জনপ্রতিনিধিদের চোখ বেঁধেছে ক্ষমতা? তারাপুরের ই এন ডি কলোনিতে নরকযন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হাজার হাজার মানুষ

সাধারণ মানুষের যাতায়াত এখন আর কেবল কষ্টকর নয়, রীতিমতো জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, শাসক দলের স্থানীয় বিধায়ক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী কিংবা সড়ক বিভাগের কোনো হেলদোল নেই। জনপ্রতিনিধিদের এমন উদাসীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছেন গোটা এলাকার বাসিন্দা থেকে শুরু করে পথচলতি সাধারণ মানুষ।

তারাপুর ই এন ডি কলোনির এই প্রধান সড়কটি কোনো সাধারণ গলি নয়। এটি এলাকার যোগাযোগের প্রধান ধমনী। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন হাজার হাজার পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসযাত্রী, অটো, মোটরসাইকেল, স্কুটি ও অন্যান্য গণপরিবহন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রাস্তায় চলাচল করা আর সার্কাসের দড়িতে হাঁটা একই ব্যাপার! প্রতিদিন পোশাক পরিষ্কার করে বাড়ি থেকে বেরিয়েও গর্তের নোংরা জল মেখে স্কুলে পৌঁছাতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। অনেক সময় জলভরা গর্তে সাইকেল বা স্কুটি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে।

ক্ষুব্ধ এক কলেজ শিক্ষার্থীর কথায়, ভোটের সময় নেতা-মন্ত্রীরা বড় বড় উন্নয়নের ভাষণ দেন, কিন্তু এই খানাখন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে চলার সময় আমাদের জীবনের গ্যারান্টি কে দেবে? গর্তের দাপটে ভাঙছে অটোর অ্যাক্সেল, বিগড়ে যাচ্ছে স্কুটি ও মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ। দৈনিক উপার্জনের একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে গাড়ির গ্যারেজে। অটোচালকরা জানান, বাধ্য হয়ে তাঁরা এই রুটে গাড়ি চালাতে চান না, যার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। এই বেহাল সড়কের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী মুমূর্ষু রোগীরা।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা কোনো রোগীকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যখন এই রাস্তায় ঢোকে, তখন প্রতিটি ঝাঁকুনিতে রোগীর জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, চালকরা এই রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ঢোকাতেই ভয় পান। জল জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যায় না, ফলে রুগী নিয়ে উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় প্রতি পদে।

বর্ষা এলে পরিস্থিতি কেবল ভয়াবহ শব্দে ব্যাখ্যা করা যায় না, তা রূপ নেয় এক বিভীষিকায়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা কী করছেন? এলাকাবাসীর স্পষ্ট অভিযোগ, স্থানীয় বিধায়ক থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী মহোদয়রা কেবল ক্ষমতার অলিন্দে বসে বড় বড় ‘স্মার্ট সিটি’আর ‘উন্নয়নের জোয়ারের’ঢোল পিটিয়ে যাচ্ছেন। অথচ শহরের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকার প্রধান সড়ক বছরের পর বছর ধরে পড়ে রয়েছে চরম অবহেলায়। জনপথ বিভাগ তো যেন ঠোঙা মুড়ে ঘুমোচ্ছে! সামান্য মেরামতির নাটক করা হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো সদিচ্ছাই দেখায়নি প্রশাসন।

ক্ষুব্ধ এক স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দার সোজা প্রশ্ন, আমরা কি কর দিই না? যদি সরকারের কোষাগারে কর জমা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের হয়, তবে আমাদের নিরাপদ রাস্তা দেওয়ার দায়িত্ব কেন সরকার এড়াবে? ভোটের আগে হাতজোড় করে আসা জনপ্রতিনিধিরা জেতার পর সাধারণ মানুষের রক্ত জল করা কষ্টের দিকে ফিরেও তাকান না। তারাপুর ই এন ডি কলোনির স্থায়ী সংস্কার আর কোনো অনুরোধ বা আবেদন এর পর্যায়ে নেই, এটি এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। সাধারণ মানুষের পরিষ্কার বার্তা ফাঁকা প্রতিশ্রুতি আর সহ্য করা হবে না।

জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে অনতিবিলম্বে যদি এই প্রধান সড়কের স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু না করা হয়, তবে আগামী দিনে তীব্র গণ-আন্দোলন ও পথ অবরোধের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, অটোচালকেরা এবং ছাত্রসমাজ। এখন দেখার, এই ক্ষোভের আঁচ কি পৌঁছাবে শাসক দলের মন্ত্রী, বিধায়ক ও ঘুমন্ত প্রশাসনের কানে? নাকি কোনো বড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির পরই কেবল জাগবে জনপথ বিভাগ? উত্তর চাইছে পুরো তারাপুর!

Related Posts

তুঘলক ক্রিসেন্টের বাংলোয় সেই রাতের পোড়া নোটের রহস্য, তদন্তে কাঠগড়ায় বিচারপতি বর্মা

অগ্নিকাণ্ডের পর মিলেছিল বিপুল নগদ, পরে রহস্যজনকভাবে উধাও; তিন অভিযোগই সত্য বলে জানাল তদন্ত কমিটি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ১৩ আগষ্টঃ বাইরে থেকে দেখলে দিল্লির তুঘলক ক্রিসেন্টের ৩০ নম্বর সরকারি…

সাবান-বিস্কুটেও মূল্যবৃদ্ধির আঁচ, সেপ্টেম্বরে আরও চাপে মধ্যবিত্তের সংসার

কাঁচামাল ও উৎপাদন খরচের অজুহাতে দাম বাড়ানোর প্রস্তুতিতে একাধিক এফএমসিজি সংস্থা বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ১৩ আগষ্টঃ রান্নাঘরের গ্যাস থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধিতে এমনিতেই চাপে সাধারণ মানুষের সংসার। এর…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *