জেপি দাস গ্রেফতারের পর কড়া পদক্ষেপ, জেলাজুড়ে অবৈধ স্পা ও হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদারের ঘোষণা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রজত কুমারের
বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ১ জুলাইঃ বহুদিন ধরেই নানা অভিযোগ ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিলচর–হাফলং জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত বহুচর্চিত পারিজাত রেস্টুরেন্ট-কাম-স্পা-র দরজায় অবশেষে ঝুলল প্রশাসনের সিল। মঙ্গলবার পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠানটি সিল করে দেয়। অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন কাছাড় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রজত কুমার পাল।
তাঁর উপস্থিতিতেই প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই এই প্রতিষ্ঠানে পুলিশের অভিযানে অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ডক্টর জেপি দাসকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা চলছিল। মঙ্গলবারের এই অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিল জেলা প্রশাসন ও পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং অবৈধ কার্যকলাপের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত কোনও প্রতিষ্ঠানকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রজত কুমার পাল জানান, জেলার বিভিন্ন হোটেল, স্পা ও অনুরূপ প্রতিষ্ঠানে অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আইন লঙ্ঘন করে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পারিজাত রেস্টুরেন্ট-কাম-স্পা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলে অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, জাতীয় সড়কের ধারে প্রকাশ্যে এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। অবশেষে প্রতিষ্ঠানটি সিল হওয়ায় অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। যদি অভিযোগের ভিত্তিতে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এত বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে জেলার অন্যান্য বিতর্কিত হোটেল, গেস্ট হাউস ও স্পা সেন্টারগুলির ক্ষেত্রেও কি একই ধরনের নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? নাকি কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় আইনের প্রয়োগ ভিন্ন হবে? এই প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
সমাজের বিভিন্ন মহলের মতে, অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অভিযান অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে অভিযান যেন কেবল আলোচিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জেলার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। তবেই সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে এবং প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবে প্রতিফলিত হবে।
প্রশাসনের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়েছে যে, আইন ভঙ্গ করে ব্যবসা পরিচালনা বা সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য কোনও প্রতিষ্ঠানকে আর নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযান আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হয় কি না এবং অভিযোগের মুখে থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।






