পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য কামব্যাক! মাইজডিধিকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে ৪-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল ইউনাইটেড ইলেভেন

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ প্রথমার্ধের চরম ধাক্কা আর পিছিয়ে পড়ার হতাশা এক নিমেষে ধুয়েমুছে সাফ! বিরতির পর রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে দিল ইউনাইটেড ইলেভেন। শ্রীভূমি জেলা ক্রীড়া সংস্থা (ডিএসএ) পরিচালিত মর্যাদাপূর্ণ বি ডিভিশন ফুটবল লিগের এক রোমাঞ্চকর ও প্রাণোচ্ছ্বল ম্যাচে মাইজডিহি স্পোর্টস ক্লাবকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে দাপুটে জয় তুলে নিল ইউনাইটেড ইলেভেন। সরকারি স্কুলের কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং মাঠে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে শুরুতে মাইজডিহি চমক সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার কাছে খেই হারিয়ে বড় ব্যবধানে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে ঝোড়ো প্রত্যাবর্তন এবং গোলের জোয়ার
কোচ ও ম্যানেজমেন্টের স্ট্র্যাটেজিক পরিবর্তন এবং ড্রেসিংরুমের রুদ্ধদ্বার আলোচনা যে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি মাইজডিহি ডিফেন্স। বিরতির পর মাঠে নেমেই অন্য মেজাজে ধরা দেয় ইউনাইটেড ইলেভেন। মাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের কবজায় নিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতে শুরু করে তারা।

ম্যাচের ৬৪ মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায় ইউনাইটেড ইলেভেন। দলের গোলমুখ খুলে দেন তারকা ফরোয়ার্ড লামগচিয়াং দাঙ্গলৈ। তাঁর চোখ জুড়ানো শট মাইজডিঝির গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়, এবং ১-১ গোলে ম্যাচে সমতা ফেরে।

এই সমতা ফেরানোর রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে ফের গোল! ৬৬ মিনিটে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি পাল্টে দিয়ে ব্যবধান ২-১ করে দেন দলের আরেক ক্ষুরধার ফরোয়ার্ড শহিদুল্লাহ। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে দিশেহারা করে পরপর দুটি গোল হজম করে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মাইজডিহি।

এই জোড়া ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগই দেয়নি ইউনাইটেড ইলেভেন। ম্যাচের ৭২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন সেই অনবদ্য লামগচিয়াং দাঙ্গলৈ। ঠিক তার পরের মিনিটেই, অর্থাৎ ৭৩ মিনিটে ফের জালের ঠিকানা খুঁজে নেন অপ্রতিরোধ্য শহিদুল্লাহ। তিনিও জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ব্যবধান ৪-১ এ পৌঁছে দেন। মাত্র দশ মিনিটের ঝোড়ো ফুটবল প্রদর্শনীতে ম্যাচের রঙ পুরোপুরি বদলে যায়।

খেলার সুশৃঙ্খল ও নিরপেক্ষ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অভিজ্ঞ রেফারি মহম্মদ ইউনুস। অত্যন্ত দক্ষ হাতে পুরো ম্যাচটি পরিচালনা করেন তিনি। তাঁকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেন সহকারী রেফারি যীশু দাস, মহবুবুল হামিদ চৌধুরী এবং মহম্মদ আবদুল্লাহ। খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা বজায় রেখে নিখুঁত রেফারিং ম্যাচটিকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।

Related Posts

কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের হাতে ‘যোগ উৎসব স্মারক’ তুলে সম্মান জ্ঞাপন কেওয়াইবিসি ফাউন্ডেশন ও ইনস্টিটিউট অব যোগ এডুকেশনের

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ সুস্থ ও রোগমুক্ত সমাজ গঠনে যোগব্যায়ামের বিকল্প নেই। শরীর ও মনের নিগূঢ় সংযোগ স্থাপন করে সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বরাক উপত্যকায় জোরকদমে কাজ করে…

প্রথম ফ্রিডম কাপ তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপের বর্ণাঢ্য সূচনা শিলচরে

দুই শতাধিক খুদে ও তরুণ প্রতিযোগীর পদচারণায় মুখর রংপুরের প্রদীপ ভবন ও সদরঘাট চত্বর বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩১ আগষ্টঃ খেলাধুলার প্রতি অগাধ উদ্দীপনা, শারীরিক ও মানসিক শৃঙ্খলা এবং তরুণ প্রজন্মের…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *