মিজোরামে ট্রাকচালকদের হয়রানি ও বাধার প্রতিবাদে ধলাইয়ে সর্বাত্মক ‘স্টারিং ছোড়ো’ আন্দোলনের ডাক, রবিবার থেকে বন্ধ পণ্য পরিবহণ

এই অকথ্য বঞ্চনা ও দমনপীড়নের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে শিলচর ট্রাক ড্রাইভার অ্যাসোসিয়েশন এবং লায়লাপুর অল কমার্শিয়াল ভেহিকল ড্রাইভার অ্যাসোসিয়েশন। চালকদের অধিকার রক্ষা এবং পরিবহণ ক্ষেত্রে চলা এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অবসান ঘটাতে আগামী রবিবার সন্ধ্যা থেকে ধলাই ও লায়লাপুর অঞ্চলে সর্বাত্মক ‘স্টারিং ছোড়ো’ (স্টিয়ারিং ছাড়ো) আন্দোলনের বজ্রনির্ঘোষ ঘোষণা করা হয়েছে।

অসম ও মিজোরাম উভয় পার্শ্ববর্তী রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বাণিজ্য ও পণ্য আদান-প্রদান চালিয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে সেই সুসম্পর্কের চাদরে ফাটল ধরার নেপথ্যে রয়েছে মিজোরামের কিছু স্থানীয় সংস্থা ও স্বার্থান্বেষী মহলের একরোখা নীতি। অভিযোগ উঠেছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই অসমের ট্রাকগুলিকে মিজোরামে পণ্য নিয়ে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সম্প্রতি অসম থেকে নদী ও বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত বালু মিজোরামে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। মিজোরামের একটি প্রভাবশালী সংস্থা জোরপূর্বক ফতোয়া জারি করেছে যে, অসমের ট্রাকের মাধ্যমে আর কোনো পণ্য বা বালু পরিবহন করা চলবে না।

তার পরিবর্তে অসমের ট্রাক বসিয়ে রেখে শুধুমাত্র মিজোরামের স্থানীয় ট্রাক দিয়েই পণ্য খালাস ও পরিবহণ করানোর জন্য অমানবিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। দিনের পর দিন ভিনরাজ্যের মাটিতে এই ধরনের একপেশে ও জবরদস্তিমূলক আচরণে অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বরাকের গরিব ট্রাকচালকরা।

চালক সমাজের পেটে লাথি মেরে এবং রুটি-রুজির ওপর অন্যায়ভাবে এমন অঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধ চাপিয়ে দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে নারাজ শ্রমিক ও ড্রাইভার সংগঠনগুলি। দীর্ঘদিন ধরে মৌখিক প্রতিবাদ ও আলোচনার রাস্তা খোলা রাখলেও ফল না মেলায় এবার চরম পদক্ষেপের পথ বেছে নিয়েছে তারা।

শিলচর ট্রাক ড্রাইভার অ্যাসোসিয়েশন এবং লায়লাপুর অল কমার্শিয়াল ভেহিকল ড্রাইভার অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এই ঐতিহাসিক ‘স্টারিং ছোড়ো’ আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। অর্থাৎ, ওই সময় থেকে মিজোরামমুখী সমস্ত বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকের চাকা অনির্দিষ্টকালের জন্য থমকে দাঁড়াবে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি সংগঠনগুলি। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে মিজোরাম সরকারের মদতপুষ্ট এই হয়রানির বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কাছাড় জেলার ডেপুটি কমিশনারের কাছে বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশনগুলি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে এই আন্দোলন কেবল ধলাই বা লায়লাপুরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বৃহত্তর আকার ধারণ করবে বলে পরিষ্কার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

এদিকে, রবিবারের এই ঝটিকা ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার পর থেকেই অসমের ট্রাকচালক মহলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। দুই সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় কর্তারা অসমের সমস্ত ট্রাকচালক ও মালিকদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এই ‘স্টারিং ছোড়ো’ আন্দোলনে সর্বাত্মকভাবে সামিল হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রতিবেশী রাজ্যের বেআইনি ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে বরাকের চালকদের এই কড়া হুশিয়ারি এখন উত্তর-পূর্বের রাজনীতি ও বাণিজমহলে এক তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রবিবারের সন্ধ্যা থেকে ধলাই অঞ্চলে চাকা ঘুরবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা উপত্যকা।

Related Posts

মোদি সরকারের শিক্ষা নীতিতে বিস্ফোরক প্রশ্ন মুরলী মনোহর জোশীর, সরকার নিজেরাই কেলেঙ্কারি করছে

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৯ আগষ্টঃ দেশে যখন পরীক্ষা ব্যবস্থার জালিয়াতি, একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস, কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে সারা ভারতের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ…

হিমালয়ে গলছে বরফ, মহা-জলপ্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে ভারত-নেপাল-ভুটান, হিমালয়ের বুকে টিকটিক করছে ২২১টি টাইম বোমা, প্রলয়ংকারী জলপ্রলয়ের আশঙ্কায় কাঁপছে দক্ষিণ এশিয়া

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৯ আগষ্টঃ হিমালয়ের শুভ্র তুষারাবৃত পাহাড়ের নীরবতার নিচে ধীরে ধীরে দানা বাঁধছে এক শতাব্দীর সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও অব্যাহত জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় দ্রুত গলে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *