ধলাইয়ের সপ্তগ্রামে পুলিশের অভিযানে কোটি টাকার ইয়াবা ও বিপুল বার্মিজ সুপারি উদ্ধার, জালে দুই পাচারকারী

পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গোপন সূত্রের খবরের ওপর ভিত্তি করে ধলাই থানা পুলিশ সপ্তগ্রাম এলাকায় একটি বিশেষ নাকা চেকিংয়ের আয়োজন করে। সে সময় একটি সন্দেহভাজন স্কুটিকে (নিবন্ধন নম্বর: AS-11-AG-2209) থামার ইঙ্গিত দেয় পুলিশ। চালকের হাবভাব সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্কুটিতে তল্লাশি চালানো হয়। স্কুটির ডিকি খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ কর্তাদের! ডিকির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ৪টি নিখুঁতভাবে প্যাক করা প্যাকেট।

যেগুলি খুলতেই বেরিয়ে আসে মোট ৪০,০০০টি সন্দেহভাজন ইয়াবা ট্যাবলেট। বাজেয়াপ্ত হওয়া এই বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক মাদকের মোট ওজন প্রায় ৪ কেজি ৩৬৩ গ্রাম। প্রাথমিক অনুমান, আন্তর্জাতিক বাজারে এই উদ্ধারের আর্থিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা। ঘটনাস্তল থেকেই আটক করা হয় স্কুটিতে থাকা দুই পাচারকারীকে, জিয়াবুর রহমান বড়ভূঁইয়া (চালক), তৈয়বুর রহমান বড়ভূঁইয়া(আরোহী)

ধৃত তৈয়বুর রহমান বড়ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে তার একটি গোপন গোডাউনের কথা। এরপর কালবিলম্ব না করে পুলিশ সেখানেও অভিযান চালায়। সেই গোডাউন থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয় ৪টি বস্তায় ঠাসা প্রায় ১৫৫ কেজি অবৈধ সন্দেহভাজন বার্মিজ সুপারি। মায়ানমার থেকে বেআইনি পথে আসা এই সুপারি ও মাদকের চোরাচালানের সিন্ডিকেট যে কতটা গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে, তা এই জোড়া উদ্ধারেই প্রমাণিত।

ধলাইয়ের বুক থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও বার্মিজ সুপারি উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছেন। ইয়াবা যাকে ‘ক্রেজি মেডিসিন’ বলা হয়, তা মূলত তরুণ ও যুবসমাজকে দ্রুত নেশার অন্ধকারে ঠেলে দেয়। কম বয়সে জীবন ধ্বংস করার এই প্রাণঘাতী নীল বিষ আজ বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। কয়েক কোটি টাকার এই মাদক কার পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এর পেছনে কোন কোন রাঘববোয়াল বা আন্তর্জাতিক চক্র কলকাঠি নাড়ছে, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

পুলিশের এই তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু একই সঙ্গে এই ঘটনা বেশ কিছু কঠিন সত্যকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে, মায়ানমার ও প্রতিবেশী রাজ্য হয়ে কীভাবে এই বিপুল পরিমাণের ইয়াবা এবং বার্মিজ সুপারি ধলাই পর্যন্ত পৌঁছাল? শুধু স্কুটি চালক বা বাহক নয়, এর পেছনে থাকা আসল অর্থ জোগানদাতা ও মাস্টারমাইন্ডদের কেন আড়াল থেকে টেনে বের করা সম্ভব হচ্ছে না?

এলাকাবাসীর দাবি, ধৃত জিয়াবুর রহমান বড়ভূঁইয়া ও তৈয়বুর রহমান বড়ভূঁইয়ার মতো খুচরো বাহকদের কেবল গ্রেফতার করলেই চলবে না, এদের ওপর কঠোর এনডিপিএস আইনে মামলা দায়ের করে মূল চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। বর্তমানে ধলাই থানার পুলিশ উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস, গন্তব্য এবং এই চক্রের অন্য সহযোগীদের খোঁজে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে। এখন দেখার, পুলিশি তদন্তের জালে এই আন্তর্জাতিক মাদক পাচার রেকেটের মূল পান্ডারা ধরা পড়ে কি না!

Related Posts

শিলচর পুরনিগম নির্বাচন: ডিগ্রিতে জালিয়াতি করলেই কপালে শনি, জাল সার্টিফিকেট জমা দিলেই শ্রীঘরে যাওয়ার রাস্তা পাকা!

ভুঁইফোড় বোর্ডের সার্টিফিকেট দিয়ে আর পার পাওয়া যাবে না, মেধা ও সততার অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হচ্ছে প্রার্থীদের, শিলচর পুরনিগম নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার…

শিলচরে ব্যবসার নামে লোভনীয় লভ্যাংশের ফাঁদ পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শিলচরের বেরেঙ্গার সাদ্দামের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

গ্রেপ্তারির পর জামিনে বেরিয়ে সামাজিক বিচারসভার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ; ২৫ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই উধাও প্রতারক। বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলচরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *