বরাক উপত্যকায় কোনো সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে বার্তা শ্রীভূমি জেলা প্রশাসনের
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শ্রীভুমি ২৭ অক্টোবরঃ হিন্দুস্থান ক্লাবের দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় বিহু শিল্পীদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল শ্রীভূমি। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সদৌ অসম ছাত্র সংস্থার (আসু) নেতৃত্বে তিন শতাধিক মানুষের মিছিল শহরের রাজপথ পরিক্রমা করে।
অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলাশাসক প্রদীপ কুমার দ্বিবেদী এবং সিনিয়র পুলিশ সুপার লীনা দোলের কাছে পৃথক স্মারকলিপি জমা দেন আন্দোলনকারীরা। অন্য দিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসমিয়া ও বাঙালির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

গত ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় হিন্দুস্থান ক্লাবের প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিহু নৃত্য পরিবেশনের জন্য আমন্ত্রিত শিল্পীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, ক্লাবের কয়েক জন সদস্য এবং স্থানীয় কয়েক জন যুবক বিহু দলের সদস্যদের মারধর করেন। এই ঘটনায় সাত জন শিল্পী গুরুতর আহত হন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
সোমবার ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয় আসু। শম্ভুসাগর পার্কে সংগঠনের সদস্য-সমর্থকদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা জড়ো হন। সেখান থেকে প্রতিবাদী মিছিল নিয়ে তাঁরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে যান। কার্যালয়ের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয় পুলিশ।
পরে ‘জয় আই অসম’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। আন্দোলনকারীরা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আহত শিল্পীদের যথাযথ চিকিৎসার দাবি জানান স্মারকলিপিতে বরগুল-আদরকোণার বিহু দলের উপর হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
পাশাপাশি আহত শিল্পীদের উপযুক্ত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সরকারি সাহায্য প্রদান এবং বরাক উপত্যকায় ভূমিপুত্র ও খিলঞ্জিয়া জনগণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়।সোমবার জেলাআয়ুক্ত প্রদীপ কুমার দ্বিবেদী স্মারকলিপি গ্রহণ করে ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর আশ্বাস, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্য অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
জেলাআয়ুক্ত বলেন, বরাক উপত্যকা তথা শ্রীভূমিতে অসমিয়া ও বাঙালির মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে দুর্গাপুজো ও বিহু উৎসব পালন করেন। কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা উচিত নয়। শিল্পীদের উপর যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
বিহু শিল্পীদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক দিকে যেমন দোষীদের শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্য দিকে তেমনই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তাও উঠে আসছে। এখন প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বিভিন্ন মহল।





