শিলচরে মরাল পুলিশিং কাণ্ডে অভিযুক্ত রাজবীর লস্করের আত্মসমর্পণ

ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক ও নাগরিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, রাজবীর লস্কর সহ কয়েকজন যুবক মিলে এক যুবককে মারধর করে এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, কে দিল সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার?

সমাজের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে তথাকথিত ‘মরাল পুলিশিং’এর প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ব্যক্তিগত জীবন, পোশাক, বন্ধুত্ব কিংবা চলাফেরা নিয়ে কিছু মানুষ নিজেদের বিচারক ভেবে অন্যদের হেনস্থা করছে। শুধু তাই নয়, সেই ঘটনাকে ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে অপমান ও ভয় প্রদর্শনের এক অসুস্থ সংস্কৃতিও গড়ে উঠছে।

সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু আইনবিরোধী নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও নাগরিক স্বাধীনতার পরিপন্থী। এদিন থানার বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কমরুল ইসলাম লস্কর অত্যন্ত সংযত ভাষায় বলেন, আমার আইনের উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আইন সবার জন্য সমান। তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।

তিনি জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি পুরো বিষয়টি জানতে পারেন এবং ঘটনাটি শুনে গভীরভাবে ব্যথিত হন। তাঁর কথায়, আমার ছেলে দোষী কিনা, তা তদন্তেই প্রমাণিত হবে। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত। নিজের ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে কমরুল ইসলাম বলেন, আমি চাই না কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকুক। তাই নিজেই ছেলেকে থানায় নিয়ে এসেছি।

ঘটনার পেছনে আরও কিছু তথ্য বা অন্য কোনও দিক আছে কিনা, সেটাও তদন্তে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বহু মানুষ এই ধরনের মরাল পুলিশিংয়ের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তাঁদের মতে, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের হাতে আইন তুলে নিয়ে কাউকে শাস্তি দিতে পারে না। দেশে আইন, আদালত ও প্রশাসন রয়েছে , বিচার করার দায়িত্ব তাঁদেরই।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশও মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা সমাজে ভয় ও অরাজকতার পরিবেশ তৈরি করে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও গোষ্ঠীগত দাদাগিরির মানসিকতা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ফলে প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনায় আরও কারা জড়িত, ভিডিওটি কীভাবে ছড়ানো হলো এবং এর পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। শিলচরের এই ঘটনা আবারও স্পষ্ট করে দিল, সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। আর সেই কারণেই সচেতন নাগরিক সমাজ এখন একটাই দাবি তুলছে, বিচার হোক আইনের পথে, রাস্তায় নয়।

Related Posts

মাদকমুক্ত বরাকের স্বপ্ন কি অধরাই থেকে যাবে? শিলচরে প্রকাশ্যে মাদকসেবনের অভিযোগে চাঞ্চল্য, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

ফাটক বাজার, সদর থানা পর্যন্ত ছড়ানো নেশার রমরমা, পুলিশি অভিযানের পরও থামছে না প্রবণতা বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ১০ জুনঃ বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলার সদর শহর শিলচরে মাদকসেবনের অভিযোগ সংবলিত…

লক্ষীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জয়পুর–হরিনগর সড়কের বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ জনতা, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় প্রশ্নের মুখে উন্নয়নের দাবি

বর্ষায় জলমগ্ন আর গ্রীষ্মে ধুলোর ঝড়, বছরের পর বছর সংস্কারহীন সড়কে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক শিলচর ১০ জুনঃ আধুনিক উন্নয়নের ঢক্কানিনাদ আর কাগুজে অগ্রগতির হিসাবের মাঝেই বাস্তবের…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *