শিলচর বাইপাসে পুলিশের অভিযানে ২২৫০ কেজি বার্মিজ সুপারি বোঝাই লরি আটক, গ্রেফতার এক

শিলচর বাইপাস রোডের বুকে ধৃত এই সুপারি বোঝাই গাড়ি এবং ধৃত চালককে কেন্দ্র করে এখন গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে শুরু করে স্থানীয় সিন্ডিকেটের হাত ধরে চলা এই অবৈধ বাণিজ্যের জাল ঠিক কতদূর বিস্তৃত, তা নিয়েই এখন জোর জল্পনা চলছে সচেতন মহলে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, বরাক উপত্যকার বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মিজোরাম কিংবা প্রতিবেশী দেশ থেকে বার্মিজ সুপারির অবৈধ চালান পাচার হয়ে আসছে। মঙ্গলবার গোপন সূত্রে খবর আসে যে, বিশাল অঙ্কের বার্মিজ সুপারির একটি গোপন চালান শিলচর বাইপাস হয়ে বেরিয়ে যাবে। এই খবর পাওয়ার পরেই পুলিশ সুপার মহলের নির্দেশে তৎপর হয়ে ওঠে স্থানীয় থানা ও ট্রাফিক উইংয়ের একটি বিশেষ দল।

শিলচর বাইপাস রোডের নির্দিষ্ট একটি পয়েন্টে ওত পেতে বসে থাকে পুলিশ। কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্দেহভাজন একটি টাটা যোদ্ধা গাড়ি ওই পথ দিয়ে দ্রুত গতিতে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশি ব্যারিকেড দিয়ে সেটিকে আটকে ফেলা হয়। চালককে জেরা করে ও গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

গাড়ির ডালা ও কেবিন তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালিয়ে একের পর এক মোট ৪৫টি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। ওই বস্তাগুলি খুলে দেখা যায়, তার ভেতরে ঠাসা রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের নিষিদ্ধ বার্মিজ সুপারি। যার মোট ওজন প্রায় ২,২৫০ কেজি বা সাড়ে দুই টন।

এত বিপুল পরিমাণ চোরাই সুপারি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এর আসল গন্তব্য কোথায় ছিল, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চালক সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। এরপরই পুলিশ গাড়িটিকে জব্দ করার পাশাপাশি সুপারি চোরাচালানের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।

বরাক উপত্যকার বুক চিরে চলা এই বার্মিজ সুপারির ব্যবসা নতুন কিছু নয়। অতীতেও বহুবার পুলিশ বিভিন্ন তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ সুপারি উদ্ধার করেছে, গ্রেফতার হয়েছে ছোটখাটো বাহক বা চালকরা। কিন্তু সুপারি চোরাচালানের আসল গডফাদার বা মাস্টারমাইন্ডরা বরাবরই আইনের ফাঁক গলে অধরা থেকে যায়।

বাইপাসে ধৃত এই চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ এখন সুপারি চক্রের মূল পান্ডাদের পাকড়াও করতে মাঠে নেমেছে। এই চালানের পেছনে কোনো রাঘববোয়ালের হাত রয়েছে কি না এবং কোন কোন রুট ব্যবহার করে এই মাল ঢুকছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ মাঝেমধ্যে এই ধরনের ছোট-বড় চালান আটক করলেও কেন স্থায়ীভাবে এই অবৈধ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না? পুলিশি কড়াকড়ি সত্ত্বেও কীভাবে একের পর এক লরি বা ছোট গাড়িতে করে এই অবৈধ সামগ্রী অবাধে পারাপার করছে চক্রটি? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন শিলচর পুলিশ প্রশাসনের আগামী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বরাক উপত্যকাবাসী।

Related Posts

শিলচরে ব্যবসার নামে লোভনীয় লভ্যাংশের ফাঁদ পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শিলচরের বেরেঙ্গার সাদ্দামের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

গ্রেপ্তারির পর জামিনে বেরিয়ে সামাজিক বিচারসভার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ; ২৫ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই উধাও প্রতারক। বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলচরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি…

পাথারকান্দির ছাগলময়ায় গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে অটোচালক ও মহিলা যাত্রীকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ।

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ আসামের শ্রীভুমি জেলার সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা পাথারকান্দির ছাগলময়ায় আবারও এক বর্বর ও চাঞ্চল্যকর মারপিটের ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। চলন্ত গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *