চার দিন পর জাটিঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার নিখোঁজ যুবক নিতাই ওরফে ভিকির দেহ, এলাকায় শোকের ছায়া

গত শনিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর মঙ্গলবার বিকেলে নিউ টিবং পাথর কোয়ারি এলাকার নদীতে একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে পুলিশ ও পরিবারের উপস্থিতিতে দেহটি উদ্ধার করা হলে এলাকায় শোকের পিনপতন নীরবতা নেমে আসে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত চাঞ্চল্যকর বিবরণ অনুযায়ী, গত শনিবার বিকালের দিকে নিখোঁজ যুবক নিতাই দাস ওরফে ভিকি বোরখোলা থানার অন্তর্গত দেবী নালা এলাকার জাটিঙ্গা নদীর তীরে গিয়েছিলেন। অত্যন্ত চঞ্চল ও খরস্রোতা এই নদীর জলে সেই সময় স্নান করতে নেমেছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের জোরালো দাবি অনুযায়ী, নদীর গভীরতা এবং জলের তীব্র ঘূর্ণস্রোত বা জলের আকস্মিক গভীর অংশে চলে যাওয়ার কারণে মুহূর্তের মধ্যে চোখের আড়াল হয়ে যান নিতাই।

স্থানীয়রা ও উপস্থিত অন্যান্য যুবকরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও নদীর অপ্রতিরোধ্য স্রোতের মুখে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। চোখের পলকেই জলের নিচে তলিয়ে যান ওই যুবক। ঘটনার আকস্মিকতায় নদীর তীরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্থানীয়রা। খবর দেওয়া হয় পরিবার ও থানায়।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তৎপর হয়ে ওঠে বড়খলা থানা এবং জেলা প্রশাসন। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে জাটিঙ্গা নদীর দেবী নালা এবং তার আশপাশের স্রোতস্বিনী অংশে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করে এসডিআরএফ এর বিশেষ দল। কিন্তু শনিবার, রবিবার ও সোমবার টানা তিন দিন ধরে নদীর জলে ডুবুরি ও বোট নিয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোনো খোঁজ মেলেনি নিতাইয়ের। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের বুক চিরে বেরিয়ে আসা দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে এলাকার বাতাস। সবার মনেই তখন একটাই প্রশ্ন, কোথায় হারিয়ে গেল ভিকি?

অবশেষে দীর্ঘ চার দিন পর মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে চারটে নাগাদ নিউ টিবং পাথর কোয়ারি এলাকার কিছু শ্রমিকের নজরে আসে জাটিঙ্গা নদীর জলে একটি মৃতদেহ ভেসে চলেছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা বিষয়টি বড়খলা থানায় অবহিত করেন। খবর পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে পুলিশ দল এবং নিখোঁজ যুবকের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নদীর তীর থেকে মৃতদেহটি উপরে তুলে আনা হলে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং নিশ্চিত করেন যে এটি আর কেউ নন, নিখোঁজ থাকা নিতাই দাস ওরফে ভিকি দাসেরই মৃতদেহ। চার দিন ধরে জলে ভেসে থাকার কারণে দেহটি কিছুটা বিকৃত হয়ে পড়লেও পরিধেয় ও অন্যান্য মাধ্যমে তা শনাক্ত করা হয়।

দেহ উদ্ধারের পর বড়খলা থানার পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি দ্রুত শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করে। তরুণ এক যুবকের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা বড়খলা এবং দেবী নালা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নদীর জলের এমন রুদ্ররূপ এবং অসাবধানতার বলি হয়ে একটি তরতাজা প্রাণের এভাবে ঝরে যাওয়ার ঘটনায় পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। নদীর পাড়ে নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অভাব নিয়েও স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Related Posts

শিলচর পুরনিগম নির্বাচন: ডিগ্রিতে জালিয়াতি করলেই কপালে শনি, জাল সার্টিফিকেট জমা দিলেই শ্রীঘরে যাওয়ার রাস্তা পাকা!

ভুঁইফোড় বোর্ডের সার্টিফিকেট দিয়ে আর পার পাওয়া যাবে না, মেধা ও সততার অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হচ্ছে প্রার্থীদের, শিলচর পুরনিগম নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার…

শিলচরে ব্যবসার নামে লোভনীয় লভ্যাংশের ফাঁদ পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শিলচরের বেরেঙ্গার সাদ্দামের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

গ্রেপ্তারির পর জামিনে বেরিয়ে সামাজিক বিচারসভার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ; ২৫ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই উধাও প্রতারক। বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলচরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *