শিলচর মেডিকেল কলেজের হাসপাতাল চত্বরে পার্কিং-বিতণ্ডায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম অ্যাম্বুলেন্স চালক
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ১আগষ্ট, ২০২৬: শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চত্বরে শুক্রবার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পার্কিংকে কেন্দ্র করে দুই অ্যাম্বুলেন্স চালকের মধ্যে শুরু হওয়া বাগ্বিতণ্ডা মুহূর্তের মধ্যেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন রাজু কর নামে এক অ্যাম্বুলেন্স চালক। ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিংকে কেন্দ্র করে রাজু কর ও বাপ্পু লস্করের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। অভিযোগ, একপর্যায়ে বাপ্পু লস্কর ধারালো অস্ত্র বের করে রাজু করের উপর হামলা চালান। তাঁর শরীরের পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে আঘাত লাগে বলে জানা গেছে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাজু কর। তাঁকে বাঁচাতে ছুটে আসেন হাসপাতালের কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী। তবে হামলাকারীকে আটকাতে গিয়ে তাঁরাও আহত হন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
গুরুতর আহত রাজু করকে দ্রুত শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্ত বাপ্পু লস্করকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতের বাড়ি শিলচরের আতাল বস্তি এলাকায়, আর আহত রাজু কর দুর্গাপল্লীর বাসিন্দা।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বজরং দলের কর্মীরা হাসপাতালে পৌঁছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। কিছু সময়ের জন্য হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পুলিশি তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিদিন শত শত রোগী, তাঁদের পরিজন এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা যাতায়াত করেন এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কীভাবে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
হাসপাতাল চত্বরে পার্কিং ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা নজরদারি এবং অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। পুলিশ ইতিমধ্যে একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হামলার প্রকৃত কারণ, ঘটনার পেছনে অন্য কোনও বিরোধ ছিল কি না এবং নিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






