ২২,৮৮৮.৯৫-এ।

গত সপ্তাহে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, নতুন সপ্তাহের শুরুতেই তাতে বড় ধাক্কা লাগল। বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাঙ্কের শেয়ারে বিক্রির চাপ, তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাজারের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে। পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলির ত্রৈমাসিক ফলাফলও বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রদত্ত প্রাথমিক বাজার-তথ্য অনুযায়ী, সোমবারের লেনদেনের এক পর্যায়ে সেনসেক্স ৫৩৮ পয়েন্ট নেমে ৭৪,১৯১.২১-এ পৌঁছেছিল। একই সময়ে নিফটি ১৭৫ পয়েন্টেরও বেশি পড়ে ২২,৯৭০.৫০-এর স্তরে নেমে আসে। এই পতনের সঙ্গে বিএসইতে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধনেও বড়সড় হ্রাস দেখা যায়। তবে দিনের শেষের পরিসংখ্যান আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে যে পতন ৫৩৮ পয়েন্টে সীমাবদ্ধ ছিল, শেষ পর্যন্ত সেনসেক্সের সমাপনী পতন দাঁড়ায় ৮৭৬.৩৭ পয়েন্টে। অর্থাৎ, দিনের লেনদেনে বিক্রির চাপ পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাজার।

এই পরিস্থিতি মনে করিয়ে দেয়, শেয়ার বাজারে দিনের কোনও একটি মুহূর্তের সূচক দেখে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করা যথেষ্ট নয়। বাজারের প্রকৃত চিত্র বুঝতে দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন স্তর, সমাপনী সূচক, বিভিন্ন ক্ষেত্রের শেয়ারের পারফরম্যান্স এবং মোট বাজার মূলধনের পরিবর্তন, সবকিছুর দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সোমবারের পতনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল বেসরকারি ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রের দুর্বলতা। বিশেষ করে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের শেয়ারে বড়সড় পতন বাজারের উপর চাপ বাড়ায়। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কটির মুনাফা আগের বছরের তুলনায় বাড়লেও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ফলে ভালো মুনাফার খবরও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে, দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ঋণদাতা এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের মুনাফা বৃদ্ধি সত্ত্বেও শেয়ারে বিক্রির চাপ দেখা যায়। দিনের শেষে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের শেয়ার প্রায় ৪.২ শতাংশ কমে যায়। টাটা মোটরস প্যাসেঞ্জার ভেহিকলসের শেয়ারও ৩.১ শতাংশের কাছাকাছি পতনের মুখে পড়ে।

এখানেই বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে। কোনও সংস্থার মুনাফা বৃদ্ধি পেলেই যে তার শেয়ারের দাম বাড়বে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। বিনিয়োগকারীরা শুধু মুনাফার পরিমাণ নয়, বাজারের প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনা, ঋণের গুণমান এবং পরিচালনগত ঝুঁকিও বিবেচনা করেন। প্রত্যাশার তুলনায় ফলাফল দুর্বল হলে মুনাফা বৃদ্ধির খবরও শেয়ারের দামকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না। ব্যাঙ্কিং শেয়ারের এই দুর্বলতা বাজারের প্রধান সূচকগুলিকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। কারণ, সেনসেক্স ও নিফটির মতো সূচকে বড় ব্যাঙ্কগুলির উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। ফলে কয়েকটি ভারী ওজনের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি হলেও গোটা বাজারের চিত্র দ্রুত বদলে যেতে পারে।

শেয়ার বাজারের উপর চাপ সৃষ্টিকারী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ১৯ অক্টোবরের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের উপরে ছিল বলে বাজার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের অর্থনীতির ক্ষেত্রে অপরিশোধিত তেলের দাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাণিজ্য ঘাটতি, টাকার বিনিময়মূল্য, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন খরচের উপর।

তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ, বিমান পরিষেবা, রাসায়নিক শিল্প এবং অন্যান্য জ্বালানিনির্ভর ক্ষেত্রের ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। সংস্থাগুলি সেই বাড়তি ব্যয় ক্রেতাদের উপর চাপিয়ে দিতে না পারলে মুনাফার মার্জিন সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাতেও চাপ পড়তে পারে। তবে শুধু তেলের দামকেই সোমবারের পতনের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ব্যাঙ্কিং শেয়ারের দুর্বলতা, আন্তর্জাতিক বাজারের মিশ্র প্রবণতা, সাম্প্রতিক উত্থানের পর মুনাফা তুলে নেওয়া এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন, সব মিলিয়েই বাজারের উপর চাপ তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে কেনাকাটা বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু সোমবার সেই ক্ষেত্রেও দুর্বলতা দেখা যায়। দিনের শেষে ইনফোসিসের শেয়ার ২.৬ শতাংশ কমে যায়। টেক মাহিন্দ্রার শেয়ারও নিম্নমুখী ছিল, আর এইচসিএল টেকনোলজিসের শেয়ার প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বন্ধ হয়। সামগ্রিকভাবে নিফটি আইটি সূচক ১.৩ শতাংশ কমে যায়।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাজারে কোনও একটি ক্ষেত্রের ভালো পারফরম্যান্স দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার ত্রৈমাসিক ফলাফল, ভবিষ্যৎ ব্যবসার সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের ব্যয় এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারের পরিস্থিতি, সবকিছুই এই ক্ষেত্রের শেয়ারের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গত সপ্তাহে আইটি শেয়ারের উত্থান দেখে যাঁরা নতুন করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাঁদের জন্য সোমবারের পতন বাজারের ঝুঁকির দিকটি ফের সামনে এনেছে। তবে এক দিনের পতন থেকেই গোটা তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টানা যায় না।

সোমবারের বাজার পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক ছিল তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির সম্মিলিত বাজার মূলধনের পতন। দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর বাজার-প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিনের বিক্রির চাপে বিএসইতে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকা কমে ৪৬৮ লক্ষ কোটি টাকার নিচে নেমে যায়।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। বাজার মূলধন কমে যাওয়া মানে এই নয় যে প্রতিটি বিনিয়োগকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। শেয়ারের বাজারদর কমলে সেই শেয়ারের ভিত্তিতে সংস্থার মোট বাজারমূল্যও কমে যায়। এই পরিবর্তনকেই সম্মিলিত বাজার মূলধনের হ্রাস হিসেবে দেখা হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্যে বাজার মূলধন ৩,২৩,৯৫০ কোটি টাকা কমার যে হিসাব উঠে এসেছিল, সেটি ছিল লেনদেনের প্রথম দিকের একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিসংখ্যান। দিনের শেষে বাজার আরও নিচে বন্ধ হওয়ায় ওই প্রাথমিক হিসাবকে গোটা দিনের চূড়ান্ত ক্ষতির পরিমাণ হিসেবে ব্যবহার করা সঠিক হবে না।

তবে বাজার মূলধনের এই পতনও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। বাজারে যখন বড় সংস্থার শেয়ার একযোগে পড়তে শুরু করে, তখন তার প্রভাব শুধু কয়েকটি শেয়ারে সীমাবদ্ধ থাকে না; বিনিয়োগ তহবিল, পেনশনভিত্তিক সঞ্চয় এবং শেয়ারনির্ভর অন্যান্য আর্থিক সম্পদের মূল্যায়নেও পরিবর্তন আসতে পারে।

ভারতীয় শেয়ার বাজারের গতিপথ নির্ধারণে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের বড় অঙ্কের কেনাকাটা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, আবার ধারাবাহিক বিক্রি বাজারের উপর চাপ বাড়াতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারে প্রায় ১,১৬৬ কোটি টাকার নিট কেনাকাটা করেছিলেন। কিন্তু অক্টোবরের অধিকাংশ লেনদেনের দিনে তাঁদের বিক্রির প্রবণতা বাজারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে প্রভাবিত করছে। মার্কিন প্রযুক্তি শেয়ারের দুর্বলতা, এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে মিশ্র প্রবণতা এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়তে পারে। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এক দিনের কেনাবেচা দিয়ে বাজারের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ, মিউচুয়াল ফান্ডে অর্থের প্রবাহ, কর্পোরেট মুনাফা এবং দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবারের পতনকে বুঝতে হলে তার আগের সপ্তাহের বাজার পরিস্থিতির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার সেনসেক্স ৪১৩.৬৬ পয়েন্ট বেড়ে ৭৪,৭২৯.২৭-এ বন্ধ হয়েছিল। নিফটি ৫০-ও ১৪৮.৮০ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,১৪৬.১৫-এ পৌঁছেছিল। পুরো সপ্তাহে সেনসেক্সের উত্থান হয়েছিল ২,২৫৬ পয়েন্টেরও বেশি, আর নিফটি বেড়েছিল প্রায় ২.৭৭ শতাংশ।

এই ধরনের দ্রুত উত্থানের পর কিছু বিনিয়োগকারী নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করতে শেয়ার বিক্রি করেন। বাজারের ভাষায় একে বলা হয় ‘প্রফিট বুকিং’ বা মুনাফা তুলে নেওয়া। এটি শেয়ার বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু যখন প্রফিট বুকিংয়ের সঙ্গে দুর্বল কর্পোরেট ফলাফল, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ তেলের দামের মতো বিষয় যুক্ত হয়, তখন পতন আরও তীব্র হতে পারে। সোমবারের ঘটনায় সেই সম্মিলিত চাপের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। গত সপ্তাহের উত্থান বাজারে আশাবাদ তৈরি করলেও তা যে অব্যাহত থাকবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা ছিল না।

বাজারের এই ওঠানামার মধ্যে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। এক দিন বাজার বাড়লেই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়া, আবার পরের দিন পতন দেখেই আতঙ্কে সব শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া দুটিই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হতে পারে।

এগুলি সাধারণ ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনার নীতি, কোনও নির্দিষ্ট শেয়ার কেনা বা বিক্রির সুপারিশ নয়।

বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। প্রথমত, বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির ত্রৈমাসিক ফলাফলের পর বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া। দ্বিতীয়ত, অপরিশোধিত তেলের দাম ও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি। তৃতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাবেচার প্রবণতা। চতুর্থত, তথ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য বড় সংস্থার আর্থিক ফলাফল।

এ ছাড়া নিফটি ২৩,০০০-এর স্তরের আশপাশে কীভাবে লেনদেন করছে, সেটিও বাজার পর্যবেক্ষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট সূচকস্তর ধরে বাজার নিশ্চিতভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বা আরও পড়বে, এমন পূর্বাভাস দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। বাজারের গতিপথ নির্ভর করবে নতুন তথ্য, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর।

মহানবমীর দিনে শেয়ার বাজারের বড়সড় পতন বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, গত সপ্তাহের উত্থান কি স্থায়ী পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত ছিল, নাকি বাজার এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে? সোমবারের লেনদেন সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেয়নি। তবে এটি স্পষ্ট করেছে যে বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখতে শুধু সাময়িক আশাবাদ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন শক্তিশালী কর্পোরেট ফলাফল, স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা।

উৎসবের মরশুমে বাজারের এই পতন নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। কিন্তু এক দিনের সূচকপতনকে দীর্ঘমেয়াদি বাজারের ভবিষ্যতের চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসেবেও দেখা উচিত নয়। বরং এই পরিস্থিতি মনে করিয়ে দেয়, শেয়ার বাজারে লাভের সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও রয়েছে। বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকাই এই অনিশ্চিত বাজারে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় ভরসা।

Related Posts

মোদি সরকারকে সমর্থন করা ভুল ছিল! বিস্ফোরক অভিযোগ জগন মোহন রেড্ডি

নির্বাচন কারচুপি ও এসআইআর বিতর্কের মাঝেই সুর বদলাল ওয়াইএসআর কংগ্রেস প্রধানের; কোণঠাসা শাসক শিবির বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৯ অক্টোবরঃ জাতীয় রাজনীতিতে একদা মোদি সরকারের অনানুষ্ঠানিক সহযোগী বা ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে…

৪ কাঠ সংগ্রহকারীকে হত্যায় আগ্নেয়গিরি মণিপুর: উপমুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার রাজ্যব্যাপী বন্ধের ডাক

সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি; জরুরি পরিষেবা বাদে স্তব্ধ হতে চলেছে পাহাড়ি ও উপত্যকা অঞ্চল বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৯ অক্টোবরঃ পাহাড় ও উপত্যকার রক্তাক্ত সমীকরণে ফের কেঁপে উঠল…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *