এখন মুখ বন্ধ রাখছি, চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টের পরেই বিস্তারিত জবাবের আশ্বাস
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৮ জুলাইঃ শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরের অনুদান ব্যবস্থাপনাকে ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে খোলা চিঠির মাধ্যমে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মন্দির ট্রাস্টের পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। রামভক্তদের উদ্দেশে লেখা তাঁর চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তিনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করবেন না।
চম্পত রাই তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেন যে, ২০২৬ সালের ৭ জুন থেকে শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির চত্বরে দানবাক্সের অর্থ গণনার সময় সংঘটিত কথিত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের আলোচনা, জল্পনা ও গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি আনা হয়েছে, সেগুলির কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। তাই তিনি আপাতত নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অযোধ্যার শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরের সার্বিক পরিচালনার দায়িত্ব ট্রাস্টের উপর ন্যস্ত। মন্দির নির্মাণের শুরু থেকে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে চম্পত রাই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই কারণেই অনুদান ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক সামনে আসার পর তাঁর ভূমিকাও জনমহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে তদন্তকারী সংস্থা তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে এই জিজ্ঞাসাবাদকে কোনও অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না এবং তদন্ত এখনও চলমান।
চিঠিতে তিনি আরও জানান যে, ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের বৈঠকে বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই প্রাথমিক রিপোর্ট এখন জনসমক্ষে এসেছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি ঘটনাক্রম অনুসারে প্রতিটি প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেবেন এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন।
নিজের সততা সম্পর্কে আস্থা প্রকাশ করে চম্পত রাই লিখেছেন যে তাঁর দীর্ঘ জনজীবন সকলের কাছেই উন্মুক্ত। প্রায় ৪৫ বছরের প্রচারক জীবনে তিনি যেখানেই কাজ করেছেন, সেখানে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন বলেই তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, “সত্য শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হবেই।”
অন্যদিকে, তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনুদান গণনার সময় অর্থ আত্মসাতের সম্ভাব্য কিছু অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে। কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজে নোটের বান্ডিল বা নগদ অর্থ সরিয়ে রাখার একাধিক সন্দেহজনক ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু ঘাটতিও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত তথ্য এখনও তদন্তাধীন এবং কোনও আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই দেশজুড়ে রামভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। একই সঙ্গে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই তাঁর অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও আইন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
এখন সবার নজর উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তদন্ত এবং এসআইটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকে। সেই রিপোর্ট প্রকাশের পরই অভিযোগগুলির প্রকৃত সত্যতা, দায়-দায়িত্ব এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ততদিন পর্যন্ত এই ঘটনাকে তদন্তাধীন বিষয় হিসেবেই দেখা উচিত এবং অভিযোগ ও আত্মপক্ষ সমর্থন—উভয় পক্ষকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।





