সাহায্যকেন্দ্রে ৬টি ফোন, রাজ্যের ১৪ জন এখনও নিখোঁজ, বন্যাবিধ্বস্ত নেপালে আটকে থাকা অসমের বাসিন্দাদের ফেরাতে তৎপর সরকার

নেপালের বিপর্যয়ের পর দিল্লির অসম ভবনে খোলা বিশেষ সাহায্যকেন্দ্রে এখনও পর্যন্ত অসমের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছয়টি ফোন এসেছে। ফোনকারী পরিবারগুলির অধিকাংশই নেপালে কর্মরত আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে নিখোঁজ বা আটকে পড়া অসমের বাসিন্দার প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ অভিযোগই নুয়াকোট জেলার উজান ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত অসমের শ্রমিকদের নিয়ে। বন্যার পর ওই প্রকল্পে কর্মরত বেশ কয়েকজনের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশাসন তাঁদের পরিচয় ও অবস্থান যাচাই করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ করছে।

নিখোঁজদের মধ্যে হোজাই জেলার ডবকার হিন্দু ব্লক গ্রামের বাসিন্দা শতদল নাথের নামও রয়েছে। প্রায় আট মাস আগে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থায় কাজ করছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মঙ্গলবার শেষবার তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, একই সংস্থায় কর্মরত ডবকার আরেক বাসিন্দা গৌতম দাস বন্যার পর নিরাপদে বেঁচে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যদের তিনি জানিয়েছেন, বন্যার জলে তাঁদের থাকার জায়গা ভেসে যাওয়ার পর শতদল নাথ সহ অন্তত ১৪ জনের এখনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এই তথ্য সরকারি পর্যায়ে এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ওই শ্রমিকেরা ত্রিশুলি-১ প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন, নাকি অন্য কোনও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মস্থলে ছিলেন, তাও স্পষ্ট নয়।

বৃহস্পতিবারই অসম সরকার দিল্লির অসম ভবনে বিশেষ সাহায্যকেন্দ্র চালু করে। নিখোঁজদের পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এই কেন্দ্র বিদেশ মন্ত্রক, নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, নেপালের চলমান বন্যায় অসমের কিছু মানুষ আটকে পড়েছেন বলে সরকার অবগত। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের বাড়ি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, নেপালের বন্যাকবলিত এলাকা থেকে এখনও পর্যন্ত ৮৪ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ৬৩ জন শ্রমিক এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন। আরও ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালে মৃতের সংখ্যা শুক্রবার পর্যন্ত বেড়ে ৫৩৯-এ পৌঁছেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ১,৫৪৫ জন আহত ও আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮৪ জন বর্তমানে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় দিনেও ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চলছে। সেনাবাহিনী সহ মোট ৭,৪৫১ জন নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে ২,৩৯১ জন নেপাল সেনার সদস্য। গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট বরফ-পাথরের ধস থেকে বিপুল পরিমাণ জল, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নীচের দিকে নেমে এসে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে বলে জানা গেছে।

এর ফলে মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি, গাড়ি, রাস্তা ও সেতু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অসম সরকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি নেপালে থাকা রাজ্যের বাসিন্দাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং আটকে পড়া নাগরিকদের নিরাপদে অসমে ফিরিয়ে আনাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

Related Posts

মোদি সরকারের শিক্ষা নীতিতে বিস্ফোরক প্রশ্ন মুরলী মনোহর জোশীর, সরকার নিজেরাই কেলেঙ্কারি করছে

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৯ আগষ্টঃ দেশে যখন পরীক্ষা ব্যবস্থার জালিয়াতি, একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস, কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে সারা ভারতের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ…

হিমালয়ে গলছে বরফ, মহা-জলপ্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে ভারত-নেপাল-ভুটান, হিমালয়ের বুকে টিকটিক করছে ২২১টি টাইম বোমা, প্রলয়ংকারী জলপ্রলয়ের আশঙ্কায় কাঁপছে দক্ষিণ এশিয়া

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৯ আগষ্টঃ হিমালয়ের শুভ্র তুষারাবৃত পাহাড়ের নীরবতার নিচে ধীরে ধীরে দানা বাঁধছে এক শতাব্দীর সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও অব্যাহত জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় দ্রুত গলে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *