বরাকবাণী প্রতিবেদন শিলচর ২২ নভেম্বরঃ শিলচর সোনাই রোডের কাস্টম কোয়ার্টারের পাশ দিয়ে চলা নতুন ড্রেন নির্মাণ নিয়ে চরম অসন্তোষ ছড়িয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। এনএইচআইডিসিএল-এর অধীনস্থ ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত আকার ধারণ করলে সোনাই রোড উন্নয়ন সংস্থার সদস্যরা নিজ উদ্যোগে কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেনের বেড লেভেল ঠিক রেখে নির্মাণ হওয়ার কথা থাকলেও নালার ভিত মাটির স্তর থেকে অস্বাভাবিকভাবে উঁচু করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ড্রেনটি বর্ষাকালে জল নিষ্কাশনের বদলে উলটো জল জমার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একজন বাসিন্দার বক্তব্য, এটা ড্রেন নয়, পুরোপুরি সাপনালার মতো দেখতে। এত উঁচুতে ড্রেন বানালে নিচের জল কোথায় নামবে? শুধু টাকা লুট করার জন্যই এমন অবৈজ্ঞানিক কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, কাস্টম কোয়ার্টারের বাউন্ডারি ওয়াল থেকে মাত্র দেড় হাত দূরে ড্রেনের ওয়াল তোলা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ওয়ালের ক্ষতি, ধস বা জলচাপের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ড্রেন নির্মাণে ন্যূনতম সুরক্ষামান বজায় রাখতে নির্দিষ্ট দূরত্ব বাধ্যতামূলক। কিন্তু ঠিকাদার সংস্থা কোনও নকশা বা মানদণ্ডের ধার ধারছে না বলেই অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার রাতে উন্নয়ন সংস্থার সদস্যরা কাজ পরিদর্শনে এসে অনিয়ম দেখে ক্ষিপ্ত হন। তারা স্পষ্ট জানান, মানহীন ও নিয়মবহির্ভূত কাজ কোনোমতেই চলতে দেওয়া হবে না। সংস্থার এক সদস্য বলেন, সরকার উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা দিচ্ছে। কিন্তু ঠিকাদার আর কর্মকর্তাদের গাফিলতিতে সেই অর্থ জলে যাচ্ছে। নিয়ম মেনে সুস্থভাবে কাজ না হলে আমরা ড্রেন নির্মাণ বন্ধ করে দেব।
এনএইচআইডিসিএল ও জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ তুঙ্গে। অভিযোগ, তারা এলাকাবাসীর অভিযোগের পরও কোনোরকম পরিদর্শন বা নজরদারির ব্যবস্থা নেননি। এক প্রবীণ বাসিন্দার বক্তব্য, দিন রাতে কাজ চলে। কিন্তু একবারও কোনো ইঞ্জিনিয়ার এসে দেখেন না। যারা সরকারি বেতন নিচ্ছেন, তাদের দায়িত্বহীনতা আমাদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদার সংস্থা নির্মাণকাজে মানহীন সামগ্রী ব্যবহার করছে। বেড লেভেল, স্লোপ, দূরত্ব সব গুরুত্বপূর্ণ নিয়মই উপেক্ষা করছে। শুধু কাজের বিল ওঠানোর তাড়নায় নিম্নমানের কাজ করে যাচ্ছে। সোনাই রোড বরাবর এই ড্রেনটি বর্ষায় জল নিষ্কাশনের প্রধান পথ। এমন অবৈজ্ঞানিক নির্মাণে সারা এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কাস্টম কোয়ার্টারের বাসিন্দা থেকে সাধারণ পথচারী সবাই বিপদে পড়বেন। স্থানীয়রা ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি, প্রকল্পের কাজ পুনর্বিবেচনা করা হোক, অভিযোগের তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। প্রশাসনের নজরদারি না থাকলে চক্রগুলি কোটি কোটি টাকা গিলে খাবে আর আমরা কষ্টে পড়ব। এটা আমরা আর হতে দেব না, জানিয়েছেন এক বাসিন্দা।
যে প্রকল্প এলাকার উন্নয়নের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, সেই প্রকল্পই যদি মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায় তবে উন্নয়ন নয়, সেটা প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং ঠিকাদারির দুর্নীতির প্রতিচ্ছবি। সোনাই রোডের এই ড্রেন নির্মাণ এখন দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও জনদুর্ভোগের ক্লাসিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, অভিযোগের পর জেলা প্রশাসন ও এনএইচআইডিসিএল কত দ্রুত এবং কতদূর পদক্ষেপ নেয়।






