বরাকবাণী প্রতিবেদন ধলাই ১লা সেপ্টেম্বরঃ কেন্দ্র ও রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকার যতই জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলুক না কেন, মাটির বাস্তবতা যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি ফুটিয়ে তুলছে। কাছাড় জেলার ধলাই বিধানসভার বড়জালেঙ্গা অঞ্চলে এক ব্যক্তি শাসক দলের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্যের ঘনিষ্ঠ জয়ন্ত পাল ওরফে টুকু এর বিরুদ্ধে উঠেছে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং কালোবাজারির ভয়ঙ্কর অভিযোগ।
ধলাই বিধানসভায় দুর্নীতি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে সরবরাহ বিভাগের অভিযোগে তদন্তে নেমেছে পুলিশ
সরকারি রেশন কার্ড, কার্ড ট্রান্সফার ও এলপিজি গ্যাস কানেকশনের মতো দরিদ্র জনগণের মৌলিক অধিকারকে হাতিয়ার করে চলছে চরম অর্থ লুণ্ঠন ও হয়রানির খেলা। অভিযোগ উঠেছে, জয়ন্ত পাল দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছেন, এমনকি রেশন কার্ড দিতে দাবি করেছেন ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত! বড়জালেঙ্গার বাসিন্দা পম্পা দাস, যিনি সরকারের স্মার্ট পিডিএস পোর্টালে নামভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও এখনও রেশন কার্ড পাননি, জানিয়েছেন বিস্ময়কর তথ্য।

তার দাবি, জয়ন্ত পাল সরাসরি তার কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেছেন, না দিলে রেশন কার্ড পাবেন না বলে হুমকি দিয়েছেন। একই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন পূর্ণিমা পাশি, এক দরিদ্র দিনমজুর। অভিযোগ, তার রেশন কার্ড অবৈধভাবে ট্রান্সফার করে দেওয়া হয়েছে কাঞ্চন সবর ও বাচন সবরকে, বিনা অনুমতিতে।
জিরো টলারেন্স নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গরিবদের রেশন ও গ্যাস কানেকশন নিয়ে চলছে লুটপাট
সরবরাহ বিভাগের ইন্সপেক্টর মুখিধর দাস এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করে জয়ন্ত পালের বিরুদ্ধে ধোয়ারবন্দ থানায় লিখিত মামলা দায়ের করেছেন। তিনি জানান, জয়ন্ত পাল নিয়মিতভাবে জনগণকে হয়রানি করছে। কার্ড না দিতে টাকা দাবি করছে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট না দিলে ভয় দেখাচ্ছে, এ যেন সরকারি ব্যবস্থার নাম করে গরিবের ঘাম শুকিয়ে নেওয়ার এক ব্যবসা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়ন্ত পালের একার নয়, তার পিছনে রয়েছে একটি বৃহৎ কালোবাজারি সিন্ডিকেট, যারা রেশন ও গ্যাসের কালোবাজারি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে। সূত্রের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে জয়ন্তের সুসম্পর্ক এই অবৈধ ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। গ্যাস সংক্রান্ত অভিযোগও ভয়াবহ। ভবেন দাস নামের এক গ্রাহক জানান, জয়ন্ত পাল বলপূর্বক তার এলপিজি ব্লু-বুকটি ছিনিয়ে নিয়ে কালোবাজারে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। অর্থাৎ, সরকারি মূল্যে দেওয়া গ্যাসের সিলিন্ডার সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না, পাচ্ছেন সিন্ডিকেটের হাত ঘুরে, বাড়তি টাকায়।
কালোবাজারি সিন্ডিকেটের জালে সাধারণ মানুষ দিশেহারা
অভিযোগের ভিত্তিতে ধোয়ারবন্দ থানার ওসি দিগন্ত কলিতা জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকার কারণে জয়ন্ত পাল এবং তার সহযোগীরা এতদিন অবাধে রাজত্ব চালিয়ে গেছে। গ্রামের দরিদ্র মানুষ মুখ খুলতে ভয় পেতেন, কারণ অভিযোগ করলেই নাকি রেশন বন্ধ করে দেওয়া হতো।

সরকারের উদ্দেশ্য ছিল গরিবের ঘরে বিনামূল্যে চাল, সাশ্রয়ী গ্যাস ও সহজ প্রশাসনিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। অথচ মাঠের চিত্র একেবারে উল্টো, রেশন কার্ড, ট্রান্সফার, গ্যাস কানেকশন, সবই যেন ঘুষ, প্রভাব ও ভয় দেখানোর ব্যবসা। জনগণের প্রশ্ন, এই কি সেই জিরো টলারেন্স নীতি? ক্ষমতার ছত্রছায়ায় দুর্নীতিবাজদের এমন অপকর্মের শাস্তি কবে হবে?
জেলা সরবরাহ বিভাগের ইন্সপেক্টর মুখিধর দাসের এফআইআর ঘিরে প্রশাসনিক তোলপাড়
গরিবের ঘাম ঝরিয়ে দুর্নীতির রাজত্ব আর কতদিন চলবে? সরকার যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছে, তখন মাঠে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই নীতিকে বিদ্রুপে পরিণত করছে। আজ বড়জালেঙ্গার রেশন কার্ড দুর্নীতির কাণ্ড গোটা জেলার প্রশাসনকে নাড়িয়ে দিয়েছে। জনগণ একটাই দাবি তুলেছেন, দোষীদের গ্রেপ্তার করো, কালোবাজারি বন্ধ করো, গরিবের অধিকার ফিরিয়ে দাও!






