৮,৩৯৪ কোটি চেয়েও মিলেছে মাত্র ২০৫ কোটি! বন্যা ত্রাণে কেন্দ্র-রাজ্যকে একসঙ্গে নিশানা গৌরব গগৈর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এ করা এক দীর্ঘ পোস্টে গৌরব গগৈ জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল (এনডিআরএফ) থেকে অসম ৮,৩৯৩.৯৮ কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে অনুমোদিত হয়েছে মাত্র ২০৫.৩১ কোটি টাকা, যা মোট দাবিকৃত অর্থের প্রায় ২.৪ শতাংশ। গগৈর মতে, বারবার ভয়াবহ বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত একটি রাজ্যের জন্য এই পরিমাণ আর্থিক সহায়তা অত্যন্ত অপ্রতুল। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় এত কম অর্থ বরাদ্দ হওয়ায় বন্যা মোকাবিলা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে।

তবে কংগ্রেস নেতা শুধু কেন্দ্রকেই দায়ী করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের গাফিলতি রয়েছে। ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহা হিসাব নিরীক্ষক (সিএজি)এর প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল (এসডিআরএফ) এ ১,১১২ কোটি টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। শুধু তাই নয়, রাজ্য দুর্যোগ প্রশমন তহবিল (স্টেট ডিজাস্টার মিটিগেশন ফান্ড) এর আরও ৩৪২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়নি। অর্থাৎ দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য উপলব্ধ মোট ১,৪৫৪ কোটি টাকা সময়মতো কাজে লাগানো যায়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

গৌরব গগৈ বলেন, কেন্দ্রের বিদ্যমান দুর্যোগ সহায়তা নীতিমালা অনুযায়ী, কোনও রাজ্যের এসডিআরএফ-এ বিপুল অঙ্কের অর্থ অব্যবহৃত থাকলে, সেই অব্যবহৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ অনুমোদিত এনডিআরএফ সহায়তা থেকে সমন্বয় করা হয়। ফলে রাজ্য যদি নিজস্ব তহবিলই ব্যয় করতে না পারে, তাহলে নতুন আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়। তিনি বলেন, ত্রাণ তহবিলের প্রতিটি অব্যবহৃত টাকার মূল্য শেষ পর্যন্ত দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। যখন বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন, তখন তহবিলের অর্থ অব্যবহৃত পড়ে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ, অসমে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার পরিবারের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। তিনি জানান, পঞ্চদশ অর্থ কমিশন এনডিআরএফ এর রিকভারি অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন শাখার আওতায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করেছিল। লোকসভায় তাঁর করা এক প্রশ্নের জবাব উদ্ধৃত করে গগৈ বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে অসম সরকারের ৫২৬ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুমোদিত হলেও, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) তা সংশোধনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে ফেরত পাঠায়। তাঁর প্রশ্ন, সেই প্রস্তাব পরে সংশোধন করে পুনরায় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে কি না, অথবা কেন্দ্র কবে এই অর্থ ছাড় করবে, এ বিষয়ে সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি।

এদিকে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি মাঠপর্যায়েও সক্রিয় দেখা যায় গৌরব গগৈকে। শুক্রবার তিনি মারিয়ানি বিধানসভা এলাকার বন্যাকবলিত ধনতুলা গ্রামসহ একাধিক এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং বহু পরিবার এখনও চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের পুনর্নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন, বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং হাহসোরা চেতিয়া গাঁও ও পানিগাঁও-এর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার খোঁজ নেন। পরে তিনি প্রশাসনের কাছে দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, বাঁধ মেরামত এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ও নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

গৌরব গগৈর এই অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রের কাছ থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার প্রশ্ন, অন্যদিকে রাজ্যের হাতে থাকা তহবিলের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার অভিযোগ, উভয় বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অসম সরকার বা কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।

Related Posts

নেতা-আমলাদের গাড়ির সাইরেনেই শেষ চিকিৎসা? পরিদর্শনের নামে বড় বড় কথা, কাজের বেলায় অশ্বডিম্ব!

২৫টি পদ খালি রেখে কেমন মডেল পরিষেবা? পেটে সন্তান নিয়ে শিলচরে ছুটছেন মায়েরা, নীরব বিধায়ক ও জেলা প্রশাসন বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ১আগষ্ট, ২০২৬: কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঝকঝকে অট্টালিকা আজও মাথা…

কাছাড়ের জয়নগর কুমারপাড়ায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

একজনকে বাঁচাতে গিয়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে একে একে নিভে গেল ৪টি তাজা প্রাণ, বাড়ির মালিক আটক, এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক, ১আগষ্ট, ২০২৬: নিরাপত্তা সরঞ্জামের ছিটেফোঁটাও ছিল না, ছিল…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *