বরাকবাণী প্রতিবেদন শিলচর ২৩ নভেম্বরঃ শিলচর থেকে হাফলং-বরাক উপত্যকাকে পাহাড়ি জেলার সঙ্গে সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগে যুক্ত করতে বহু প্রতীক্ষিত সৌরাষ্ট্র মহাসড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। শনিবার নিজে সরজমিনে সেই কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করলেন বরাক উপত্যকা উন্নয়ন মন্ত্রী কৌশিক রাই। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ কনাদ পুরকায়স্থ, উধারবন্দের বিধায়ক মিহির কান্তি সোম, ধলাইয়ের বিধায়ক নিহার রঞ্জন দাস সহ এনএইচআইডিসিএল ও এনএইচএর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কৌশিক রাই জানান, বড়াইল ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির মধ্যে পড়া প্রায় ২৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জটিল ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশগত অনুমোদনের কারণে এই অংশটি ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং। তবে বর্তমানে এই সেকশন সম্পূর্ণ হওয়ায় প্রকল্পে গতি এসেছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, জাতিংগা থেকে হারাংজাও পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেকশনের কাজ প্রতিদিনই দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। মার্চ–এপ্রিলের মধ্যেই এই অংশ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির সঙ্গে প্রতিনিয়ত পর্যালোচনা চলছে। পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী কৌশিক রায় দাবি করেন, অটলবিহারী বাজপেয়ীর স্বপ্নের ইস্ট–ওয়েস্ট করিডর প্রকল্পের সড়ক দিয়ে ২০২৬ সালের নির্বাচন আসার আগেই বরাক উপত্যকাকে সংযুক্ত করা হবে।
এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, বরং বরাক উপত্যকার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দরজা। তিনি বলেন, আগামী দিনে সরকার জনগণের জন্য আরও উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে আসবে। এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা, বাণিজ্য, পর্যটন—সব ক্ষেত্রেই এই সড়ক বিপ্লব ঘটাবে। শনিবার ভোরে শিলচর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে মন্ত্রী রওনা হন। বালাছড় থেকে মাহুর পর্যন্ত প্রায় ৬২ কিলোমিটারের নির্মাণাধীন সড়কটি তিনি ঘুরে দেখেন। কোথাও মাটি কাটা চলছে, কোথাও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, আবার কোথাও বাইন্ডার লেয়ারের কাজ সবই খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী।
এনএইচআইডিসিএল ও এনএইচএর প্রকৌশলীরা প্রতিটি সেকশনের গতিপ্রকৃতি, সমস্যাবলী ও সমাধানের পথ মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি নিজে বিভিন্ন স্থানে থেমে শ্রমিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুততার সঙ্গে মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রী জানান, আগামী জানুয়ারি মাস থেকেই শিলচর–হাফলং মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় স্বাভাবিক হয়ে যাবে, মানুষ আর ভোগান্তিতে পড়বেন না। এই ঘোষণা বরাকবাসীর কাছে নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির বার্তা। বহুদিন ধরে চলা মহাসড়ক নির্মাণের কারণে শিলচর–হাফলং–দিমা হাসাও রুটে যাতায়াত ছিল দুরূহ। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী কৌশিক রাই হাফলং সার্কিট হাউসে বিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তৃত পর্যালোচনা সভা করেন।
তিনি প্রত্যেক বিভাগকে সময়সীমা মেনে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। সভায় নির্মাণকাজের মান, অর্থ ব্যয়, পরিবেশগত নির্দেশিকা, পাহাড়ি অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পটি কেবল বরাক উপত্যকা নয়, পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে। পর্যটন সম্ভাবনাকে বাড়াবে, পণ্য পরিবহণে খরচ কমাবে এবং বরাক–ডিমা হাসাও–নাগাল্যান্ড–মণিপুর সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে। এক কথায় সৌরাষ্ট্র মহাসড়কের কাজ শেষ হলে বরাক উপত্যকা পাবে এক নতুন জীবনরেখা।






