কাছাড়ের বড়খলায় পুলিশি নিরাপত্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মোবাইল টাওয়ার থেকে ৩০টি ব্যাটারি চুরি!

বড়খলা তেমাথা সংলগ্ন অত্যন্ত জনবহুল ও সংবেদনশীল এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ার থেকে প্রায় ৩০টি ভারী ব্যাটারি গায়েব করে দিল চোরের দল। শনিবার গভীর রাতের এই ধামাকাদার চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় এখন তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন, পুলিশের টহলদারি যদি এভাবেই প্রহসনে পরিণত হয়, তবে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায়?

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, বড়খলার ব্যস্ততম ‘তেমাথা’ এলাকার ঠিক সংলগ্ন স্থানেই অবস্থিত ওই ভোডাফোন ও এয়ারটেল কোম্পানির মোবাইল টাওয়ারটি। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মতো শনিবার রাতেও টাওয়ারটি যথারীতি কাজ করছিল। কিন্তু রাতের গভীরতা বাড়তেই সক্রিয় হয়ে ওঠে এলাকার দুষ্কৃতী চক্র। পুলিশি পেট্রোলিংয়ের ফাঁকফোকর গলিয়ে অত্যন্ত সুচারুভাবে ওই টাওয়ারের সুরক্ষিত বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চোরের দল।

এরপর একে একে প্রায় ৩০টি দামি ও ভারী ব্যাটারি খুলে চম্পট দেয় তারা। এতগুলো ভারী ব্যাটারি একসঙ্গে সরাতে যে রীতিমতো চার চাকার গাড়ি বা বড় কোনো বাহন ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুরো অপারেশনটি সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে, তা বলাই বাহুল্য। আর এই পুরো ঘটনাটি বড়খলা থানার পুলিশ প্রশাসনের সম্পূর্ণ নিস্পৃহতা ও চরম ব্যর্থতারই স্পষ্ট দলিল।

রোববার সকালে যখন টাওয়ারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা সেখানে পৌঁছান, তখনই এই বিশাল চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ফাঁকা বেস ক্যাম্প আর চুরির নগ্ন রূপ দেখে তাঁদের চোখ কপালে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে গোটা বড়খলা বাজারে। এরপর টাওয়ার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সরাসরি বড়খলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর টনক নড়ে পুলিশের; তড়িঘড়ি তদন্তে নামে বড়খলা থানার একদল পুলিশ কর্মী। তবে স্থানীয়দের দাবি, চুরির পর পুলিশের এই তৎপরতা কেবল লোকদেখানো ছাড়া আর কিছুই নয়।

বড়খলা থানার অতি নিকটবর্তী স্থানে এমন একটি বড় মাপের অপরাধ সংঘটিত হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ টের পেল না কেন তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। মানুষের প্রশ্ন, যে এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশি টহল থাকার কথা, সেখানে কীভাবে এতগুলো ভারী ব্যাটারি চোরেরা ট্রাকে বা অন্য কোনো গাড়িতে বোঝাই করে নিয়ে উধাও হয়ে গেল, আর পুলিশ টেরও পেল না?

স্থানীয়দের অভিযোগ, বড়খলা এলাকায় ইদানীং চোর ও সমাজবিরোধীদের উপদ্রব এমন চরমে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষ রাতে দরজা বন্ধ করে শান্তিতে ঘুমাতেও ভয় পান। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার অভাবের কারণেই আজ দুষ্কৃতীদের মনোবল এতটাই বেড়ে গেছে যে তারা থানার নাকের ডগায় বসে এই ধরনের ধৃষ্টতা দেখাতে সাহস পাচ্ছে।

মোবাইল টাওয়ারের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোই যদি সুরক্ষিত না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোন অতলে তলিয়ে গেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় বড়খলার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। অবিলম্বে চুরি যাওয়া বহুমূল্য ব্যাটারিগুলো উদ্ধার করা এবং এই ধুরন্ধর চোরচক্রের মূলাসাৎ করে আইনের কঠোর খাঁড়ায় তাদের শাস্তি দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় বড়খলার ক্ষুব্ধ জনতা বাধ্য হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

Related Posts

শিলচর পুরনিগম নির্বাচন: ডিগ্রিতে জালিয়াতি করলেই কপালে শনি, জাল সার্টিফিকেট জমা দিলেই শ্রীঘরে যাওয়ার রাস্তা পাকা!

ভুঁইফোড় বোর্ডের সার্টিফিকেট দিয়ে আর পার পাওয়া যাবে না, মেধা ও সততার অগ্নিপরীক্ষায় নামতে হচ্ছে প্রার্থীদের, শিলচর পুরনিগম নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ৩ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার…

শিলচরে ব্যবসার নামে লোভনীয় লভ্যাংশের ফাঁদ পেতে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, শিলচরের বেরেঙ্গার সাদ্দামের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

গ্রেপ্তারির পর জামিনে বেরিয়ে সামাজিক বিচারসভার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ; ২৫ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই উধাও প্রতারক। বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বরঃ বরাক উপত্যকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলচরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *