৩০ ব্যক্তিকে ভারতে অনুপ্রবেশে বাঁধা, তেজপুরে বিস্ফোরক সহ ধৃত যুবক
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ অক্টোবরঃ অসমের আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় তিনি জানান, অসম পুলিশ ৩০ জন কথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছে। একই দিনে শোণিতপুর জেলার কলিয়াভোমোরা সেতুর কাছে সন্দেহজনক বিস্ফোরক পদার্থ ও ডেটোনেটর সহ এক যুবককে গ্রেফতারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, দেবী দুর্গার আশীর্বাদে অসম পুলিশ ৩০ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করেছে এবং তাদের ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে ‘সীমান্তে মহিষাসুরমর্দিনী’র সঙ্গে তুলনা করে সীমান্তরক্ষায় পুলিশের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিদিন, প্রতিটি উপলক্ষে সীমান্তে সতর্ক নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ওই বার্তায় ৩০ জনকে কোথায় চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের পরিচয় ও জাতীয়তা কী, কিংবা ঠিক কখন এই অভিযান চালানো হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা-ও স্পষ্ট নয়।

অসমের আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে কথিত অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে পুলিশের তৎপরতার কথা এর আগেও একাধিকবার তুলে ধরেছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। গত সেপ্টেম্বর মাসেও তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করা কয়েকটি দলকে পুলিশ বাধা দিয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। রাজ্য সরকারের তরফে সীমান্ত নজরদারি ও অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের ওপর ধারাবাহিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, শোণিতপুর জেলার কলিয়াভোমোরা সেতুর কাছে সন্দেহজনক অবস্থায় ঘোরাফেরা করার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত যুবকের নাম দীপসন সিংনা। তিনি কার্বি আংলং জেলার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেতুর কাছে যুবকটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাঁর ব্যাগে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় ব্যাগ থেকে সন্দেহভাজন বিস্ফোরক পদার্থের ৩৪টি প্যাকেট এবং ১৮টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপসন পুলিশকে জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং জেলার আনি গোম্পা এলাকা থেকে ওই সামগ্রী নিয়ে এসেছিলেন। তবে উদ্ধার হওয়া পদার্থের প্রকৃতির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী আদৌ বিস্ফোরক কি না, সেগুলি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং কী উদ্দেশ্যে পরিবহণ করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
দুটি ঘটনা একই দিনে সামনে আসায় অসমের সীমান্ত নিরাপত্তা ও সন্দেহজনক সামগ্রী পরিবহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে ৩০ জন কথিত অনুপ্রবেশকারীকে বাধা দেওয়ার দাবি এবং কলিয়াভোমোরা সেতুর কাছে বিস্ফোরক-সদৃশ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।




