সিএএ প্রক্রিয়ায় গতি আনতে কেন্দ্রের ঐতিহাসিক সিটিজেনশিপ থার্ড অ্যামেন্ডমেন্ট রুলস, ২০২৬ কার্যকর

নয়া এই বিধির মাধ্যমে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) জটিল লালফিতের ফাঁস কেটে আবেদন নিষ্পত্তির পুরো ক্ষমতা সরাসরি তুলে দেওয়া হলো সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা শাসকদের (ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর) হাতে। কেন্দ্রের এই প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন কমিটির দরজায় ঝুলে থাকা হাজার হাজার আবেদনের দ্রুত এবং ঝামেলাহীন নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নাগরিকত্ব প্রদানের সামগ্রিক প্রশাসনিক কাঠামোয় এক আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে, জেলা শাসকের হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা এর আগে যেসব আবেদন ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ এবং জেলা স্তরের বিভিন্ন কমিটির হাত ঘুরে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেত, সেই সমস্ত ক্ষমতা এখন থেকে এককভাবে ন্যস্ত হলো জেলা শাসকদের ওপর।

নির্দিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বসবাসকারী হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের আবেদনকারীদের সিএএ-র ধারা ৬বি-র অধীনে রেজিস্ট্রেশন বা স্বাভাবিককরণের আবেদন গ্রহণ, প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সার্বিক দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা শাসক। আবেদনকারীর জমা দেওয়া নথি যাচাই, গোপনীয় তদন্ত এবং ভারতের নাগরিক হিসেবে তিনি “উপযুক্ত ও সঠিক” ব্যক্তি কি না,

সেই বিষয়ে সন্তুষ্ট হয়ে চূড়ান্ত নাগরিকত্বের সনদপত্র এবং শপথ গ্রহণ করানোর দায়িত্বও সরাসরি জেলা শাসকের তত্ত্বাবধানেই সম্পন্ন হবে। নির্দেশিকায় সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন এমপাওয়ার্ড কমিটি বা জেলা স্তরের কমিটিতে আটকে থাকা সমস্ত পুরোনো আবেদন অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা শাসকদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে যে, এই নতুন নিয়মকানুন সমগ্র দেশে কার্যকর হলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি সীমান্ত ও স্পর্শকাতর অঞ্চলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যসমূহ গুজরাত, রাজস্থান, পঞ্জাব, পশ্চিমবঙ্গ, অসম (অ-উপজাতি/নন-ট্রাইবাল এলাকা) এবং ত্রিপুরা (অ-উপজাতি/নন-ট্রাইবাল এলাকা)। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ।(উল্লেখ্য, সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিলভুক্ত উপজাতীয়/ট্রাইবাল এলাকাগুলিকে এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।)

পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে সময়বদ্ধ এবং স্বচ্ছ উপায়ে সম্পন্ন হয়, তার জন্য অনলাইনের মাধ্যমেই অধিকাংশ কাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোর্টালের মাধ্যমে সরাসরি আবেদন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে ট্র্যাক করার সুবিধা থাকবে। ফলে আবেদনকারীদের আর সরকারি দপ্তরের চক্কর কাটতে হবে না। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন উঠছিল।

নয়া দিল্লি থেকে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পর, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে আশ্রিত লাখ লাখ শরণার্থী পরিবারের মুখে এখন নতুন করে আশার আলো। জেলা শাসকদের হাতে প্রশাসনিক ব্যাটন তুলে দিয়ে কেন্দ্র যে দ্রুত নাগরিকত্ব প্রদানের মাধ্যমে এক বড় পরিবর্তন আনতে চায়, তা একপ্রকার স্পষ্ট।

Related Posts

শ্রীভূমিতে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের এককালীন উন্নয়ন প্রকল্পের ভূমিপূজন, দুর্গাপূজার পরই শুরু হচ্ছে সড়ক নির্মাণকাজ

অনুষ্ঠানে সীমান্ত বাণিজ্য ও আন্তঃরাজ্য যোগাযোগব্যবস্থা সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শ্রীভুমি ২২ আগষ্টঃ ব্রডগেজ বাস্তবায়নের মাধ‍্যমে রেলপথে দেশের অন‍্যান‍্য প্রান্তের সঙ্গে যেমন বরাক…

শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ডে ক্রমাগত কুঠারাঘাত, দুর্নীতি ও ডিজিটাল কারসাজিতে ধসে পড়ছে শিক্ষার ভবিষ্যৎ!

হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন মিলতেই ছত্তিশগড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি পরীক্ষা বাতিল, দিশেহারা হাজারও ছাত্রছাত্রী বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২২ আগষ্টঃ পরীক্ষার হল একসময় বিবেচিত হতো মেধা, পরিশ্রম ও সততার এক পবিত্র পীঠস্থান হিসেবে।…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *