বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ১আগষ্ট, ২০২৬: বিদ্যুৎ বিভাগ নাকি উন্নয়নের আলো পৌঁছে দেয় ঘরে ঘরে। কিন্তু কাছাড় জেলার দক্ষিণ ধলাইয়ের শেওরারতল গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাগেয়ালা বাক্ষাল এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের সরবরাহ করা সেই আলো এখন পরিণত হয়েছে এক মূর্তিমান আতঙ্কে! দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলন্ত বিদ্যুতের তার ও হেলে পড়া খুঁটি গোটা এলাকাকে যেন এক মরণফাঁদে পরিণত করে রেখেছে। অথচ, অভিযোগ, বিভাগীয় শীর্ষ আধিকারিক থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সকলেরই চোখ আটকানো এক রহস্যময় ঠুলিতে। বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা অঘটন ঘটার জন্যই কি অপেক্ষা করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা? প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
বাগেয়ালা বাক্ষাল এলাকার গলিপথ থেকে শুরু করে মূল রাস্তার ওপর বিদ্যুৎ বিভাগের একাধিক বৈদ্যুতিক লাইন ও খুঁটির অবস্থা জীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একাধিক স্থানে মূল সংযোগের হাই-ভোল্টেজ তার এতটাই নিচে নেমে এসেছে যে, পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম বিপত্তি ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বিদ্যুতের তারগুলো এতটাই বিপজ্জনকভাবে ঝুলছে যে, যাতায়াতের সময় মানুষকে আক্ষরিক অর্থেই বাঁশ বা কাঠের লাঠি দিয়ে তার ঠেলে সরিয়ে পথ চলতে হচ্ছে!
কোনো কারণে লাঠি ভিজে থাকলে বা বিদ্যুৎ পরিবাহী হলে যে কত বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন স্থানীয়রা। বর্ষাকাল নামলেই এই ভয় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায়। হালকা ঝড়-বৃষ্টিতেই বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়া বা খুঁটি উপড়ে পড়ার আশঙ্কায় ঘুম উড়ছে গ্রামবাসীদের। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই যেখানে অবকাঠামো ভেঙে পড়ার মুখে, সেখানে ভরা বর্ষায় যে কোনো মুহূর্তে বড় মাপের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
গ্রামবাসীদের প্রধান ক্ষোভের জায়গাটি হলো, যে লাইনগুলো চরম বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে রয়েছে এবং যে খুঁটিগুলো হেলে পড়েছে, সেগুলোতে কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়মিত চালু রয়েছে! একদিকের সামান্য অসাবধানতা কাড়তে পারে একাধিক প্রাণ। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা এখন শূন্যের কোঠায়।
শুধু মানুষই নয়, অতীতেও এমন আলগা তারে জড়িয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গবাদিপশুর মৃত্যুর বহু নজির রয়েছে। বাগেয়ালা বাক্ষালের গবাদিপালকরাও এখন তাদের জীবিকা ও পশুর সুরক্ষা নিয়ে দিশেহারা। স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপের সঙ্গে জানিয়েছেন, এই সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের অফিসে স্মারকলিপি প্রদান থেকে শুরু করে আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিকবার দরবার করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে মিলেছে শুধুই ফাঁকা আশ্বাস।
অন্যদিকে, নির্বাচনের সময় ভোট চাইতে ঘরে ঘরে আসা জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও এখন তীব্র ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার মতো এমন একটি প্রাথমিক অধিকার নিশ্চিত করতে কেন জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চুপ? আধিকারিকদের ফাইলবন্দি উদাসীনতা আর জনপ্রতিনিধিদের গা বাঁচানো রাজনীতির জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন বাগেয়ালা বাক্ষালের নিরীহ বাসিন্দারা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি হওয়ার পর শোকবার্তা আর ক্ষতিপূরণের চেক হাতে ফটোশুট করতেই কি দেখা মিলবে আধিকারিক ও নেতাদের? বাগেয়ালা বাক্ষাল এলাকার সর্বস্তরের মানুষের এখন একটাই দাবি, বিদ্যুৎ বিভাগকে অবিলম্বে তাদের ঘুম ভাঙাতে হবে।
ঝুলন্ত তারগুলো দ্রুত টানটান করে বাঁধতে হবে, হেলে পড়া খুঁটিগুলো সরিয়ে নতুন শক্তপোক্ত খুঁটি পোঁতার মাধ্যমে নিরাপদ বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ মহলের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, অনতিবিলম্বে যদি এই ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগের স্থায়ী সমাধান না করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে বিদ্যুৎ বিভাগের স্থবির প্রশাসন ও নিস্পৃহ জনপ্রতিনিধিদেরই।






