বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৬ আগষ্টঃ কাছাড় জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে ফের বড় সাফল্য মিলল। বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাছাড় পুলিশ এবং ৩৮ অসম রাইফেলস এর যৌথ অভিযানে জিরিঘাট থানার অধীন এলাকায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে সোনাই এলাকার দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ এবং ধরন দেখে তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, এর সঙ্গে একটি বড় মাদক পাচার চক্র জড়িত থাকতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সোনাইয়ের কচুদরম এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম এবং সাজাদুল আলম বড়ভুঁইয়াকে আটক করা হয়। তাঁদের তল্লাশি এবং একটি সন্দেহভাজন গাড়ি পরীক্ষা করে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার হয়।
নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযানে ৯,০০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, যার মোট ওজন প্রায় ৯৫০ গ্রাম, উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১টি সাবানের কৌটার ভিতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা প্রায় ১৫০ গ্রাম সন্দেহভাজন হেরোইন উদ্ধার হয়। মাদক পাচারে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি সুইফট গাড়ি (নিবন্ধন নম্বর: MZ-02B-6363) এবং দুটি মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ঘটনাস্থলেই ড্রাগ ডিটেকশন কিট দিয়ে পরীক্ষা করা হলে তা মেথামফেটামিন (ইয়াবা) এবং হেরোইন হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয় বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।
গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণ আইন (NDPS Act)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই ঘটনাটি শুধুমাত্র দু’জন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের দাবি, এর পেছনে সক্রিয় একটি আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্র থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
গত কয়েক মাসে কাছাড় জেলায় একের পর এক মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন এবং অন্যান্য নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে তেমনি প্রশ্ন তুলছে, এত কড়া নজরদারি সত্ত্বেও কীভাবে বারবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় এত বড় পরিমাণ মাদক পৌঁছে যাচ্ছে? কাছাড় পুলিশ জানিয়েছে, জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মাদক পাচারকারী বা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের হাত থেকে রেহাই দেওয়া হবে না। উদ্ধার হওয়া মাদক এবং গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে তদন্তকারীদের আশা।






