বরাকবাণী প্রতিবেদন কাবুগঞ্জ ২৩ নভেম্বরঃ কাছাড় জেলার সোনাই বিধানসভার পূর্ব সোনাই অঞ্চলে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ঘিরে তীব্র বিতর্ক। রাজ্যজুড়ে যখন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখনই আর.ডি. রায় উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাগোয়া স্কুল মাঠে বাণিজ্যিক আনন্দ মেলা বসানোর তোড়জোড় শুরু হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পরীক্ষার আগমুহূর্তে এমন আয়োজনকে শিক্ষার পরিপন্থী ও অসচেতন সিদ্ধান্ত বলে সরব হয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক এবং ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু। রাজ্যের শিক্ষা বিভাগ ইতিমধ্যে পরীক্ষার রুটিনও প্রকাশ করেছে। ছাত্রছাত্রীরা তাই প্রতিদিন ক্লাস শেষ করে বাড়তি সময় পড়াশোনায় ব্যয় করছে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঠিক এমন সময়েই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে স্কুল মাঠে আনন্দ মেলা বসানোর প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। মাঠে ইতিমধ্যেই পৌঁছতে শুরু করেছে ফেরিস হুইল, দোকানঘর, আলো–সাজসজ্জার সামগ্রী। ফলে পরীক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে রাতের শব্দদূষণ সবকিছু নিয়েই আশঙ্কার কালো মেঘ ঘনিয়েছে।
স্থানীয়রা মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত বছর একই মাঠে আয়োজিত মেলাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো জুয়ার আসর বসেছিল। রাতভর চলত কারবার, যার বিরুদ্ধে শিশুকিশোর থেকে বৃদ্ধ—সবাই সোচ্চার হয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, মোটা অঙ্কের বিনিময়ে মাঠ ভাড়া দিয়ে বাণিজ্যিক লাভের উদ্দেশ্যেই সেই আয়োজন করা হয়েছিল। এই স্মৃতি এখনও তাজা। ফলে এবারের মেলাকেও অনেকেই একই কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন।

এলাকার মানুষ স্পষ্টই বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ যদি বাণিজ্যের আখড়া হয়ে ওঠে, তবে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে? অভিভাবকদের অভিযোগ, মেলার মাইক, ড্রাম, আলো–সাউন্ড সিস্টেম পরীক্ষা প্রস্তুতিতে থাকা শিশু–কিশোরদের পড়াশোনায় বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটাবে। পাশাপাশি বহিরাগত মানুষের ভিড়ে বাড়বে অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, পরীক্ষার আগে এমন আয়োজনের প্রয়োজন কোথায়? আর যদি করতেই হয়, তবে অন্তত স্কুল মাঠ কেন?
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালন সমিতির অনুমতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে কেন পরীক্ষার সময়কে বেছে নেওয়া হল, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। স্থানীয়দের মতে, ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষ হতেই মেলা বসানোর প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে। এতে ছাত্রদের মনোযোগ নষ্ট হওয়া নিশ্চিত। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল পাঠদানই নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের ক্ষেত্র।
সেখানে যদি ব্যবসার লোভে ছাত্রদের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হয়, তা কি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য? সমাজের প্রবীণদের বক্তব্য, অর্থ উপার্জনের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা চলবে না। পরীক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া প্রশাসনের কর্তব্য। এলাকাবাসী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ক্ষতির বিনিময়ে কোনো আনন্দ, কোনো মেলা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
তাদের আবেদন, প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ এগিয়ে এসে আমাদের সন্তানদের জন্য শান্ত, শব্দমুক্ত, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করুক। এবার নজর এখন জেলার শিক্ষা বিভাগের দিকে, তারা কি শিক্ষার স্বার্থে মেলা স্থগিত করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেবে, নাকি ছাত্রদের ভবিষ্যৎ আবারও বাণিজ্যিক প্রলোভনের সামনে হার মানবে?






