রাজ্যসভায় কেন্দ্রের তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য, উচ্চশিক্ষার আড়ালে কি বাড়ছে ডিগ্রি-প্রতারণা?
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৮ আগষ্টঃ উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর হাজার হাজার পড়ুয়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও অনলাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। কেউ পেশাগত ভবিষ্যৎ গড়তে চান, কেউ চাকরির যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে ডিগ্রি নিতে চান, আবার কেউ কর্মরত অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনলাইন বা দূরশিক্ষা পদ্ধতিকে বেছে নেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের আড়ালেই যদি লুকিয়ে থাকে ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অনুমোদনহীন ডিগ্রি কোর্সের ফাঁদ, তাহলে পড়ুয়ার ভবিষ্যৎই হয়ে উঠতে পারে অনিশ্চিত। দেশজুড়ে এমনই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ছবি সামনে এনেছে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক তথ্য। রাজ্যসভায় কেন্দ্র জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৩২টি ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয় চিহ্নিত করেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় এই প্রতিষ্ঠানগুলির নাম রয়েছে।
শুধু ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয় নয়, একই সঙ্গে কিছু এডটেক সংস্থার বিরুদ্ধে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে অনুমোদনহীন ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় অনলাইন ও ওপেন অ্যান্ড ডিস্ট্যান্স লার্নিং বা ওডিএল কোর্স পরিচালনার অভিযোগও সামনে এসেছে। ইউজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের অননুমোদিত ব্যবস্থায় অর্জিত ডিগ্রি স্বীকৃত হবে না। অর্থাৎ ভর্তি মরসুমে পড়ুয়াদের সামনে এখন শুধু পছন্দের বিষয় বা বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার প্রশ্ন নয়, তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছেন, সেটি আদৌ বৈধ কি না। রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার জানান, ইউজিসি নিয়মিতভাবে ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা হালনাগাদ করে। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান বেআইনিভাবে ডিগ্রি প্রদান করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি, কারণ দর্শানোর নোটিস এবং সতর্কতামূলক নোটিস জারি করা হয়েছে। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সচেতন করতে জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্যে স্পষ্ট, ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নিয়মিতভাবে এমন প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করতে হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। এখানেই উঠে আসছে বড় প্রশ্ন, যদি কোনও প্রতিষ্ঠান আইনসঙ্গত স্বীকৃতি ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে পড়ুয়া ভর্তি করে এবং ডিগ্রি দেওয়ার দাবি করে, তাহলে প্রশাসনের নজরদারি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?
ইউজিসির তালিকায় দিল্লিতে ১১টি ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব পাবলিক অ্যান্ড ফিজিক্যাল হেলথ সায়েন্সেস, কমার্শিয়াল ইউনিভার্সিটি লিমিটেড, ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি, ভোকেশনাল ইউনিভার্সিটি, এডিআর-সেন্ট্রিক জুরিডিক্যাল ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বিশ্বকর্মা ওপেন ইউনিভার্সিটি ফর সেলফ-এমপ্লয়মেন্ট, অধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়ার্ল্ড পিস অব ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটি এবং ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।
উত্তরপ্রদেশে চারটি এবং অন্ধ্রপ্রদেশে দুটি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও দুটি প্রতিষ্ঠানকে তালিকায় রাখা হয়েছে। এছাড়া হরিয়ানা, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, অরুণাচল প্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও পুদুচেরিতেও তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলির প্রচার, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং শিক্ষার্থী সংগ্রহের কার্যক্রম কতদিন ধরে চলছিল? কতজন পড়ুয়া ইতিমধ্যে সেখানে ভর্তি হয়েছেন? তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? যারা অর্থ খরচ করে কোর্স সম্পূর্ণ করেছেন, তাঁদের অবস্থাই বা কী? শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হল প্রতিষ্ঠানের নাম ও প্রচারের চাকচিক্য দেখে পড়ুয়া বা অভিভাবকদের বিভ্রান্ত হয়ে পড়া। কোনও প্রতিষ্ঠানের নামে ইউনিভার্সিটি, ইনস্টিটিউট, ওপেন ইউনিভার্সিটি বা আন্তর্জাতিক কোনও পরিচিত শব্দ থাকলেই সেটি আইনসঙ্গত বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি, ডিগ্রি প্রদানের ক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট কোর্সের অনুমোদন সবকিছুরই নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো রয়েছে।
এই জায়গাতেই পড়ুয়াদের সচেতনতার অভাবকে কাজে লাগাতে পারে অসাধু প্রতিষ্ঠান। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন, দ্রুত ডিগ্রি, অনলাইন ক্লাস, কম খরচে উচ্চশিক্ষা কিংবা চাকরিমুখী কোর্সের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পড়ুয়াদের আকৃষ্ট করা হতে পারে। কিন্তু কোর্স শেষ করার পর যদি দেখা যায় ডিগ্রিটি সরকারি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে স্বীকৃত নয়, তখন পড়ুয়ার হাতে থাকে শুধু সময় ও অর্থ হারানোর হতাশা। ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কেন্দ্র যে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছে, তা বর্তমান সময়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ।
অনলাইন শিক্ষার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এডটেক সংস্থার সংখ্যাও বেড়েছে। ঘরে বসে পড়াশোনা, ডিজিটাল ক্লাস, অনলাইন পরীক্ষা ও দূরশিক্ষার সুবিধা পড়ুয়াদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কিন্তু এই জনপ্রিয়তাকেই কাজে লাগিয়ে কিছু সংস্থা স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তির মাধ্যমে অনলাইন ও ওডিএল ডিগ্রি এবং ডিপ্লোমা কোর্স প্রচার করছে বলে ইউজিসির নজরে এসেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট, এই ধরনের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত নয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ধরনের অননুমোদিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্জিত ডিগ্রি স্বীকৃত হবে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এডটেক সংস্থা উভয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার বাজারে বিজ্ঞাপনের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে নানা ধরনের উচ্চশিক্ষার বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে।
ইউনিভার্সিটি সার্টিফিকেট, অনলাইন ডিগ্রি, চাকরিমুখী কোর্স, আন্তর্জাতিক ডিগ্রি এই ধরনের আকর্ষণীয় শব্দ পড়ুয়াদের সহজেই প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞাপনের ভাষা এবং সরকারি স্বীকৃতি এক জিনিস নয়। কোনও প্রতিষ্ঠান নিজেকে বড় বা প্রতিষ্ঠিত বলে দাবি করলেই সেই দাবি সত্যি হয়ে যায় না। ফলে শুধু বিজ্ঞাপন দেখে ভর্তি হওয়ার প্রবণতা বিপজ্জনক হতে পারে।
ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয় শনাক্ত করার পর নোটিস দেওয়া বা সতর্কবার্তা জারি করা অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কিন্তু প্রশ্ন হল, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কতটা কার্যকর?কোনও প্রতিষ্ঠান বেআইনিভাবে ডিগ্রি দেওয়ার আগেই তাকে শনাক্ত করা গেলে বহু পড়ুয়া প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে পারেন। কিন্তু কোনও প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালানোর পর তালিকাভুক্ত হলে ততদিনে বহু শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে যেতে পারেন।
এই কারণে শুধু পড়ুয়াদের সতর্ক করাই যথেষ্ট নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা, রাজ্য সরকার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে আরও দ্রুত সমন্বয় দরকার। কোথায় কোন প্রতিষ্ঠান চলছে, কী ধরনের কোর্স চালাচ্ছে, কী ধরনের ডিগ্রি দেওয়ার দাবি করছে এবং তাদের স্বীকৃতি কোথায়, এসব তথ্য সহজে যাচাই করার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়া জরুরি।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিব এবং শিক্ষা সচিবদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। প্রয়োজনে ভুয়ো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যগুলিকে নিজেদের এলাকায় আরও কোনও ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে ইউজিসিকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
এই নির্দেশের গুরুত্ব কম নয়। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন শুধু কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রকের বিষয় নয়; বাস্তবে কোনও প্রতিষ্ঠান কোথায় চলছে, কীভাবে পড়ুয়া ভর্তি করছে এবং কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এসব নজরদারিতেও রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা রয়েছে।
একজন পড়ুয়া যখন উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হন, তখন শুধু কোর্স ফি নয়, তাঁর সময়, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। ধরা যাক, কোনও পড়ুয়া কয়েক বছর ধরে একটি কোর্স করলেন। পরীক্ষা দিলেন, ফি জমা দিলেন, সময় ব্যয় করলেন। শেষে চাকরির আবেদন বা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সময় জানতে পারলেন তাঁর ডিগ্রিটি স্বীকৃত নয়।
তখন ক্ষতিটা শুধু কয়েক হাজার বা কয়েক লক্ষ টাকার নয়; নষ্ট হতে পারে কয়েক বছর। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির অভিঘাত আরও গভীর। পরিবারের সঞ্চয় খরচ করে সন্তানকে পড়ানো হয়। সেই ডিগ্রি যদি ভবিষ্যতে কোনও কাজে না আসে, তাহলে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তৈরি হয় মানসিক চাপ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা।
ইউজিসি জানিয়েছে, ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসি আইন, ১৯৫৬ লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য তাদের অ্যান্টি-ম্যালপ্র্যাকটিস সেল ১৯৯৬ সাল থেকেই কাজ করছে। অর্থাৎ এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নজরদারি নতুন কোনও উদ্যোগ নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ইউজিসি এই ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
তবে বর্তমান সময়ে অনলাইন শিক্ষা ও এডটেকের দ্রুত বিস্তারের ফলে নজরদারির ক্ষেত্রও আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ক্যাম্পাস ও স্থানীয় পরিকাঠামো ছিল, এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের পড়ুয়াকে ভর্তি করা সম্ভব। ফলে কোনও অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা কোর্সের প্রচার দ্রুত বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।
ভর্তির আগে কী করবেন পড়ুয়ারা? ইউজিসির সতর্কবার্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল—ভর্তির আগে স্বীকৃতি যাচাই করা। পড়ুয়াদের কোনও বিশ্ববিদ্যালয় বা অনলাইন/দূরশিক্ষা কোর্সে ভর্তি হওয়ার আগে ইউজিসি এবং ডিস্ট্যান্স এডুকেশন ব্যুরোর সরকারি পোর্টালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও কোর্সের অনুমোদন যাচাই করা উচিত। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত কি না, সেটাই যথেষ্ট নয়।
নির্দিষ্ট কোর্সটি অনলাইন বা দূরশিক্ষা পদ্ধতিতে চালানোর অনুমোদন রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি। দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে প্রতারণার সম্ভাবনাও। একদিকে বৈধ ও স্বীকৃত অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা পড়ুয়াদের নতুন সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে তার আড়ালে যদি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা ফ্র্যাঞ্চাইজি কোর্স সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাহলে গোটা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উপরই মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
৩২টি ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা তাই শুধু একটি সরকারি তালিকা নয়; এটি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সামনে একটি সতর্ক সংকেত। সরকারের কাছে এখন চ্যালেঞ্জ শুধু ভুয়ো প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা নয়, পড়ুয়া প্রতারিত হওয়ার আগেই তাদের রক্ষা করা। দ্রুত নজরদারি, কঠোর আইনি ব্যবস্থা, স্বচ্ছ তথ্যপ্রকাশ এবং সহজে যাচাইযোগ্য স্বীকৃতি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হতে পারে এর কার্যকর পথ। আর পড়ুয়া ও অভিভাবকদের জন্য বার্তা একটাই নাম দেখে নয়, স্বীকৃতি দেখে ভর্তি হন। বিজ্ঞাপনে নয়, সরকারি নথিতে আস্থা রাখুন। কারণ একটি ভুল ডিগ্রির মূল্য শুধু টাকা নয়, নষ্ট হতে পারে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বছর।





