মইনুল হক বরাকবাণী প্রতিনিধি শ্রীভুমি ২৩ নভেম্বরঃ শ্রীভুমি জেলার সাংগঠনিক শক্তি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্ভাবনা যাচাইয়ে শুক্রবার গুয়াহাটির রাজীব ভবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক বিপুল গগৈ। জেলার তত্ত্বাবধায়ক, বরাক কংগ্রেসের অভিভাবক ও প্রদেশ কংগ্রেস সহ-সভাপতি আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় করিমগঞ্জ জেলার বর্তমান সাংগঠনিক বাস্তবতা, কর্মীশক্তি, সম্ভাবনা এবং সমস্যা খতিয়ে দেখেন তিনি।
বৈঠকে উঠে এসেছে একটাই স্পষ্ট বার্তা করিমগঞ্জের চার বিধানসভা সমষ্টি আগামী নির্বাচনে কংগ্রেসের দখলে আনতেই হবে। প্রদেশ নেতৃত্ব এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এবার গভীরভাবে ছাঁকনি চালিয়ে টিকিট বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনসমর্থনহীন, বিতর্কে জড়িত, কিংবা কালা ডুঙ্গা-র মতো ভাইরাল অডিও-ভিডিও কেলেঙ্কারিতে দগ্ধ কোন নেতাকর্মীকেই দলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রাখা হবে না। বরং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নতুন ও পরিশ্রমী মুখদের সামনে আনা হবে।

বৈঠকে পুরনো ক্ষত আবারও তাজা হয়ে ওঠে। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট বাণিজ্যের ভাইরাল অডিও, আরেক নেতার বিলাসবহুল ঘরে লেনদেনের ভিডিও এসব কংগ্রেসকে শুধু জনমানসে বিব্রতই করেনি; তৎকালীন প্রদেশ সভাপতি ভূপেন বরাকেও চেয়ার হারাতে হয়েছে। বিপুল গগৈ সাফ জানিয়ে দেন, কংগ্রেসে দুর্নীতিবাজদের জায়গা নেই। আমাদের কাছে কোনও ওয়াশিং মেশিন নেই যে দুর্নীতিবাজকে ঢুকেই পরিষ্কার করে দিবে।
শুদ্ধ রাজনীতি চাই, পরিষ্কার রাজনীতি চাই। জেলা কংগ্রেসের বহু প্রবীণ নেতা ক্ষোভ উগরে বলেন, পঞ্চায়েত ভোটে টিকিটের নামে টাকার লেনদেন শুধু দলকে ছোটই করেনি, মানুষের অগাধ বিশ্বাসও খানখান করেছে। প্রদেশ নেতৃত্ব বার্তা দিয়েছে, এই কালির পুনরাবৃত্তি আর এক ইঞ্চিও বরদাস্ত করা হবে না। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যে কোনও মুহূর্তে ঘোষণা হতে পারে। ইতিমধ্যেই ডিলিমিটেশনের পর করিমগঞ্জ জেলার পাঁচ সমষ্টি কমে দাঁড়িয়েছে চারটিতে। ফলে প্রতিটি সমষ্টি আগের তুলনায় বহুগুণ বড়, ভোটার সংখ্যাও বেড়েছে বিশালভাবে।
শাসক দলের বাঙালি বিরোধী নীতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই সমষ্টি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছে বিরোধী শিবিরে। এই চাপের মধ্যেও জেলা পর্যবেক্ষক নাসীর খান আশাবাদী। রামকৃষ্ণনগর, পাথারকান্দি, দক্ষিণ করিমগঞ্জ এবং উত্তর করিমগঞ্জ এই চার আসনেই কংগ্রেস পতাকা উড়বে বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস। এমন আত্মবিশ্বাসী কার্যকৌশল প্রদেশ নেতৃত্বকেও আগাম সম্ভাব্য প্রার্থী চিহ্নিত করতে চাপ প্রয়োগ করছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের দাবি, করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সংগঠিত, সুশৃঙ্খল।
জেলা সভাপতি তাপস পুরকায়স্থের নেতৃত্বে দল যে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে, তা খোদ প্রদেশ নেতৃত্বও স্বীকার করছে। প্রবীণ কংগ্রেস কর্মীদের ভাষায়,এবার করিমগঞ্জে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সঠিক প্রার্থী বাছাই হলে চার সমষ্টি ফিরে পাওয়া কঠিন নয়। দলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, ভাইরাল কাণ্ড, টিকিট বাণিজ্য এসব অতীতের ভুলচুক কাটিয়ে উঠতে এবার কংগ্রেস কঠোর শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে।
তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী সংগঠন গড়ার নতুন পরিকল্পনা। যদি এই দুই পথ শুদ্ধি + সংগঠন একসঙ্গে এগিয়ে যায়, তবে শ্রীভুমির চার সমষ্টিই কংগ্রেসের দখলে আসতে পারে, এমনটাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, কংগ্রেস কি সত্যিই পুরনো রোগ কাটিয়ে পরিচ্ছন্ন রাজনীতির মডেল দাঁড় করাতে পারবে? উত্তর দেবে ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন।






