বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ১আগষ্ট, ২০২৬: অগণিত ভক্তের শ্রদ্ধা, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবেগে মুখর হয়ে উঠল শিলচরের সৎসঙ্গ বিহার। পরমারাধ্যা জগজ্জননী শ্রীশ্রীবড়মার ১৩৩তম শুভ জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার দিনব্যাপী ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উৎসবটি মহাসমারোহে উদ্যাপিত হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলা বিভিন্ন আয়োজনকে ঘিরে সৎসঙ্গ বিহার প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ভক্ত-অনুরাগীদের ছিল স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি।
অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী ভোরে সমবেত প্রার্থনার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। বিশেষ প্রণামের পর সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে জগজ্জননী শ্রীশ্রীবড়মার শুভ জন্মক্ষণ ঘোষণা করা হলে সমগ্র প্রাঙ্গণ ভক্তিময় পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে। ভক্তরা প্রার্থনা, নামসংকীর্তন এবং বন্দনার মাধ্যমে পরমারাধ্যার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় একক সঙ্গীতাঞ্জলি, যেখানে ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর সকাল ১১টায় আয়োজিত মাতৃসম্মেলনে শ্রীশ্রীবড়মার আদর্শ, মানবকল্যাণে তাঁর জীবনদর্শন এবং সমাজে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের উপর আলোচনা হয়।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ভাণ্ডারায় হাজারো ভক্ত ও উপস্থিত মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কুইজ প্রতিযোগিতায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও ভক্তরা উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক প্রশ্নোত্তর পর্ব উপস্থিতদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। বিকেল ৩টা থেকে ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভক্তিমূলক সংগীত, আবৃত্তি ও অন্যান্য পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পরে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিট এবং ৭টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং দিনব্যাপী উৎসবকে এক অনন্য মাত্রা দেয়।
পুরো অনুষ্ঠান জুড়েই শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের নামসংকীর্তন, সৎসঙ্গ এবং আধ্যাত্মিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ভক্তদের অংশগ্রহণে সৎসঙ্গ বিহার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক অনন্য ভক্তি, সম্প্রীতি ও আত্মিক মিলনক্ষেত্রে। দিনের শেষ পর্বে সমবেত প্রার্থনার মাধ্যমে বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সৎসঙ্গ বিহারের সম্পাদক অনুপ বিশ্বাস বলেন, অসাধারণ ভক্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির আবহে এ বছরের জন্মজয়ন্তী উদ্যাপিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই পুণ্যসমাবেশে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভক্তরা আধ্যাত্মিক শক্তি, নৈতিক প্রেরণা এবং মানবসেবার আদর্শে আরও উদ্বুদ্ধ হবেন। উৎসবে অংশগ্রহণকারী ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরাও আয়োজনের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, আন্তরিক আতিথেয়তা এবং সার্বিক পরিবেশের প্রশংসা করেন।






