নারী নির্যাতন, মদ ও ড্রাগসের করাল গ্রাস থেকে সমাজ রক্ষায় ধোয়ারবন্দে মহিলা সম্মেলন, ১৫ সদস্যের নতুন কমিটি গঠিত

দিনের পর দিন নারীদের ওপর বাড়তে থাকা অত্যাচার এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া নেশার বিরুদ্ধে এই নারীকণ্ঠের হুংকার গোটা অঞ্চলে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সম্মেলনের মূল মঞ্চ থেকে বক্তারা বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তাঁরা বলেন, আজ আমাদের ঘরে-বাইরে নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা যেন দৈনন্দিন খবরে পরিণত হয়েছে, যা এক সভ্য সমাজের কাছে অত্যন্ত লজ্জাজনক। অপরাধীদের মনে আইনের ভয় না থাকায় এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ দিনদিন বেড়েই চলেছে।

পাশাপাশি, বর্তমান যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া মাদক ও মদের রমরমা কারবার নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এলাকার আনাচে-কানাচে যেভাবে নেশাদ্রব্যের অবাধ ছড়াছড়ি চলছে, তা রোধে অবিলম্বে পুলিশ ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন বক্তারা।

এছাড়া, বর্তমান আধুনিক গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে লাগামছাড়া অশ্লীলতা এবং নারীদের অবমাননাকর বিষয়বস্তু প্রচার করা হচ্ছে, তা তরুণ প্রজন্মের মানসিকতাকে বিষাক্ত করে তুলছে বলে তীব্র সমালোচনা করা হয়।

ধোয়ারবন্দের এই ঐতিহাসিক মহিলা সম্মেলন থেকে সমাজের নৈতিক মেরুদণ্ড চাঙ্গা করতে একগুচ্ছ জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত ও কঠোর বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

যুবসমাজকে বাঁচানোর স্বার্থে এলাকায় মদ এবং সমস্ত অবৈধ মাদকদ্রব্যের অবাধ কেনাবেচা ও প্রসার চিরতরে বন্ধ করতে হবে। অশ্লীলতা এবং নারী অবমাননাকর দৃশ্য বা বিষয়বস্তু প্রচারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সমাজসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়াতে হবে।

সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করতে এবং আগামী দিনের বৃহত্তর আন্দোলনকে সফল করতে এই সম্মেলন থেকেই সর্বসম্মতিক্রমে একটি নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের ধোয়ারবন্দ লোকাল কমিটি হিসেবে ১৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি আত্মপ্রকাশ করেছে।

নবগঠিত এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন মায়া বাকতি এবং সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন লিলি ঘাটোয়ার। এলাকার সচেতন নারীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে ধোয়ারবন্দ অঞ্চলে নারী অধিকার রক্ষা ও সমাজ সংস্কারের লড়াই আরও বেশি গতি পাবে।

সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, শুধুমাত্র সভা-সমিতির মধ্যে এই আন্দোলন সীমাবদ্ধ থাকবে না। নারী-নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মর্যাদা রক্ষা করা এবং একটি সুস্থ, অপরাধমুক্ত ও সুন্দর সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার স্বার্থে আগামী দিনে ধোয়ারবন্দ তথা সমগ্র অঞ্চলে আরও বৃহত্তর ও তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সমাজের সকল স্তরের মানুষকে দলমত নির্বিশেষে এই মহৎ লড়াইয়ে শামিল হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। ধোয়ারবন্দের এই নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রতিবাদী মুখরতা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ে এবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলার নারী সমাজ।

Related Posts

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও উজান অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শ্রীভূমি জেলা কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে সিপিআই(এম)-এর তীব্র বিক্ষোভ

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৭ আগষ্টঃ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, খাদ্যদ্রব্যের সীমাহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং উজান আসামের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, রেশনে বিনামূল্যে ছয় মাস খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ, এনরেগায় দুইশো…

বন্যাবিধ্বস্ত অসমের জন্য ৫ হাজার কোটির আবাসন সহায়তা কেন্দ্রের

বরাকবাণী ডিজিটাল ডেস্ক ২৭ আগষ্টঃ ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসমের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার আবাসন সহায়তা অনুমোদন করল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের বন্যাকবলিত…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *