গান্ধাইর দাসগ্রামে পুলিশের মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে কুড়ি লক্ষাধিক টাকার মাদক উদ্ধার, আটক মাদক কারবারি

উদ্ধার হওয়া ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকারও বেশি হবে বলে অনুমান তদন্তকারী মহলের। বৃহস্পতিবার গভীর গোপনীয়তা বজায় রেখে নিলামবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) আনন্দ মেধীর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী অভিযান চালায় গান্ধাই–দাসগ্রাম এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় ছিল মাদক পাচারচক্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এমন তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। অবশেষে পরিকল্পিত অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেয়ে একপ্রকার মাদক সিন্ডিকেটের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে নিলামবাজার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন খবর পাওয়ার পর থেকেই সন্দেহভাজনদের গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু করা হয়েছিল। এরপর নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই রিয়াজ উদ্দিনকে আটক করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধৃত ব্যক্তি বৃহত্তর মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং আন্তঃজেলা পর্যায়ে এই অবৈধ কারবার পরিচালনার সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকতে পারে।

পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বর্তমানে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তে ভয়ঙ্করভাবে ছড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা। বিশেষ করে যুব সমাজকে টার্গেট করে এই মৃত্যুবাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে একদল অসাধু চক্র। অর্থের লোভে সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া এই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক কারবারের জাল শুধু শহরাঞ্চলেই নয়, ধীরে ধীরে গ্রামাঞ্চলেও বিস্তার লাভ করেছে। ইয়াবা, ব্রাউন সুগার, গাঁজা সহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের সহজলভ্যতা কিশোর ও যুবকদের বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। বহু পরিবার আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধ অর্থ উপার্জনের নেশায় সমাজকে বিষিয়ে তুলছে নির্লজ্জভাবে।

এই পরিস্থিতিতে নিলামবাজার পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই থানার ওসি আনন্দ মেধীর নেতৃত্বে এলাকায় গরু চুরি, ঘর চুরি, ব্যাটারি চুরি এবং মাদক কারবারের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একাধিক অপরাধী ও মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করতেও সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

নিলামবাজার থানার ওসি আনন্দ মেধী ও তাঁর টিমের এই সাহসী এবং সফল অভিযানের জন্য এলাকার সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এভাবেই যদি নিরপেক্ষ ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকে, তবে খুব শীঘ্রই মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব হবে।

এদিকে ধৃত রিয়াজ উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক পাচারচক্রের আরও সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও হাতে এসেছে বলে সূত্রের খবর। ফলে আগামী দিনগুলিতে আরও বড় ধরনের অভিযান ও গ্রেপ্তারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Related Posts

মাদকমুক্ত বরাকের স্বপ্ন কি অধরাই থেকে যাবে? শিলচরে প্রকাশ্যে মাদকসেবনের অভিযোগে চাঞ্চল্য, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

ফাটক বাজার, সদর থানা পর্যন্ত ছড়ানো নেশার রমরমা, পুলিশি অভিযানের পরও থামছে না প্রবণতা বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ১০ জুনঃ বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলার সদর শহর শিলচরে মাদকসেবনের অভিযোগ সংবলিত…

লক্ষীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জয়পুর–হরিনগর সড়কের বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ জনতা, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় প্রশ্নের মুখে উন্নয়নের দাবি

বর্ষায় জলমগ্ন আর গ্রীষ্মে ধুলোর ঝড়, বছরের পর বছর সংস্কারহীন সড়কে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ১০ জুনঃ আধুনিক উন্নয়নের ঢক্কানিনাদ আর কাগুজে অগ্রগতির হিসাবের মাঝেই বাস্তবের…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *