কালাইনের পবিত্র প্রাঙ্গণে ইমাম নির্বাচন ঘিরে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা

ইমাম নিয়োগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের চরম মতানৈক্য গড়ায় হাতাহাতি, লাঠিচার্জ এবং দফায় দফায় পাথরবৃষ্টিতে। এমনকি পবিত্র মসজিদ প্রাঙ্গণ ও ভেতরে ভাঙচুর চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে মহিলাসহ একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, তারাপুর বড় মসজিদের নতুন ইমাম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকার দুটি দলের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছিল। এক পক্ষ নিজেদের পছন্দমতো এক ধর্মীয় গুরুকে স্থলাভিষিক্ত করতে চাইলে অপর পক্ষ তাতে সরাসরি আপত্তি জানায়।

শুক্রবার জুম্মার নামাজের ঠিক আগে পরিস্থিতি বিস্ফোরক রূপ নেয়। অভিযোগ, অপর পক্ষের মতামতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এক পক্ষ হুট করে তাঁদের মনোনীত ইমামকে মসজিদে নিয়ে আসে। এই নিয়ে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে বাগবিতণ্ডা রূপ নেয় হাতাহাতিতে।

প্রথমে হাতাহাতি হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো মসজিদ চত্বর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এক পক্ষ নাকি পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা ও পাথর মজুদ করে রেখেছিল। তর্কাতর্কি চরমে পৌঁছাতেই শুরু হয় এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ ও পাথরবৃষ্টি।

পবিত্র মসজিদের ভেতরের অংশেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ রূপ নেয় যে ঘরের মহিলারাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক, সাধারণ পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দারা ভয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।

ঘটনাস্থলে শতাধিক মানুষের উপস্থিতি এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এলাকা যখন সরগরম, ঠিক তখনই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এগিয়ে আসেন এলাকার কয়েকজন বিশিষ্ট ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। তাঁদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ও মধ্যস্থতায় সাময়িকভাবে তাণ্ডব থামানো সম্ভব হয়।

সংঘর্ষে মহিলাসহ বেশ কয়েকজন রক্তাত ও আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কালাইন হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে কালাইন আউটপোস্টের পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং আহতদের জবানবন্দি নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার খোঁজখবর শুরু করে।

ধর্মীয় স্থানকে কেন্দ্র করে এমন হিংসাত্মক ঘটনা ও পবিত্রতা নষ্ট করার চেষ্টায় কালাইন জুড়ে চরম উত্তেজনা ও ধিক্কারের ঝড় উঠেছে। স্থানীয় সচেতণ মহল ও গ্রামবাসীদের স্পষ্ট দাবি, ধর্মীয় উপাসনালয়ে ঢুকে ভাঙচুর ও মারপিটে জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।

হামলাটি কি সত্যিই আগে থেকে পরিকল্পনা করে অস্ত্র মজুদ রেখে করা হয়েছিল কিনা, তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। পবিত্র স্থানের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও ইমাম নির্বাচনের বিবাদ মেটাতে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও শান্তি বজায় রাখতে পুরো কালাইন এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

  • Related Posts

    শিলচর পুরনিগম নির্বাচন: ডিগ্রিতে জালিয়াতি করলেই কপালে শনি, জাল সার্টিফিকেট জমা দিলেই শ্রীঘরে যাওয়ার রাস্তা পাকা!

    ভুঁইফোড় বোর্ডের সার্টিফিকেট দিয়ে আর পার পাওয়া যাবে না, মেধা ও সততার অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হচ্ছে প্রার্থীদের, শিলচর পুরনিগম নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার…

    শিলচরে ব্যবসার নামে লোভনীয় লভ্যাংশের ফাঁদ পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শিলচরের বেরেঙ্গার সাদ্দামের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

    গ্রেপ্তারির পর জামিনে বেরিয়ে সামাজিক বিচারসভার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ; ২৫ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই উধাও প্রতারক। বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলচরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি…

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *