বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৯ আগষ্টঃ উন্নয়নের ঢাকঢোল পিটিয়ে তৈরি হলো রাস্তা, কিন্তু ফিতা কাটার আগেই খসে পড়তে শুরু করল তার কঙ্কাল! হাইলাকান্দি জেলার বর্ণী ব্রিজ চা বাগান পৈলা নম্বর গ্রামে সরকারি কাজের মান নিয়ে এখন চরম কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ধসে পড়েছে নবনির্মিত পেভার ব্লক।
কোথাও ভেঙে উঠে যাচ্ছে ব্লকের স্তূপ, আবার কোথাও তলদেশের মাটি সরে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। “উন্নয়ন চাই, কিন্তু এমন ভাঁওতাবাজি নয়” এই স্লোগান তুলে এখন ঠিকাদার ও বিভাগীয় গাফিলতির বিরুদ্ধে ফুঁসছেন পৈলা নম্বর গ্রামের শয়ে শয়ে ভুক্তভোগী মানুষ।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বর্ণী ব্রিজ চা বাগান পৈলা নম্বর গ্রামে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির নির্মাণকাজ চলছিল গত কয়েক মাস ধরে। দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের কষ্টে থাকা এলাকাবাসী আশার আলো দেখেছিলেন, ভাবছিলেন এবার হয়তো তাঁদের দুর্দশার অবসান ঘটবে। কিন্তু কাজের শেষলগ্নে এসেই ফাঁস হয়ে গেল দুর্নীতির স্বরূপ।
অভিযোগ, পিডব্লিউডি বা পূর্ত বিভাগের চোখ এড়িয়ে সম্পূর্ণ নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হয়েছে কাজটি। ঢালাই ও পেভার ব্লকের নিচে যে শক্ত ভিত তৈরি করার কথা ছিল, তা করা হয়নি বললেই চলে। ফলে, নির্মাণের মাত্র এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ধসে যেতে শুরু করেছে। হালকা যানবাহন চলাচলেই উঠে আসছে ব্লক, সরে যাচ্ছে নিচের কাঁচা মাটি।
এলাকাবাসীর চরম অভিযোগের তীর ঠিকাদার জাবেদ হোসেন লস্কর (ভুট্টু) ও তাঁর প্রতিনিধিদের দিকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাজ চলাকালীন পেভার ব্লকের পাতলা ঘনত্ব এবং নিম্নমানের বালি-পাথর ব্যবহারে আপত্তি তোলা হয়েছিল। ঠিকাদার ও তাঁর লোকজনকে বারবার সতর্ক করে বলা হয়েছিল কাজের মান উন্নত করতে।
পরিস্থিতি হাতছাড়া হতে দেখে গ্রামবাসীরা একাধিকবার কাজ বন্ধ রাখারও অনুরোধ জানান। কিন্তু অভিযোগ, স্থানীয়দের সেই ন্যায়সংগত দাবি ও সতর্কবার্তাকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। উল্টে গায়ের জোরে ও নামকাওয়াস্তে কাজ শেষ করে সটকে পড়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
গ্রামবাসীর এখন একটাই ভয়, সামনে বর্ষাকাল। শুকনো আবহাওয়াতেই যদি এক সপ্তাহে রাস্তার এই অবস্থা হয়, তবে বরাক উপত্যকার বিধ্বংসী বৃষ্টি নামলে এই রাস্তা ঢলে পড়বে নর্দমায়। পিচ্ছিল মাটি আর ধসে যাওয়া ব্লকে ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। তখন পৈলা নম্বর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি হাতছাড়া হওয়ার আগেই হাইলাকান্দির বিধায়ক ডঃ মিলন দাসের দ্রুত ও সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন উত্তেজিত এলাকাবাসী।
সেই সঙ্গে তাঁদের স্পষ্ট দাবি, পূর্ত বিভাগের উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ারদের অবিলম্বে এসে রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করতে হবে। ব্যবহৃত পেভার ব্লকের পুরুত্ব, নিচের মাটি ও সার্বিক উপকরণের মান ল্যাবে পরীক্ষা করতে হবে। সমস্ত ত্রুটিযুক্ত ও দুর্বল অংশ ঠিকাদারের খরচে সম্পূর্ণ নতুন করে মজবুত ভিত্তির ওপর পুনঃনির্মাণ করতে হবে।
গ্রামবাসী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এমন ভেকধারি উন্নয়ন তাঁরা মেনে নেবেন না। সরকারি দপ্তরের নীরবতা কিংবা ঠিকাদারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে তাঁরা বৃহত্তর আইনি পথ বেছে নেবেন এবং রাজপথে নেমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শামিল হবেন। এখন দেখার, প্রশাসন কি সত্যিই কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয়, নাকি এই ধসে পড়া উন্নয়ন এর নিচে চাপা পড়ে থাকবে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ।




