বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১৭ অক্টোবরঃ নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করার ক্ষেত্রে অসম দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন জাতীয় অপরাধ ও অপরাধ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা ব্যবস্থার (এনসিএলআই) ফলক বা ড্যাশবোর্ডের তথ্য উল্লেখ করে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দাবি করেন তিনি। অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ, দ্রুত তদন্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর অসম পুলিশের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এক্স-এ প্রকাশিত বার্তায় হিমন্ত লেখেন, অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে অসম সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। পুলিশের কার্যক্রমে আইন প্রয়োগ আরও জোরদার করা, অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ড্যাশবোর্ডে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অসম প্রথম স্থানে রয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে ব্রিটিশ আমলের ভারতীয় দণ্ডবিধির পরিবর্তে নতুন আইন চালু করা হয়। অপরাধের সংজ্ঞা, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে আধুনিক করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই আইন প্রবর্তন করা হয়েছে।
নতুন আইনের পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়মও কার্যকর হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় নতুন ফৌজদারি আইন বাস্তবায়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের তৎপরতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে ড্যাশবোর্ডে প্রথম স্থান নির্ধারণের নির্দিষ্ট সূচক, মূল্যায়নের সময়সীমা এবং অন্যান্য রাজ্যের তুলনামূলক অবস্থান সম্পর্কে তাঁর বার্তায় বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসমে নথিভুক্ত অপরাধের মামলার সংখ্যা গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২২ সালে রাজ্যে ৬৮,৯৩৭টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। ২০২৩ সালে তা কমে ৬৪,৯৫৯টিতে দাঁড়ায় এবং ২০২৪ সালে আরও কমে হয় ৪৯,৫৫২টি।
অর্থাৎ, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে নথিভুক্ত মামলার সংখ্যা প্রায় ২৮ শতাংশ কমেছে। এনসিআরবি-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অসমে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় নথিভুক্ত অপরাধের হার ছিল ১৩৭, যেখানে জাতীয় গড় ছিল ৪১৮। তবে অপরাধের মামলা কমে যাওয়ার পাশাপাশি তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ বলে পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয়।
২০২৪ সালে অসমে অভিযোগপত্র দাখিলের হার ছিল ৬৭.১ শতাংশ এবং অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ছিল ২২.৩ শতাংশ। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার এই হার জাতীয় গড় ৫৩.৩ শতাংশের তুলনায় যথেষ্ট কম। ফলে অপরাধের মামলা হ্রাসের পাশাপাশি আদালতে কার্যকর বিচার এবং অপরাধীদের দোষ প্রমাণের ক্ষেত্রেও উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলে পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করছে।
উল্লেখ্য, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রথম স্থান অর্জনের দাবি এবং রাজ্যে নথিভুক্ত অপরাধের সংখ্যা কমে যাওয়া দুটি পৃথক বিষয়। নতুন আইন বাস্তবায়নের র্যাঙ্কিং মূলত আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রয়োগের অগ্রগতি নির্দেশ করে; অপরাধের হার কিংবা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হারকে সরাসরি সেই র্যাঙ্কিংয়ের সমতুল্য হিসেবে দেখা যায় না।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ন্যায় সংহিতা ড্যাশবোর্ডে নতুন ফৌজদারি আইনগুলির বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। অতএব, অসমের ক্ষেত্রে নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর করার অগ্রগতির পাশাপাশি তদন্তের গুণমান, অভিযোগপত্র দাখিল, দ্রুত বিচার এবং দোষী সাব্যস্ত করার হার ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হয়ে থাকবে।





