এনএইচএম কর্মীদের কর্মবিরতিতে অচল স্বাস্থ্য পরিষেবা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ম্যাগা স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন নিয়ে স্বাধীনবাজারে ছিল উৎসবের আমেজ। স্কুলের প্রাঙ্গণে মঞ্চ, টেন্ট, টেবিল-চেয়ার, চিকিৎসা সামগ্রী সবই প্রস্তুত ছিল। গ্রামের আশা কর্মীরা দিনরাত ঘরে ঘরে হেঁটে ১৮ বছরের নিচে ছেলে-মেয়ে, শিশু এবং বিশেষ অসুস্থদের তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। একজন আশা কর্মী ক্ষোভের সুরে বলেন, আমরা সকাল থেকে রাত অবধি ঘুরে ঘুরে তালিকা বানিয়েছি, কারো বাড়ি বাদ দিইনি।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে জানানো হল শিবির হবে না! আমাদের এত কষ্টের কি মূল্য? এমন ক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা গ্রামীণ এলাকায়। অনেকেই বলেন, এই আন্দোলনের ফলে গ্রামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে পোলিও ভ্যাকসিনেশন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে।

এনএইচএম কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন নিয়মিতকরণ, বকেয়া ভাতা প্রদান, ও কাজের স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ। অভিযোগ, রাজ্য সরকার তাদের দাবি বারবার উপেক্ষা করেছে। এর প্রতিবাদেই তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে নেমেছেন। ফলে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপকেন্দ্র ও আউটরিচ ক্যাম্প সব জায়গাতেই কার্যত তালা ঝুলছে। এই কর্মবিরতি চলবে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত, এমনটাই জানিয়েছেন আন্দোলনরত কর্মীরা।

এদিকে সদৌ অসম আশা সংস্থা জানিয়েছে, তারা এনএইচএম কর্মীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানালেও সরাসরি অংশ নেবে না। কারণ, এনএইচএমের পক্ষ থেকে তাদের কাছে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত বার্তা বা আহ্বান পৌঁছেনি। বরাক উপত্যকার স্থানীয় আশা ইউনিটগুলিও একই অবস্থান নিয়েছে।

তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা, গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা কার্যত স্থবির। নতুন জন্ম নেওয়া শিশুদের ও গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দরজায় দাঁড়িয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আমরা সরকারের শত্রু নই, ন্যায্য দাবির জন্যই লড়ছি, আন্দোলনরত এক এনএইচএম কর্মীর বক্তব্য, আমরা কাজ করতে চাই, কিন্তু ন্যায্য মজুরি ও চাকরির নিরাপত্তা ছাড়া কতদিন? সরকারের কাছে অনুরোধ আমাদের দাবি দ্রুত মেনে নিয়ে পরিষেবা পুনরায় চালু করা হোক।

অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বলছেন, সরকার ও আন্দোলনরত কর্মীদের মধ্যকার এই সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অসহায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠী। এই ঘটনাকে শুধু একদিনের কর্মবিরতি হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটি হলো দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক উদাসীনতা ও অব্যবস্থার ফল। একদিকে এনএইচএম কর্মীরা ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য পথে নামছেন, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো দরিদ্র মানুষ।

প্রশাসনের উচিত ছিল বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্তত গ্রামীণ স্বাস্থ্য শিবিরগুলো চালু রাখা। কারণ, এমন শিবিরের ওপর নির্ভর করে বহু দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসা ও টিকাদান। এই দায় এড়ানো যায় না সরকারেরও, যেভাবে হুট করে শিবির বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে বরাক উপত্যকা সহ সারা অসমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো আলোচনা ও সমঝোতা।

সরকার ও আন্দোলনরত কর্মীরা যদি দ্রুত সমাধানে না পৌঁছান, তবে এর ভয়াবহ ফল ভোগ করতে হবে সাধারণ মানুষকেই। এনএইচএম আন্দোলনের আগুনে পুড়ছে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, চিকিৎসা বন্ধ, জীবন বিপন্ন, দাবি অব্যাহত!

Related Posts

শিলচর সোনাই রোডে নিম্নমানের ড্রেন নির্মাণে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা

বরাকবাণী প্রতিবেদন শিলচর ২২ নভেম্বরঃ শিলচর সোনাই রোডের কাস্টম কোয়ার্টারের পাশ দিয়ে চলা নতুন ড্রেন নির্মাণ নিয়ে চরম অসন্তোষ ছড়িয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। এনএইচআইডিসিএল-এর অধীনস্থ ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও…

শিলচর–হাফলং সৌরাষ্ট্র মহাসড়ক চূড়ান্ত পর্যায়ে, জানুয়ারি থেকে স্বাভাবিক হবে যান চলাচল

বরাকবাণী প্রতিবেদন শিলচর ২৩ নভেম্বরঃ শিলচর থেকে হাফলং-বরাক উপত্যকাকে পাহাড়ি জেলার সঙ্গে সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগে যুক্ত করতে বহু প্রতীক্ষিত সৌরাষ্ট্র মহাসড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। শনিবার নিজে সরজমিনে সেই…