বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৭ আগষ্টঃ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, খাদ্যদ্রব্যের সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং উজান আসামের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, রেশনে বিনামূল্যে ছয় মাস খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ, এনরেগায় দুইশো দিনের কাজের নিশ্চিতি, বন্যা রোধে স্থায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া, সর্বোপরি রাজ্যের প্রলয়ঙ্কারী বন্যাকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণার দাবিতে বুধবার শ্রীভূমি জেলা আয়ুক্তের অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সি পি আই (এম)। করিমগঞ্জ জেলা কমিটির ডাকে বিক্ষোভে অংশ নেন জিলার সি পি আই (এম) কর্মী সমর্থকরা।
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে সি পি আই (এম) রাজ্য কমিটি সদস্য নির্মল দে বলেন দেশব্যাপী খাদ্যদ্রব্য সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সীমাহীন বেড়েছে। অথচ দেশের কৃষি উৎপাদনে ঘাটতি নেই। শুধুমাত্র ফাটকাবাজি ও মুনাফাখোরদের মুনাফার স্বার্থে ঘটছে এই মূল্য বৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় সরকার যথারীতি নির্বিকার। যেন এই মূল্যবৃদ্ধিতে সরকারের কোন দায় নেই।
শাসক দল এই বৃহৎ ব্যাবসায়ী যারা মানুষের খাদ্য মজুত করে বাজারে কৃত্রিম ভাবে দাম বাড়িয়ে মুনাফা বৃদ্ধি করে তারাই শাসক দলের নির্বাচনী তহবিলে শত শত কোটি টাকা অনুদান দেয়। এক বৃহৎ সঙ্কটে আমাদের দেশ।মানুষ না খেয়ে মরছে।অসুখে ঔষধ কিনতে পারছে না।অথচ দেশে খাদ্যের অভাব নেই,ঔষধ প্রস্তুত করতে যে ব্যয় হয় তার শতগুণেরও বেশি দামে তা বাজারজাত হয়।
সরকার বৃহৎ মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয় না। বিগত মাসে চাল,ডাল,ভোজ্য তেল,চিনি সহ খাদ্যদ্রব্যের দাম মাত্রাহীন ভাবে বেড়েছে।দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে প্রয়োজন রেশনে খাদ্যদ্রব্য সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পর্যাপ্ত পরিমানে সস্তায় বন্টন। সরকার সেই পথে যাচ্ছে না। সি পি আই (এম) করিমগঞ্জ জেলা কমিটি সদস্য ব্যোমকেশ ভট্টাচার্য বলেন কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছে না।
বরঞ্চ উল্টোপথে হাটছে সরকার। সরকারী মজুত ভাণ্ডার এফ সি আইকে আদানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারী বিতরন ব্যাবস্থা মার খাবে। দ্রব্যমূল্য আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। আসামের বন্যা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন রাজ্যের প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় শতাধিক মানুষের প্রাণ গেছে।হাজার হাজার মানুষের বাড়ি ঘর নষ্ট হয়েছে।
ক্ষতির মুখে পড়েছেন অসংখ্য গরীব মানুষ। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার এগিয়ে আসছেন না। এই বিধ্বংসী বন্যাকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষনা করা উচিত। কেন্দ্রীয় অনুদান বৃদ্ধি করা উচিত। তিনি বলেন মুখ্যমন্ত্রী মুখে ত্রান, ক্ষতিপূরণের কথা বললেও বাস্তবে ত্রানের ব্যাবস্থা একেবারেই নগন্য। নির্মল দে বলেন সি পি আই (এম) বন্যায় মৃত পরিবারগুলিকে বিশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, বন্যায় নষ্ট হওয়া কাঁচা ও পাকা ঘর মালিকদের যথাক্রমে পাঁচ ও দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পূরণ,রাজ্যের বন্যাকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় অনুদান বৃদ্ধি সহ বন্যার রোধে স্থায়ী ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।
বিক্ষোভ শেষে ১৪ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকপত্র জিলা আয়ুক্তের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর নিকট প্রেরণ করা হয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন নির্মল দে,হুমায়ুন কবির, তরুন গুহ, সঞ্জেন্দু নাথ, নবারুন নাথ। এদিনের কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন সি পি আই (এম) করিমগঞ্জ জেলা সম্পাদকমণ্ডলী সদস্য তরুন গুহ, মহোতোষ ভট্টাচার্য, পার্থ হাজরা,জিলা কমিটি সদস্য নবারুন নাথ,প্রতুল নাথ প্রমুখ।





