এক সপ্তাহেই কঙ্কালসার উন্নয়ন ! হাইলাকান্দির বর্ণী ব্রিজে ধসে পড়ল নবনির্মিত রাস্তা, ঠিকাদারি দুর্নীতির অভিযোগে সোচ্চার গ্রামবাসী

কোথাও ভেঙে উঠে যাচ্ছে ব্লকের স্তূপ, আবার কোথাও তলদেশের মাটি সরে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। “উন্নয়ন চাই, কিন্তু এমন ভাঁওতাবাজি নয়” এই স্লোগান তুলে এখন ঠিকাদার ও বিভাগীয় গাফিলতির বিরুদ্ধে ফুঁসছেন পৈলা নম্বর গ্রামের শয়ে শয়ে ভুক্তভোগী মানুষ।

স্থানীয় সূত্রের খবর, বর্ণী ব্রিজ চা বাগান পৈলা নম্বর গ্রামে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির নির্মাণকাজ চলছিল গত কয়েক মাস ধরে। দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের কষ্টে থাকা এলাকাবাসী আশার আলো দেখেছিলেন, ভাবছিলেন এবার হয়তো তাঁদের দুর্দশার অবসান ঘটবে। কিন্তু কাজের শেষলগ্নে এসেই ফাঁস হয়ে গেল দুর্নীতির স্বরূপ।

অভিযোগ, পিডব্লিউডি বা পূর্ত বিভাগের চোখ এড়িয়ে সম্পূর্ণ নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হয়েছে কাজটি। ঢালাই ও পেভার ব্লকের নিচে যে শক্ত ভিত তৈরি করার কথা ছিল, তা করা হয়নি বললেই চলে। ফলে, নির্মাণের মাত্র এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ধসে যেতে শুরু করেছে। হালকা যানবাহন চলাচলেই উঠে আসছে ব্লক, সরে যাচ্ছে নিচের কাঁচা মাটি।

এলাকাবাসীর চরম অভিযোগের তীর ঠিকাদার জাবেদ হোসেন লস্কর (ভুট্টু) ও তাঁর প্রতিনিধিদের দিকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাজ চলাকালীন পেভার ব্লকের পাতলা ঘনত্ব এবং নিম্নমানের বালি-পাথর ব্যবহারে আপত্তি তোলা হয়েছিল। ঠিকাদার ও তাঁর লোকজনকে বারবার সতর্ক করে বলা হয়েছিল কাজের মান উন্নত করতে।

পরিস্থিতি হাতছাড়া হতে দেখে গ্রামবাসীরা একাধিকবার কাজ বন্ধ রাখারও অনুরোধ জানান। কিন্তু অভিযোগ, স্থানীয়দের সেই ন্যায়সংগত দাবি ও সতর্কবার্তাকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। উল্টে গায়ের জোরে ও নামকাওয়াস্তে কাজ শেষ করে সটকে পড়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

গ্রামবাসীর এখন একটাই ভয়, সামনে বর্ষাকাল। শুকনো আবহাওয়াতেই যদি এক সপ্তাহে রাস্তার এই অবস্থা হয়, তবে বরাক উপত্যকার বিধ্বংসী বৃষ্টি নামলে এই রাস্তা ঢলে পড়বে নর্দমায়। পিচ্ছিল মাটি আর ধসে যাওয়া ব্লকে ঘটে যেতে পারে বড়সড় দুর্ঘটনা। তখন পৈলা নম্বর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি হাতছাড়া হওয়ার আগেই হাইলাকান্দির বিধায়ক ডঃ মিলন দাসের দ্রুত ও সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন উত্তেজিত এলাকাবাসী।

সেই সঙ্গে তাঁদের স্পষ্ট দাবি, পূর্ত বিভাগের উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ারদের অবিলম্বে এসে রাস্তাটি সরেজমিন পরিদর্শন করতে হবে। ব্যবহৃত পেভার ব্লকের পুরুত্ব, নিচের মাটি ও সার্বিক উপকরণের মান ল্যাবে পরীক্ষা করতে হবে। সমস্ত ত্রুটিযুক্ত ও দুর্বল অংশ ঠিকাদারের খরচে সম্পূর্ণ নতুন করে মজবুত ভিত্তির ওপর পুনঃনির্মাণ করতে হবে।

গ্রামবাসী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এমন ভেকধারি উন্নয়ন তাঁরা মেনে নেবেন না। সরকারি দপ্তরের নীরবতা কিংবা ঠিকাদারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে তাঁরা বৃহত্তর আইনি পথ বেছে নেবেন এবং রাজপথে নেমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শামিল হবেন। এখন দেখার, প্রশাসন কি সত্যিই কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয়, নাকি এই ধসে পড়া উন্নয়ন এর নিচে চাপা পড়ে থাকবে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ।

Related Posts

মোদি সরকারের শিক্ষা নীতিতে বিস্ফোরক প্রশ্ন মুরলী মনোহর জোশীর, সরকার নিজেরাই কেলেঙ্কারি করছে

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৯ আগষ্টঃ দেশে যখন পরীক্ষা ব্যবস্থার জালিয়াতি, একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস, কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে সারা ভারতের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ…

হিমালয়ে গলছে বরফ, মহা-জলপ্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে ভারত-নেপাল-ভুটান, হিমালয়ের বুকে টিকটিক করছে ২২১টি টাইম বোমা, প্রলয়ংকারী জলপ্রলয়ের আশঙ্কায় কাঁপছে দক্ষিণ এশিয়া

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৯ আগষ্টঃ হিমালয়ের শুভ্র তুষারাবৃত পাহাড়ের নীরবতার নিচে ধীরে ধীরে দানা বাঁধছে এক শতাব্দীর সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও অব্যাহত জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় দ্রুত গলে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *