প্রিপারেটরি স্তরে ছাত্রী, এসসি ও এসটি পড়ুয়াদের ভর্তি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, সরকারি তথ্যেই নেই স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ৩ আগষ্টঃ শিক্ষার মান উন্নয়ন, সর্বজনীন বিদ্যালয় শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার লক্ষ্যে একের পর এক সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষা নীতি(এনইপি) ২০২০ কার্যকর হয়েছে, সমগ্র শিক্ষা প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ভর্তির হার বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ধরে রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। উপরিভাগে সবকিছু স্বাভাবিক বলেই মনে হতে পারে।
কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যানের গভীরে প্রবেশ করতেই সামনে এসেছে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা। গুজরাটের সরকারি স্কুলের সংখ্যা গত পাঁচ বছরে প্রায় অপরিবর্তিত থেকেছে, বরং সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ একই সময়ে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি অর্থাৎ প্রিপারেটরি স্তরে ছাত্রী, তফসিলি জাতি (এসসি)এবং তফসিলি জনজাতি (এসটি) শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ভর্তির হার (গ্রস এন্ডরোলমেন্ট রেশিও জিইআর) উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে। ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই লোকসভায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক যে তথ্য উপস্থাপন করেছে, তাতে দেখা যায় ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে গুজরাটে সরকারি স্কুলের সংখ্যা ছিল ৩৪,৬৯৯টি। ২০২৩-২৪ সালে সেই সংখ্যা কমে ৩৪,৫৯৭-এ নেমে এলেও পরবর্তী দুই বছরে আবার বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে দাঁড়িয়েছে ৩৪,৭৩৪টিতে।
অর্থাৎ পাঁচ বছরে মোট বৃদ্ধি মাত্র ৩৫টি স্কুল। শতাংশের হিসেবে এই বৃদ্ধি মাত্র ০.১০ শতাংশ। তাই সরকারি স্কুলের সংখ্যা ভেঙে পড়েছে, এমন দাবি সরকারি তথ্য সমর্থন করে না। কিন্তু সেই একই তথ্য আবার দেখাচ্ছে, শিক্ষাব্যবস্থার ভিতরে এমন কিছু ঘটছে, যার ফলে বিশেষ করে প্রাথমিক স্তর থেকে পরবর্তী ধাপে উত্তরণের সময় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির পরিসংখ্যানে আর দেখা যাচ্ছে না।
এই বৈপরীত্যই এখন শিক্ষা বিশ্লেষকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ থেকে ২০২২-২৩ সালে গুজরাটে ৪৮টি সরকারি স্কুলের সংখ্যা কমে যায়। পরবর্তী বছরে আরও ৫৪টি কমে। পরে ২০২৪-২৫ সালে ৪১টি এবং ২০২৫-২৬ সালে আরও ৯৬টি স্কুল যুক্ত হয়। ফলে বর্তমান সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও এই ওঠানামার প্রকৃত কারণ সরকারি তথ্যে স্পষ্ট করা হয়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্যে কোথাও স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি—কতগুলি বিদ্যালয় স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে, কতগুলি একীভূত (মার্জ) করা হয়েছে, কতগুলি নতুন বিদ্যালয় চালু হয়েছে কিংবা কতগুলি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে কেবল মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যার ভিত্তিতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র বা বাস্তব অবস্থা মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।
বরং এই মৌলিক তথ্যগুলির অনুপস্থিতি শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে এবং সরকারি পরিসংখ্যানের পূর্ণাঙ্গতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও সংশয় তৈরি করছে গুজরাটের শিক্ষাতথ্যে যে অংশটি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করছে, তা হলো তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির সামগ্রিক ভর্তির হার। ফাউন্ডেশনাল স্তরে ছাত্রীদের জিইআর এক বছরে ৩৬.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৮ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রথম নজরে এটি ইতিবাচক অগ্রগতি বলেই মনে হয়।
কিন্তু সেই শিক্ষার্থীরাই যখন প্রিপারেটরি স্তরে পৌঁছাচ্ছে, তখন ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যাচ্ছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ছাত্রীদের জিইআর ৯৫.৮ শতাংশ থেকে কমে ৭৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ১৯.৩ শতাংশ পয়েন্টের পতন। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ সমস্যাটি কোনও একক গোষ্ঠীর নয়, বরং শিক্ষা ব্যবস্থার একটি নির্দিষ্ট স্তরে বিস্তৃতভাবে প্রভাব ফেলছে। এই তথ্যগুলিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠলেও একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি। লোকসভায় উপস্থাপিত সরকারি তথ্য কোথাও বলেনি যে স্কুল বন্ধ বা একীভূত করার কারণেই জিইআর কমেছে।
সরকার কেবল স্কুলের সংখ্যা, জিইআর এবং রিটেনশন সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছে। এর বাইরে কোনও কারণগত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়নি। অর্থাৎ স্কুল একীভূত হওয়ার ফলে যাতায়াতের দূরত্ব বেড়েছে, সেই কারণে ভর্তি কমেছে, এমন সিদ্ধান্ত সরকারি তথ্য থেকে টানা যায় না। তবে এটাও সত্য, এই পরিসংখ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে, যদি সরকারি স্কুলের সংখ্যা মোটামুটি স্থিতিশীল থাকে, তবে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে এত বড় সংখ্যায় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার কেন কমে গেল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই এখন শিক্ষানীতি নির্ধারকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
গুজরাটের শিক্ষা-পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো, একটি নয়, বরং তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেই একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছাত্রী, তফসিলি জাতি(এসসি) এবং তফসিলি জনজাতি(এসটি) এই তিন গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ভর্তির হারে (জিইআর) প্রিপারেটরি স্তরে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। প্রথম নজরে ফাউন্ডেশনাল স্তরের তথ্য আশাব্যঞ্জক। সেখানে ছাত্রীদের জিইআর ৩৬.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৮ শতাংশে পৌঁছেছে। একইভাবে এসসি শিক্ষার্থীদের জিইআর ৩১.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১.৫ শতাংশ এবং এসটি শিক্ষার্থীদের জিইআর ৩৪.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৪.৬ শতাংশ হয়েছে।
প্রিপারেটরি স্তরে পৌঁছাতেই ছাত্রীদের জিইআর ৯৫.৮ শতাংশ থেকে কমে ৭৬.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে এসসি শিক্ষার্থীদের জিইআর ৮৭ শতাংশ থেকে কমে ৬৭.৮ শতাংশ এবং এসটি শিক্ষার্থীদের জিইআর ৯৬.৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তিনটি ক্ষেত্রেই প্রায় ১৯ শতাংশ পয়েন্টের পতন কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি শিক্ষা ব্যবস্থার একটি নির্দিষ্ট স্তরে বিদ্যমান সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে, মিডল স্তরে জিইআর-এর পতন তুলনামূলকভাবে সীমিত।
আবার সেকেন্ডারি স্তরে তিন গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেই কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। অর্থাৎ মূল চাপের জায়গাটি তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির মধ্যবর্তী পর্যায়। এই প্রবণতা শিক্ষাবিদদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রবেশের পর শিক্ষার্থীদের এই পর্যায়ে কী ঘটছে, তা বিশদভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।
তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের উপস্থাপিত তথ্যে কোথাও বলা হয়নি যে এই পতনের জন্য কোনও নির্দিষ্ট কারণ দায়ী। ফলে স্কুল একীভূতকরণ, অভিবাসন, সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যা, বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর অসুবিধা অথবা তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতির পরিবর্তন এসবের কোনওটিকেই সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
সরকার নিজেও জানিয়েছে, স্কুল খোলা, একীভূত করা কিংবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের এখতিয়ারের বিষয়। একই সঙ্গে জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) ২০২০-এ বলা হয়েছে, স্কুল একীভূত করার সিদ্ধান্ত এমনভাবে নিতে হবে যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় প্রবেশাধিকার কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়। ফলে এখন প্রয়োজন মাঠপর্যায়ের তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান, যাতে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।তৃতীয় পর্ব
গুজরাটের শিক্ষাতথ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য ধরা পড়েছে। একদিকে প্রিপারেটরি স্তরে সামগ্রিক ভর্তির হার কমছে, অন্যদিকে ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার হার (রিটেনশন রেট) উন্নত হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে রিটেনশন টানা দুই বছর ১০০ শতাংশ রয়েছে। এলিমেন্টারি স্তরে সামান্য পরিবর্তন হলেও তা প্রায় স্থিতিশীল। সেকেন্ডারি স্তরে রিটেনশন ৬৯.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০.৬ শতাংশ হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে, যেখানে রিটেনশন ৪৪.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, যারা শিক্ষা ব্যবস্থায় টিকে থাকতে পারছে, তারা আগের তুলনায় উচ্চতর স্তরে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন থেকে যায়—যদি রিটেনশন বাড়ে, তাহলে প্রিপারেটরি স্তরে জিইআর এত দ্রুত কেন কমছে?
কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, সমগ্র শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ভর্তি বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ধরে রাখার জন্য একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবুও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, কেবল প্রকল্প চালু থাকলেই কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে, এমন বলা যাচ্ছে না। গুজরাটের এই তথ্য কেবল একটি রাজ্যের শিক্ষাচিত্র নয়, এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কারণ শিক্ষা কেবল বিদ্যালয়ের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না।
প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে কতজন শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে, কতজন নিয়মিত পড়াশোনা করছে এবং কতজন শেষ পর্যন্ত শিক্ষা সম্পন্ন করছে তার উপর। তাই এখন প্রয়োজন আরও বিস্তারিত জেলা-ভিত্তিক তথ্য, সামাজিক গোষ্ঠীভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ে স্বাধীন মূল্যায়ন। তবেই বোঝা যাবে, প্রিপারেটরি স্তরে এই পতনের পেছনে প্রকৃত কারণ কী।
সরকারি তথ্য আপাতত একটি বিষয়ই স্পষ্ট করছে, গুজরাটে সরকারি স্কুলের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ছাত্রী, এসসি এবং এসটি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ভর্তির হারের উল্লেখযোগ্য পতন নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। এই প্রবণতার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার সর্বজনীনীকরণের লক্ষ্য অর্জন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
গুজরাটের শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিদ্যালয়ের সংখ্যা নয়, বরং প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং প্রাথমিক থেকে পরবর্তী স্তরে নির্বিঘ্ন উত্তরণ নিশ্চিত করা। এই প্রশ্নের উত্তরই আগামী দিনের শিক্ষানীতির সাফল্য নির্ধারণ করবে।এই তিনটি পর্ব একত্র করলে একটি পূর্ণাঙ্গ, সংবাদপত্রে প্রকাশযোগ্য বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি হবে।
গুজরাটের শিক্ষাতথ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য ধরা পড়েছে। একদিকে প্রিপারেটরি স্তরে সামগ্রিক ভর্তির হার কমছে, অন্যদিকে ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার হার (রিটেনশন রেট) উন্নত হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে রিটেনশন টানা দুই বছর ১০০ শতাংশ রয়েছে। এলিমেন্টারি স্তরে সামান্য পরিবর্তন হলেও তা প্রায় স্থিতিশীল। সেকেন্ডারি স্তরে রিটেনশন ৬৯.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭০.৬ শতাংশ হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে, যেখানে রিটেনশন ৪৪.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে।
এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, যারা শিক্ষা ব্যবস্থায় টিকে থাকতে পারছে, তারা আগের তুলনায় উচ্চতর স্তরে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন থেকে যায়, যদি রিটেনশন বাড়ে, তাহলে প্রিপারেটরি স্তরে জিইআর এত দ্রুত কেন কমছে? কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, সমগ্র শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ভর্তি বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ধরে রাখার জন্য একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবুও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, কেবল প্রকল্প চালু থাকলেই কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে, এমন বলা যাচ্ছে না।
গুজরাটের এই তথ্য কেবল একটি রাজ্যের শিক্ষাচিত্র নয়, এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কারণ শিক্ষা কেবল বিদ্যালয়ের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে কতজন শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে, কতজন নিয়মিত পড়াশোনা করছে এবং কতজন শেষ পর্যন্ত শিক্ষা সম্পন্ন করছে তার উপর। তাই এখন প্রয়োজন আরও বিস্তারিত জেলা-ভিত্তিক তথ্য, সামাজিক গোষ্ঠীভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ে স্বাধীন মূল্যায়ন। তবেই বোঝা যাবে, প্রিপারেটরি স্তরে এই পতনের পেছনে প্রকৃত কারণ কী।
সরকারি তথ্য আপাতত একটি বিষয়ই স্পষ্ট করছে, গুজরাটে সরকারি স্কুলের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ছাত্রী, এসসি এবং এসটি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ভর্তির হারের উল্লেখযোগ্য পতন নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত।
এই প্রবণতার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার সর্বজনীনীকরণের লক্ষ্য অর্জন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। গুজরাটের শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিদ্যালয়ের সংখ্যা নয়, বরং প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং প্রাথমিক থেকে পরবর্তী স্তরে নির্বিঘ্ন উত্তরণ নিশ্চিত করা। এই প্রশ্নের উত্তরই আগামী দিনের শিক্ষানীতির সাফল্য নির্ধারণ করবে।





