রামকৃষ্ণনগর কালিবাড়ি বাজার হাসপাতালে ২ কোটি টাকার গার্ডওয়াল ধস! দুর্নীতির অভিযোগ খণ্ডন করলেন জেলা পরিষদ সদস্য রাজেশ দাস

সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জেলা পরিষদ সদস্য রাজেশ দাস সাফ জানিয়ে দেন, এই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার তিনি নন। সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই এনএইচএম আসাম-এর অধীনে এই উন্নয়নমূলক কাজটি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই কাজের প্রকৃত বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারের নাম তামানীশ দে। রাজেশ দাসের দাবি, তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে একটি বিশেষ মহল সব সময় উঠেপড়ে লেগে থাকে।

এটিও তারই অংশ। তবে অপপ্রচারের অভিযোগ তুললেও হাসপাতালে নবনির্মিত গার্ডওয়ালটি ভেঙে পড়ার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন রাজেশ দাস। তিনি জানান, নরম মাটির ওপর কাজ করার কারণে এবং ওপর থেকে অতিরিক্ত চাপের ফলেই এই বিপত্তি ঘটেছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে এবং পুনরায় নতুনভাবে কাজটি করা হচ্ছে।

এদিকে অভিযোগকারীদের দাবি, গার্ডওয়াল নির্মাণের বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার হিসেবে তামানীশ দে-র নাম উল্লেখ করা হলেও, বাস্তবে জেলা পরিষদ সদস্য তথা হাসপাতালের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান রাজেশ দাসের নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানেই নির্মাণকাজ চলছে। ফলে শুধু ঠিকাদার হিসেবে তাঁর নাম না থাকলেই নির্মাণকাজের সঙ্গে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই, এমনটা মানতে নারাজ অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকল্পের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ ও নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে, রাজেশ দাস নিজেই জানিয়েছেন, হাসপাতালের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি নির্মাণকাজটি দেখভাল করেন। তাঁর এই বক্তব্যের পরই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, একদিকে তিনি নিজেকে নির্মাণকাজের ঠিকাদার নন বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে কাজটি তাঁর নজরদারির আওতায় রয়েছে বলেও স্বীকার করছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার হিসেবে অন্য ব্যক্তির নাম থাকলেও বাস্তবে রাজেশ দাসের নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধানেই গার্ডওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। ফলে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর দায় ও ভূমিকা কতটা, তা নিয়েও তদন্ত প্রয়োজন বলে দাবি তাঁদের।

তবে রাজেশ দাসের বক্তব্য, গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে হাসপাতালের উন্নয়নমূলক কাজগুলি দেখভাল করা তাঁর দায়িত্বের অংশ। তিনি নির্মাণকাজের ঠিকাদার নন এবং কাজের বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার তামানীশ দে বলেই দাবি করেছেন। এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের একাংশের প্রশ্ন, ২ কোটি টাকারও বেশি বাজেটের এই প্রকল্পে কাজ শুরুর আগে কেন সঠিক সয়েল টেস্ট (মাটি পরীক্ষা) বা উপযুক্ত পাইলিং করা হলো না? অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের উপস্থিতি সত্ত্বেও কেন এই গাফিলতি হলো, তা নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Related Posts

মোদি সরকারের শিক্ষা নীতিতে বিস্ফোরক প্রশ্ন মুরলী মনোহর জোশীর, সরকার নিজেরাই কেলেঙ্কারি করছে

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৯ আগষ্টঃ দেশে যখন পরীক্ষা ব্যবস্থার জালিয়াতি, একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস, কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে সারা ভারতের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভ…

হিমালয়ে গলছে বরফ, মহা-জলপ্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে ভারত-নেপাল-ভুটান, হিমালয়ের বুকে টিকটিক করছে ২২১টি টাইম বোমা, প্রলয়ংকারী জলপ্রলয়ের আশঙ্কায় কাঁপছে দক্ষিণ এশিয়া

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৯ আগষ্টঃ হিমালয়ের শুভ্র তুষারাবৃত পাহাড়ের নীরবতার নিচে ধীরে ধীরে দানা বাঁধছে এক শতাব্দীর সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও অব্যাহত জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় দ্রুত গলে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *