বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ প্রথমার্ধের চরম ধাক্কা আর পিছিয়ে পড়ার হতাশা এক নিমেষে ধুয়েমুছে সাফ! বিরতির পর রূপকথার মতো ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে দিল ইউনাইটেড ইলেভেন। শ্রীভূমি জেলা ক্রীড়া সংস্থা (ডিএসএ) পরিচালিত মর্যাদাপূর্ণ বি ডিভিশন ফুটবল লিগের এক রোমাঞ্চকর ও প্রাণোচ্ছ্বল ম্যাচে মাইজডিহি স্পোর্টস ক্লাবকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে দাপুটে জয় তুলে নিল ইউনাইটেড ইলেভেন। সরকারি স্কুলের কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং মাঠে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে শুরুতে মাইজডিহি চমক সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার কাছে খেই হারিয়ে বড় ব্যবধানে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় তারা।
প্রথমার্ধে মাইজডিঝির চমক ও লিড নেওয়ার উল্লাস
এদিনের ম্যাচের শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল গ্যালারিতে উপস্থিত ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। দুই দলের পদাঘাতের শব্দে সরগরম হয়ে ওঠে সরকারি স্কুলের সবুজ মাঠ। প্রথম পঁয়ত্রিশ মিনিটে দুই দলই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালালেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী প্রথম মুহূর্তটি আসে ৩৩ মিনিটে। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের সামান্য ভুুলের সুযোগ নিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন মাইজডিহি স্পোর্টস ক্লাবের ফুটবলার সনাতন দাস। তাঁর এই দুর্দান্ত গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে মাইজডিহি শিবির। প্রথমার্ধের বাকি সময় জুড়ে ইউনাইটেড ইলেভেনের আক্রমণভাগের ফুটবলাররা মরিয়া হয়ে সমতা ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও মাইজডিঝির দুর্ভেদ্য রক্ষণ প্রাচীর ভাঙতে পারেনি তারা। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে বাধ্য হয় ইউনাইটেড ইলেভেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ঝোড়ো প্রত্যাবর্তন এবং গোলের জোয়ার
কোচ ও ম্যানেজমেন্টের স্ট্র্যাটেজিক পরিবর্তন এবং ড্রেসিংরুমের রুদ্ধদ্বার আলোচনা যে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি মাইজডিহি ডিফেন্স। বিরতির পর মাঠে নেমেই অন্য মেজাজে ধরা দেয় ইউনাইটেড ইলেভেন। মাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের কবজায় নিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতে শুরু করে তারা।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায় ইউনাইটেড ইলেভেন। দলের গোলমুখ খুলে দেন তারকা ফরোয়ার্ড লামগচিয়াং দাঙ্গলৈ। তাঁর চোখ জুড়ানো শট মাইজডিঝির গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়, এবং ১-১ গোলে ম্যাচে সমতা ফেরে।
এই সমতা ফেরানোর রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে ফের গোল! ৬৬ মিনিটে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি পাল্টে দিয়ে ব্যবধান ২-১ করে দেন দলের আরেক ক্ষুরধার ফরোয়ার্ড শহিদুল্লাহ। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে দিশেহারা করে পরপর দুটি গোল হজম করে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মাইজডিহি।
এই জোড়া ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগই দেয়নি ইউনাইটেড ইলেভেন। ম্যাচের ৭২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন সেই অনবদ্য লামগচিয়াং দাঙ্গলৈ। ঠিক তার পরের মিনিটেই, অর্থাৎ ৭৩ মিনিটে ফের জালের ঠিকানা খুঁজে নেন অপ্রতিরোধ্য শহিদুল্লাহ। তিনিও জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ব্যবধান ৪-১ এ পৌঁছে দেন। মাত্র দশ মিনিটের ঝোড়ো ফুটবল প্রদর্শনীতে ম্যাচের রঙ পুরোপুরি বদলে যায়।
ম্যাসের সেরা লামগচিয়াং দাঙ্গলৈ এবং অফিশিয়ালদের দায়িত্বশীল ভূমিকা
এদিনের ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য এবং জোড়া গোল উপহার দেওয়ায় ইউনাইটেড ইলেভেনের হিরো লামগচিয়াং দাঙ্গলৈকে সর্বসম্মতভাবে ‘ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়’ ঘোষণা করা হয়। ম্যাচ শেষে তাঁর হাতে গৌরবময় এই পুরস্কার ও স্মারক তুলে দেন শ্রীভূমি ডিএসএর বিশিষ্ট প্রাক্তন রেফারি তথা শাখা সচিব কিশোর দাস। তরুণ এই ফুটবলারের পারফরম্যান্স মাঠে উপস্থিত দর্শকদেরও মুগ্ধ করে।
খেলার সুশৃঙ্খল ও নিরপেক্ষ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অভিজ্ঞ রেফারি মহম্মদ ইউনুস। অত্যন্ত দক্ষ হাতে পুরো ম্যাচটি পরিচালনা করেন তিনি। তাঁকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেন সহকারী রেফারি যীশু দাস, মহবুবুল হামিদ চৌধুরী এবং মহম্মদ আবদুল্লাহ। খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা বজায় রেখে নিখুঁত রেফারিং ম্যাচটিকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
আগামীকালের আকর্ষণ
শ্রীভূমি ডিএসএর বি ডিভিশন লিগের এই হাড্ডাহাড্ডি উত্তেজনার পর আগামীকাল আরও একটি আকর্ষণীয় ও জমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে ক্রীড়ামোদী দর্শকরা। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামবে পানিঘাট ভাই ভাই ক্লাব এবং ভাইকিং স্পোর্টস ক্লাব। রোমাঞ্চকর এই মহারণের সাক্ষী থাকতে এখন থেকেই মুখিয়ে রয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা।






